টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

চোর ধরতে গিয়ে নিজেরাই চোর হয়ে যাচ্ছি…শেখ হাসিনা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২১ জুন, ২০১৩
  • ১৭২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণ যদি ভোট দিয়ে দুর্নীতিবাজ, লুটেরা, জঙ্গিবাদীদের ক্ষমতায় আনে তবে এর ফল জনগণই ভোগ করবে। তিনি বলেন, ‘জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নাই। নির্বাচনে জয়ী হলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কাজ করে যাব।’

গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবনে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

বিএনপির শাসনামলের দুর্নীতি সম্পর্কে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমাদের বিরোধীদলীয় নেত্রীর স্বনামধন্য ছেলেদের পাচার করা টাকা- এসব বিষয়গুলো যখন আমরা খুঁজে বের করছি, এগুলো দূর করার চেষ্টা করছি, তখন আমাদের অবস্থা হয়ে গেছে যেন চোর ধরতে গিয়ে নিজেরাই চোর হয়ে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, হলমার্ক, ডেসটিনির মতো কেলেঙ্কারির শুরু তো বিএনপির আমলে। ভাঙা সুটকেস থেকে যাত্রা শুরু করে এখন কোটি কোটি টাকার মালিক বিএনপি নেত্রীর দুই ছেলে।

এবার তত্ত্বাবধায়ক এলে নির্বাচনই দেবে না : প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবার যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসে, তা হলে তারা নির্বাচনই দেবে না। আর এক জ্ঞানীগুণী, যিনি এক সময় আমাদেরই ছিলেন, ঘর ভেঙে চলে গেছেন, তিনি এলান দিয়ে দেবেন কেয়ামত পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় থাকবে।’

নামাজ পড়ি, আমরা হয়ে যাই নাস্তিক : ধর্মীয় বিষয় নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের অপপ্রচারের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইদানীং আবার একটা শুরু করেছে আস্তিক আর নাস্তিক। আমরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি, ফজরের নামাজ পড়ে, কোরআন তেলাওয়াত করে আমরা দিন শুরু করি, আর আমরা হয়ে যাই নাস্তিক। আর যিনি বোতল খেয়ে ঘুমিয়ে ঘুম থেকেই ওঠেন দুপুর ১২টার পর তারা হলো আস্তিক। আর যাব কোথায়, এর থেকে বেশি আর কিছু আমি বলতে চাই না। আমি বাংলাদেশের মেয়ে, দেশেই জন্ম। আমার সম্পর্কে আপনারা জানেন। আর একজন ভারতের একটি চা বাগানে জন্ম, তার সম্পর্কে আর বলতে চাই না।’ তিনি আরো বলেন, ‘ওই বাড়ি বদলের সময় আপনারা তো বোতল দেখেছেন। যারা বোতল নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করে, তারা হলো আস্তিক সরকার, আর আমরা হলাম নাস্তিক- এটাই দুর্ভাগ্য।’

তত্ত্বাবধায়কের যৌক্তিকতা নেই : প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের সময় নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রতিটি নির্বাচন প্রমাণ করে জাতীয় নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়কের যৌক্তিকতা নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা তত্ত্বাবধায়ক চেয়েছিলাম, এটা ঠিক। কেন চেয়ছিলাম? কারণ বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে যে কয়টা নির্বাচন করেছিল প্রত্যেকটিতে কারচুপি ও সন্ত্রাস হয়েছে। তারা যদি ভোট কারচুপি না করত, মাগুরা-মার্কা ইলেকশন না করত, ১৫ ফেরুয়ারির মতো ইলেকশন না করত তা হলে তো আর তত্ত্বাবধায়কের দাবি করা প্রয়োজন ছিল না। আমাদের তত্ত্বাবধায়ক চাওয়ার পেছনে যুক্তি ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ আসার পর যে কয়টা নির্বাচন আমরা করেছি, একটা নির্বাচন নিয়েও তো তারা কোনো প্রশ্ন তুলত পারেনি। কিন্তু বিএনপি আমলে নির্বাচন মানে ভোট চুরি। তারা ভোটও চুরি করে, জনগণের টাকাও চুরি করে।’

কারচুপি করে ক্ষমতায় থাকতে চাই না : শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। দেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আগামীতে দেশ শান্তিতে থাকবে, না সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য হবে। জঙ্গিবাদ, গ্রেনেড হামলা, সিরিজ বোমা হামলা হবে, না উন্নয়ন হবে। দেশের জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নাই। ভোট কারচুপি করে ক্ষমতায় থাকতে চাই না। আমরা জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী, ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।’

মূল বিষয় যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা : বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের অন্তর্জ্বালা আমি জানি। তত্ত্বাবধায়ক-টত্ত্বাবধায়ক আন্দোলনের মূল বিষয় নয়, মূল বিষয় হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করা। আওয়ামী লীগকে কোনোভাবে ক্ষমতা থেকে বিদায় করতে পারলেই যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দিতে পারবেন। জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধীর প্রথম পুনর্বাসন করেছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসিয়েছে। তার স্ত্রীও ধারাবাহিকতা রক্ষা করে রাজাকারদের গাড়িতে শহীদের রক্তে ভেজা পতাকা তুলে দিয়ে জাতিকে কলঙ্কিত করেছে।’ তিনি বলেন, ‘যতই ষড়যন্ত্র করুন, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে পারবেন না। বাংলার মাটিকে কলুষমুক্ত করা হবে।’

দলীয় সভাপতির স্বাগত ভাষণের পর পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আউয়াল এমপি সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন। এরপর বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আকরাম হোসেন অ্যাডভোকেট, স্বরূপকাটি উপজেলা সভাপতি আবদুল হামিদসহ দলের তৃণমূল নেতারা।

দলের উপদপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাসের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সতিশ চন্দ রায়, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, ড. আলাউদ্দিন আহমেদ, মাহবুব উল আলম হানিফ প্রমুখ।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT