টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

ছাত্রীর ইজ্জতের মূল্য ৬০ হাজার টাকা, তাও বকেয়া!

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৫ জুলাই, ২০১৩
  • ১৪৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ssটেকনাফ নিউজ ডেস্ক:: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় চরবংশী এসএম আজিজীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী স্কুলের আসার পথে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় থানা পুলিশ করতে না দিয়ে ইউপি সদস্যের চাপের মুখে বড়কান্দির বড় বাড়িতে বুধবার রাতে গ্রাম্য শালিস বসে। শালিসে একই ইউনিয়নের তিন ইউপি সদস্য রোকন দেওয়ান, বাচ্চু আসামী ও প্যানেল চেয়ারম্যান সলেমান মোল্লা রায় দেন।এতে দুই ধর্ষক চরইন্দুরিয়া গ্রামের গণি মিয়ার ছেলে আবুল কাসেম (২৮) ও চরবংশী গ্রামের মোহাম্মদ আলী দেওয়ানের ছেলে আলী আহাম্মদের (৩০) অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের দুজনকে নগদ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আর সবার উপস্থিতিতে ৪’শ জুতাপেটা করা হয়।শালিস বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন- ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মফিজ খান, আওয়ামী লীগ নেতা জামিল আহাম্মেদ খানসহ গণ্যমান্যরা।উপজেলার চরবংশী এসএম আজিজীয়ার প্রধান শিক্ষক মোচলেহ উদ্দিন মাস্টার জানান, ‘আমার বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী গত মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে আসার পথে চরইন্দুরিয়া গ্রামের গণি মিয়ার ছেলে আবুল কাসেম ও চরবংশী গ্রামের মোহাম্মদ আলী দেওয়ানের ছেলে আলী আহাম্মদ তার পথগতিরোধ করে এই অপকর্ম করে।’নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর এক আত্মীয় অভিযোগ করেন, ‘গত মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে আসার পথে এই ছাত্রী দুই লম্পটের লালসার শিকার হয়। পরে বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হয়।’

তিনি বলেন, ঘটনার দিনই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পরামর্শে তিনি রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ নিয়ে রওনা হন। পথে তাকে উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রোকন উদ্দিন দেওয়ান, বাচ্চু আসামী ও প্যানেল চেয়ারম্যান সলেমান মোল্লা বিষয়টি ঘরোয়া মীমাংসার আশ্বাস দেন।

পরে শালিস বৈঠকে ৬০ হাজার টাকা ও ধর্ষকদের ৪শ’ জুতাপেটা করা হয়। ধর্ষণের ঘটনায় সঠিক বিচার পাননি বলে দাবি করেন এই আত্মীয়।

তিনি আরো বলেন, ‘সবারর সামনে তারা দোষ স্বীকার করে। তারপরও ইউপি মেম্বার সলেমান মোল্লা, বাচ্চু আসামী ও রোকন দেওয়ান এই অন্যায় রায় দেন। লোকজনের উপস্থিতিতে জুতাপেটা দেয়া হলেও ৬০ হাজার টাকার ৬০ পয়সাও এখনো তাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি।’

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য সলেমান মোল্লা বলেন, ‘নারী নির্যাতনের শালিস কোনো ইউপি সদস্য করতে পারে না। এটা আইনের মাধ্যমেই সমাধান করতে হয়। আমি তাদের অনুরোধে শালিসে উপস্থিত হয়েছি এবং তাদের ঘটনা শুনেছি।’ রায় তিনি দেননি বলে দাবি করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র সূত্রধর বলেন, ‘ঘটনাটি আমি মৌখিকভাবে শুনেছি। ইউপি সদস্য কর্তৃক যে শালিসী ব্যবস্থা হয়েছে তা বৈধ নয়। এটা ভ্রাম্যমান আদালত ও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং মামলার যোগ্য বিষয়। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন এখনো যদি বিচার দাবি করেন এর বিচার তারা পাবেন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT