টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

জাগরণের মহাসমাবেশ শুরু হলো শাহবাগ চত্বরে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
  • ১৬২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

লাখো জনতার শাহবাগ চত্বরে শুরু হয়েছে মহাসমাবেশ। সমবেত জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে বিকেল তিনটার আগেই শুরু হয় মহাসমাবেশ। এর পরই মুক্তিযুদ্ধে প্রচারিত বিখ্যাত চরমপত্রের হুশিয়ারি দেওয়া হয় মহাসমাবেশ থেকে। এ সময় চারদিকে গগনবিদারী স্লোগান ওঠে যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি চাই।

এর আগে সকাল থেকেই ক্রমাগত পদভারে ভারি হতে থাকে শাহবাগ চত্বর। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রায় শুনে রাজাকার কাদের মোল্লা যখন মধ্যমা আর তর্জনির ফাঁকে বিজয় চিহ্ন দেখালেন, তখনই প্রতিক্রিয়াশীলের এ দু:সাহস ক্রমাগত স্পর্ধিত করে চলেছে তরুণ সমাজকে। রায় প্রত্যাখ্যান করে ফাঁসির দাবিতে শাহবাগ চত্বরে যে বিক্ষোভের ঘোষণা আসে, অভূতপূর্ব সাড়া মিলছে তাতে। একদিন যারা নিজেদের বিবেচনা করতেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে, বুক জুড়ে তাদের আজ কাঁপন এসেছে যেন।

আজকের মহাসমাবেশ থেকে মূল দাবিগুলো সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে। সেই সঙ্গে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তবে কোন ক্রমেই শাহবাগ চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। সকাল থেকেই কানায় কানায় পূর্ণ হতে থাকে চত্বর। কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে এখানে রাখা হয়নি। মূলত তরুণ সমাজই নিজেদের মত করে নিয়ন্ত্রণ করছে সব কর্মসূচি।

শাহবাগের গণজমায়েতকে সামনে রেখে দেশের বিশিষ্টজনরাও সংহতি প্রকাশ করছেন। সংহতি প্রকাশ করেছেন নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা। বিক্ষোভকারীদের অবস্থান ও বিক্ষোভ আজ চতুর্থ দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। সেখানে জনসমাগম বেড়ে চলেছে এখনও।

দেশের তরুণ সমাজের এমন জাগরণ দেখে বিশিষ্টজনরা মনে করছেন, স্বাধীনতার ৪০ বছরে যে সংঘ গড়েছে প্রতিক্রিয়াশীলরা, নানা ছল চাতুরিতে আশ্রয় খুঁজেছে অন্যের শক্তিতে- সেসব কিছুই আজ মিথ্যা হতে চলেছে গণমানুষের শক্তির কাছে। অনেক সুযোগ অন্বেষীরা এ জাগরণের ফলের ভাগ নিতে এসেছে। কিন্তু সব কিছুকে নাকচ করে দিয়েছে অরাজনৈতিক মঞ্চের কর্মীরা।

কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবি নিয়ে জমায়েত শুরু হলেও এখন তা সব যুদ্ধাপরাধীর ক্ষেত্রে একই দাবিতে এসে ঠেকেছে। ফলে বেড়েছে যুদ্ধাপরাধীর প্রতি ক্ষোভ আর তীব্র ঘৃণার মাত্রাও। সেই সাথে প্রতিবাদের ভাষাও। পুরো মহাসমাবেশ জুড়ে তাদের বুকে বুকে শোভা পাচ্ছে রাজাকার বিরোধী ব্যানার আর ফেস্টুন। পাশাপাশি ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিও। এই দাবিকে সামনে রেখে ঢাকার সমস্ত পথের ঠিকানা এখন শাহবাগ। যারা রয়েছেন এর সামনে, নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন তারা। গতকাল গভীর রাতেও দেখা যায় পাথর কঠিন অটল তারা।

আন্দোলনকারীদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন পেটে দানাপানি পড়েনি যাদের। তবু পেটের ক্ষুধার চেয়ে আরেক চলমান ক্ষুধা তীব্র হয়েছে তাদের। তা হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীর বিচার। রাজপথে নানা আলপনা। যুদ্ধাপরাধীদের ব্যঙ্গচিত্র। এ সবই এখন দাবি পুরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে থাকারই নামান্তর।

এই চিত্র শুধু শাহবাগের নয়। গত ৪ দিন ধরে শাহবাগ চত্বরে চলমান ঢেউয়ের তোড় এসে লাগছে দেশের অন্যান্য স্থানেও। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে তা সারাদেশে। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা থেকেও আসছে গণজমায়েতের খবর। বরিশালে মোমবাতি জ্বালিয়ে গতরাত ১২টা পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে গেছে তরুণরা। মাদারীপুর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ সর্বত্র একই অবস্থা। রাজশাহীতে গতকাল ১১টা থেকে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আজ সন্ধ্যায় নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে সেখানেও।image_1147_323017

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT