টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

জঙ্গিরা জড়িয়ে পড়ছে সোনা চোরাচালানে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
  • ৬৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
টেকনাফ নিউজ ডেস্ক **

সোনার বার চোরাচালানে নিউ জেএমবির (নতুন ধারার) একটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। দুবাই থেকে চক্রটি ঢাকায় বিভিন্ন কৌশলে সোনার বার আনছে। আর এ খাতে নিউ জেএমবিকে অর্থ দিচ্ছে হরকাতুল জিহাদের (হুজি) সাবেক আমীর শফিকুল ইসলাম। হুজির এ নেতা বর্তমানে দুবাইতে অবস্থান করছে। সে নতুন ধারার জেএমবির একটি অংশকে সহায়তা দিয়ে আসছে। এ গ্রুপের ১১ জঙ্গিকে চিহ্নিত করেছে র‌্যাব- যাদের সবাই সোনার বার এনে ঢাকায় বিক্রি করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সম্প্রতি র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয় নতুন ধারার জেএমবি সদস্য জিয়াবুল হক। ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা থানা এলাকায় তার বাড়ি। নতুন ধারার জেএমবিতে সে আবদুর রহমান নামে পরিচিত। এই পরিচয়ে সে দুবাই যাতায়াত করে। চলতি বছরের মার্চ মাসে দু’দফা, এপ্রিলে দুই-তিন দফা ও মে মাসে এক দফায় দুবাই সফর করে। এ সময় সে বেশ কিছু সোনার বার নিয়ে আসে। প্রতিবারই আবদুর রহমান চার থেকে ১০ পিস পর্যন্ত সোনার বার আনে। পরে তা রাজধানীর তাঁতীবাজারের সোনার দোকানে বিক্রি করে। আরেক চোরাচালানির নাম মোস্তাফিজুর রহমান শিফাত। তার গ্রামের বাড়ি খুলনার খালিশপুরের গোয়ালপাড়া পাওয়ার হাউসে। তার বাবার নাম মোশাররফ হোসেন। শিফাত দুবাইতে অ্যাপসের মাধ্যমে হুজি নেতা শফিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। শফিক তাকে অ্যাপসের মাধ্যমে জানায়, দুবাই থেকে সরাসরি টাকা পাঠানোর চেয়ে সোনার বার নিয়ে যাওয়াই ভালো। শফিকের কথা অনুযায়ী, শিফাত আবদুর রহমানের মতোই এপ্রিলের শুরুতে দুবাই যায়। এ সময় শফিক তাকে জঙ্গিসংক্রান্ত নানা দীক্ষাও দেয়।
এক পর্যায়ে শিফাত দুবাই থেকে ২০টি সোনার বার আনে। পরে আরেক জঙ্গি নয়ন হোসেনের মাধ্যমে এসব বার তাঁতীবাজারে কামাল নামে একজনের কাছে পাঠায়। সোনার বার বিক্রির টাকা হাতে পেয়ে শিফাত দুবাইতে ফোন করে শফিককে। পরে শফিক তাকে জানায়, পুরো টাকা যেন জঙ্গি কার্যক্রমে ব্যয় করা হয়। আবদুর রহমানের মতো শিফাতও মে-জুন মাসে আরও তিন দফা দুবাই সফর করে। প্রতিবারই সে ১০ থেকে ২০টি সোনার বার আনে।
এ চক্রের অপর একজনের নাম নয়ন হোসেন। বাবা মোতাহার আলী। গ্রামের বাড়ি পাবনা জেলার সুজানগর থানার টেবিলা এলাকায়। আবদুর রহমান ও শিফাতের মতো নয়ন হোসেনও এপ্রিল মাসে পর পর দুইবার দুবাই সফর করে। একবার সে তার মেয়ে বন্ধু মুন্নীকেও সঙ্গে নিয়ে যায়। মুন্নী নতুন ধারার জেএমবির নারী সদস্য। সে দুবাইতে গিয়ে শফিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে। শফিক তাকে দুবাই থেকে সোনার বার কিনে দেয়। মুন্নী তার অন্তর্বাসে করে ১০টি সোনার বার ঢাকায় আনে। বিনিময়ে মুন্নীকে নয়ন প্রায় এক ভরি ওজনের একটি সোনার চেইন উপহার দেয়। পরে মে, জুন ও জুলাই মাসে নয়ন আরও তিন দফায় বিদেশে গিয়ে সোনার বার আনে। সে তালিম নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁতীবাজারে সোনার বারগুলো বিক্রি করে। জানা গেছে, আবদুর রহমান, শিফাত ও নয়নের তথ্য অনুযায়ী নতুন ধারার জেএমবির অনেক সদস্যই দুবাই থেকে টাকা আনছে। দুবাইতে হুজি নেতা শফিকের সঙ্গে জেএমবির পলাতক আরও দুই নেতা আছে। যাদের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য তাদের জানা নেই। বর্তমানে শফিক হরকাতুল জিহাদের কারাবন্দি নেতাদের পরিবারগুলোকে অর্থ দিচ্ছে। সে ঢাকায় নিজস্ব লোকের মাধ্যমে এসব পরিবারকে অর্থ সহায়তা করে যাচ্ছে। উল্লিখিত তিন জঙ্গির দেয়া তথ্য অনুযায়ী জঙ্গিদের সোনার বার ব্যবসার নেপথ্যে মাসুদ নামে আরও একজন রয়েছে। এ জঙ্গি এক বছর আগে কারামুক্ত হয়। সে আগে জাল টাকা ও ডলারের ব্যবসা করত। পরে সেও সোনার বারের ব্যবসায় জড়িয়ে যায়। একইভাবে নীরব, আবরার, ওসামা, আরিফুল, তাজুল, মিল্টন, জয়নাল, তারা মিয়া ও খোকনসহ ১১ জন জঙ্গি সোনার বার চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। এদের কেউ কেউ এখন সিঙ্গাপুর হয়ে সোনার বার আনে। দায়িত্বশীল একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, জঙ্গিদের একটি গ্র“প বিদেশ থেকে অর্থ আনার কৌশল হিসেবে সোনার বার আনছে। বিশেষ করে বার এনে বিক্রি করলে মোটা দাগের বাণিজ্যও হয়। পরে তারা এ অর্থ উগ্রপন্থী কার্যক্রমে ব্যয় করে থাকে। তিনি বলেন, নতুন ধারার জেএমবির মতোই হরকাতুল জিহাদের দুই সদস্যকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা গেছে। তারাও সোনার বার চোরাচালানে জড়িত। র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ যুগান্তরকে বলেন, জঙ্গিদের একটি গ্রুপ সোনার বার চোরাকারবারি প্রক্রিয়ায় অর্থ সংগ্রহ করছে। এতে বড় সুবিধা হল, কখনও কোনো জঙ্গি আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়লে সে জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত হবে না। মামলা দায়েরসহ কারাগারে পাঠানো হবে চোরাকারবারি হিসেবে। তিনি বলেন, গ্রেফতার জঙ্গিদের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT