টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

জলদস্যুদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিককে হত্যার হুমকি

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৩
  • ১৩৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

বার্তা পরিবেশক-১৯ … ১৮ এপ্রিল দৈনিক র্পূবকোণ,দৈনিক ইনানী ও জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকা কক্সবাজার নিউজ ডট কমে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় কুতুবদিয়া আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের ফতেহ আলী শিকদার পাড়া গ্রামের  পেটান আলী সিকদারের পুত্র পিলখানার বিডিআর বিদ্রোহের পলাতক আসামি জলদস্যু ওসমান গণি গত ১৯ এপ্রিল দুপুর ১ টা ৩৫ মিনিটে তার ব্যবহিৃত মোবাইল যাহার নং (০১৮১১১৭৪৭০২) থেকে ফোন করে দৈনিক জনকণ্ঠ,র্পূবকোণ,ইনানী ও অনলাইন পত্রিকা কক্সবাজার নিউজ ডট কমের মহেশখালী প্রতিনিধি সাংবাদিক আবদুর রাজ্জাককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ,মিথ্যা মামলায় জড়ানোসহ হত্যা ও গুম করে ফেলার হুমকি দেয়। ফলে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এব্যাপারে শুক্রবার বিকালে মহেশখালী থানায় সাধারণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য,এর আগে উক্ত জলদস্যু ওসমান গণি’র বিরুদ্ধে সাগরে জলদস্যুতা করার একাধিক সংবাদ বিভিন্ন জাতীয়,আঞ্চলিক ও স্থানীয় পত্রিকাসহ দেশের বিভিন্ন অনলাইনে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

কে এই জলদস্যু ওসমান গণিঃ-

কক্সবাজার জেলার উপকুলীয় দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল,ফতেহ আলী সিকদার পাড়া এলাকার  মৃত মো: পেঠান সিকদারের পুত্র এই ওসমান গনি। পারিবারিক ভাবে মোটামোটি স্বচ্ছল। সে প্রথমে কুতুবদিয়া এলাকার একটি মেয়েকে বিয়ে করে। সে ঘরে দুটি সন্তান রয়েছে। প্রথম বউকে ফেলে পরবর্তিতে সে কুতুবদিয়া থেকে পালিয়ে এসে মহেশখালীর হোয়ানক ধলঘাট পাড়ার হাজী হেলাল উদ্দিন বাদশার মেয়েকে বিবাহ করে। সেই ঘরে দু’ই ছেলে ও ৪ মেয়ে সন্তান রয়েছে। পরে সে এস.এস.সি. পাশ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে চাকরী করেন। চাকুরী করা কালিন সময়ে সম্প্রতি পিলখানার বিডিআর বিদ্রোহের হত্যাযজ্ঞের পর সে ওখান থেকে পালিয়ে সুদুর মহেশখালীর হোয়ানকে তার শশুর বাড়িতে চলে আসে। অনেকদিন আতœগোপন থাকার পর পরে সে তার শশুর বাড়ির এক আতœীয়ের মাধ্যমে সুদুর দুবাইয়ের শারজায় পাড়ি জমান। ওখানে কিছুদিন থাকার পর দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসলে সে আবার বাংলাদেশে চলে আসেন। বালাদেশে এসে সে টাকার নেশায় মগ্ন হয়ে কুতুবদিয়া জলদস্যু স¤্রাট রমিজ বাহিনীতে যোগ দেয়। পরবর্তিতে সে রমিজের সাথে দস্যুতার ভাগাভাগির ব্যাপারে বানবনা না হওয়ায় সে নিজ প্রচেষ্টায়  কুতুবদিয়া ও বাশখালী এলাকার ফেরারী ও দাগী আসামীদের নিয়ে গড়ে তুলে তার নিজস্ব জলদস্যু বাহিনী। এই বাহিনী সাগরে জলদস্যুতাসহ বিভিন্ন অপরাধ মুলক কর্মকান্ডে জড়িত। পরবর্তিতে রমিজ বাহিনীর প্রধান রমিজ পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর  সে গ্রেফতার এড়াতে পুলিশের চোখকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য তার বাহিনী নিয়ে শশুর বাড়ি মহেশখালীর হোয়ানকে চলে আসে এনাম বাহিনীসহ বিভিন্ন জলদস্যুদের সাথে হাত মিলিয়ে গভীর সাগরে ডাকাতি, লুটপাট ও জেলে হত্যায় সহযোগিতা করে বাশঁখালীর দস্যুরানী রহিমা খাতুনকে। রহিমা খাতুনের নেতৃত্বে জলদস্যুদের এই সিন্ডিকেটই ২৬ মার্চ বঙ্গোপসাগরের ৬০ কিলোমিটার গভীরে ৩২ জন জেলেকে হত্যা করে হাত-পা বেঁধে সাগরে ফেলে দেয়। এরপর আল্লার দান-১ ও ২ এবং মোক্তার ফিশিং নামের ট্রলার তিনটি থেকে জলদস্যুরা দুইদিনের মাছ ও জাল লুট করে নিয়ে আসে মহেশখালীর উপকূলে। বিশ্বস্থ সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এনাম বাহিনীর প্রধান এনামের তার এক সময়ের দেহরক্ষী ওসমান গনির নেতৃত্বে মহেশখালীর কয়েকটি ঘাটে সেই মাছ খালাস করা হয় ছোট নৌকায়। ২৬ মার্চ এক নৌকা ইলিশ বিক্রি করেন হোয়ানক ইউনিয়নের টাইম বাজার এলাকায়। আর ডাকাত লালাইয়া লুট করা মাছ বিক্রি করেন কালাগাজীর পাড়া বাজারে। মহেশখালীর জালাল বাহিনীর প্রধান জালালের ছত্রছায়ায় তার ‘ভাইস্তা লালাইয়া’ রহিমার বাহিনীকে সহায়তা করতে মাছ নিয়ে আসেন এখানে। অন্যদিকে এনাম বাহিনীর প্রধান এনামের ডান হাত হিসেবে খ্যাত জলদস্যু মিন্টু মাছ বিক্রি করেন কেরণতলি বাজারে। এরপর ছোট নৌকায় সব মাছ চলে যায় কক্সবাজারের মাছের আড়তে। আর এই লুণ্ঠিত মাছ এবং মালামাল রক্ষাণাবেক্ষণ ও নিরাপদে বিক্রি করতে মহেশখালী ও কক্সবাজার শহরে স্থানীয় জনপ্রনিধিদের সম্বনয়ে একাধিক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকদিন আগে লুন্ঠিত এই মাছ ভাগা-ভাগি নিয়ে শহরের ফিশারী ঘাটস্থ মৎস্য আরতে দু’পক্ষের মাঝে রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় একজন পৌর কাউন্সিলর আহত হয়েছে।

অপরদিকে গত ৯ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুরে মহেশখালী থানা পুলিশ জলদস্যুদের আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত উপজেলার ক্রাইমজোন হিসেবে খ্যাত কালারমারছড়ার জনৈক ডোনাইয়্যার মালিকানাধীন উত্তর ঝাপুয়ার ফাঁড়া ঘোনা ও ধইগ্যার খাল ঘোনা এলাকা থেকে লুণ্ঠিত ৫ পিচ জাল পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এদিকে

বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া পয়েন্টে সম্প্রতি জলদস্যু  কর্তৃক জেলে হত্যার ঘটনায় আক্রান্ত ২টি ফিশিং ট্রলার মহেশখালীর জলদস্যুরা দ্বীপের সোনাদিয়ায় এবং হোয়ানকের জামিরী খালে নিয়ে এসে মিশিন,জাল ও মাছ বিক্রি করে ট্রলার গুলো বিক্রির জন্য পানিতে ডুবিয়ে রেখে পরবর্তিতে বিক্রি করে দেয় ।

সূত্র জানায়,রহিমা খাতুনের সিন্ডিকেট মেম্বার ও কুতুবদিয়ার ওসমান বাহিনীর প্রধান ওসমান গনি বিয়ে করেছেন মহেশখালীর হেলাল উদ্দীন বাদশার মেয়েকে। বর্তমানে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আত্মগোপন করেছেন। এ ব্যাপারে ফিশিং ট্রলার মালিক ও মাঝি মাল্লারা ওসমান বাহিনীর প্রধান ওসমানকে গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনের নিকট আকুল আবেদন জানান।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT