টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

ছাত্রলীগের হামলায় ছত্রভঙ্গ বিসিএস পরীক্ষার্থীরা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই, ২০১৩
  • ১৪১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

teknaf (dhakaটেকনাফ নিউজ ডেস্ক::: ছাত্রলীগের হামলায় ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছেন সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে আন্দোলনরত বিসিএস পরীক্ষার্থীরা। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষেও টিকতে পারেননি তারা। অনেকে চলেও গেছেন। তবে এখনও বিচ্ছিন্নভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নজরুলের সমাধি এলাকায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হন আন্দোলনরতরা। ফলে ছত্রভঙ্গ হয়ে ছড়িয়ে-ছিটেয়ে পড়েন তারা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীও এ হামলা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে টিকতে না পেরে সরে গেছেন। বিচ্ছিন্নভাবে মিছিল-স্লোগানে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ না থেমে গেলেও পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুলিশ পাবলিক লাইব্রেরির গেট আটকে রাখায় ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বেশ কিছু পরীক্ষার্থী। তারা ভেতর থেকে আন্দোলনের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছেন। শাহবাগ থানা ও ছবির হাটের সামনে থেকে শাহবাগ চত্বরে যাওয়ার রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে আটকে রেখেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। শাহবাগে ঢোকার অন্য ৩টি পয়েন্ট বারডেম হাসপাতাল, রমনামুখী সড়ক ও শাহবাগ-কাঁটাবন সড়কও কর্ডন করে কাউকে যেতে দিচ্ছে না পুলিশ।     এর আগে আন্দোলনরত বিসিএস পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ, হাতাহাতি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপের ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো শাহবাগ চত্বর। সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ আহত হন কয়েকজন। বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা ভাংচুর করেন এটিএন বাংলার গাড়ি। বৃহস্পতিবার বেলা এগারোটার দিকে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসাবে শাহবাগের ‘মেধাচত্বরে’ আসতে চাইলে পুলিশ আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ছাত্র-ছাত্রীদের ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক লাঠিচার্জ করছে ও টিয়ারশেল ছুড়ছে পুলিশ। পুলিশ বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে আটক করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়।

টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জের মাধ্যমে মেধাচত্বর থেকে পরীক্ষার্থীদের সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। লাঠিচার্জের মুখে পরীক্ষার্থীরা বিচ্ছিন্নভাবে দৌঁড়ে পালালেও তারা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে।

পরীক্ষার্থীদের একাংশ ধাওয়া খেয়ে চারুকলা ও ছবির হাটের সামনে টায়ার পুড়িয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও স্লোগান দিতে দিতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পুলিশ টিয়ারসেল ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা এটিএন বাংলার গাড়ি ভাঙচুর করেন। এ সময় এটিএন বাংলার ক্যামেরাপারসন কামাল হোসেন এবং ড্রাইভার মোঃ নয়ন খান গুরুতর আহত হন। তাদের বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম  জানান, চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ও সদ্য  প্রকাশিত ৩৪তম বিসিএস’র ফল বাতিলের পূর্বঘোষিত আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে পরীক্ষার্থীদের বেলা ১১টা থেকে শাহবাগ জড়ো হওয়ার কথা ছিল। ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা পাবলিক লাইব্রেরির সামনে শাহবাগের মেধা চত্বরে জড়ো হতে শুরু করলে পুলিশ বিনা উস্কানিতে লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল ছোঁড়ে।

বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা বলেন, সরকার দিনের পর দিন গণজাগরণ চত্বরে আন্দোলন করতে দিলেও আমাদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনে বাধা প্রয়োগ করছে। তারা বলেন, ইতিমধ্যেই আন্দোলনের বিষয়টি টুইটার ও ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটলে তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।

চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ও সদ্য  প্রকাশিত ৩৪তম বিসিএস’র ফল বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামে বঞ্চিত বিসিএস পরীক্ষার্থীরা। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কয়েক শ’ বিসিএস পরীক্ষার্থী শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। পরে আরও অনেক শিক্ষার্থী এসে অবরোধে যোগ দেন।

এদিকে বিসিএস পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ৩৪তম বিসিএস (প্রিলিমিনারি) পরীক্ষার ফল পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দেয় পিএসসি। কিন্তু আন্দোলনকারীরা অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে দাবি করেছেন, যতোক্ষণ না পর্যন্ত বিতর্কিত কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হবে ততোক্ষণ পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

উল্লেখ্য, সাধারণ ক্যাডারের ৪৪২টি পদসহ মোট দুই হাজার ৫২টি পদে নিয়োগ দিতে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ৩৪তম বিসিএস’র বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। দুই লাখ ২১ হাজার ৫৭৫ জন প্রার্থী এ পরীক্ষার জন্য অনলাইনে আবেদন করেন। গত ২৪ মে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এক লাখ ৯৫ হাজার পরীক্ষার্থী এতে অংশ নেন। গত সোমবার এ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। উত্তীর্ণ হন মোট ১২ হাজার ৩৩ জন।

এতো দিন প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পর চূড়ান্ত পর্যায়ে কোটা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হতো। কিন্তু ৩৪তম বিসিএস’র প্রিলিমিনারি পর্যায় থেকেই কোটা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে মেধাবীদের একটা বড় অংশ শুরুতেই সরকারি চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানান আন্দোলনকারীরা।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT