টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
করোনার উপসর্গ দেখা দিলে ‘আইসোলেশনে’ থাকবেন যেভাবে ১২-১৩ এপ্রিল দূরপাল্লার বাস চলবে না : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বিকাল ৫.০০ টার পর একাধিক দোকান ও শপিংমল খোলা রাখায় জরিমানা চেয়ারম্যান -মেম্বারদের চলতি মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ছে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় ৬৪ জেলার দায়িত্বে ৬৪ সচিব মেয়ের বিয়ের যৌতুকের টাকা জোগাড় করতে না পেরে বাবার আত্মহত্যা মিয়ানমারে গুলিতে আরও ১০ জন নিহত যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ স্বীকৃতি পাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অপহরণ করে মুক্তিপণ, র‌্যাবের ৪ সদস্য পুলিশের হাতে গ্রেফতার ১৪ এপ্রিল থেকে সারা দেশে সর্বাত্মক লকডাউন

চট্টগ্রামে আল্লামা শফীর গাড়িবহরে হামলা, আহত ২০

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৩
  • ১৭৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

36_imageস্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে: চট্টগ্রামে হেফাজত ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর গাড়ির বহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। গত রাতে মহাসমাবেশ থেকে ফেরার পথে হাটহাজারীর বাসস্ট্যান্ডের কাছে তার গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন হেফাজত বিরোধী আলেমরা। এ অবস্থায় হাটহাজারী  মাদরাসায় না গিয়ে অন্যত্র ফিরে যান আহমদ শফী। বর্তমানে সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৭টায় চট্টগ্রাম জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ থেকে মহাসমাবেশের কর্মসূচি শেষ করে হাটহাজারী মাদরাসায় যাচ্ছিলেন হেফাজত আমীর আল্লামা আহমদ শফী। পথে শেরে বাংলা শাহ মাজারের কাছে তার গাড়ির বহর আসতেই গতিরোধ করেন উদিদিয়া ও আহলে সুন্নাত সংগঠনের আলেমরা।
তারা এই সময় হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়লে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এতে কমপক্ষে ২০ জনের আহত হওয়ার বিষয়টি দাবি করেছেন হেফাজত নেতারা।
বলেছেন, সংর্ঘষে ৮৫ বছরের আলেম গোলাম কাদের মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। তাকে হাটহাজারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া অনেকের মাথা ফেটে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে হেফাজত আমীর আল্লামা আহমদ শফী গাড়ি ঘুরিয়ে স্থানীয় ফতেপুর মাদরাসায় আশ্রয় নেন।
উত্তেজিত দু’পক্ষই অন্তত ৭টি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। আতঙ্কে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি সড়কের সব যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। লোকজনের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। হাটহাজারীর সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় এমপি ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও হাটহাজারীর ইউএনও ইশরাত পান্না ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক বলেন, ‘ঘটনা সত্যি। আহলে সুন্নতের লোকজন এই ঘটনা ঘটিয়েছে। হুজুর সাহেবের গাড়ির বহরে হামলা করা হয়েছে। হামলাকারীরা লাঠিসোটা নিয়ে আগে থেকে ওৎ পেতে ছিলেন।’
রাত ৯টায় হাটহাজারী থানার ওসি লিয়াকত আলীকে সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘দু’পক্ষকেই আমরা শান্ত করার চেষ্টা করছি। শেরেবাংলা মাজারের এক পাশে হেফাজত কর্মীরা, অন্যদিকে আহলে সুন্নতের লোকজন দাঁড়িয়ে আছেন। পুলিশ মাঝখানে থেকে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছে।’
এর আগে চট্টগ্রামে আয়োজিত মহাসমাবেশে সরকারকে উদ্দেশ্য করে হেফাজত নেতারা বলেছেন, ১৩ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত নবীপ্রেমিক তৌহিদি জনতা ঘরে ফিরে যাবে না। তাই আগামী ৫ই মে ঢাকা অবরোধের আগেই সব দাবি মেনে নিন। গোটা দেশে সাধারণ জনতার এ মহাজাগরণকে সরকার উপেক্ষা করার চেষ্টা করছে। সরকারের এ টালবাহানা এখন আর কারও বুঝতে বাকি নেই। যদি নাস্তিক-মুরতাদবিরোধী এ আন্দোলন এক দফায় পরিণত হয়, তখন সরকারের পতন কিছুতেই ঠেকানো যাবে না।
নগরীর ওয়াসা মোড়ের জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে শানে রসুল উপলক্ষে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী। সমাবেশকে ঘিরে সকাল থেকেই টানটান উত্তেজনা বিরাজ করে শহরজুড়ে। দলে দলে লোকজন সেখানে জমায়েত হতে থাকে ভোর থেকেই। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম ঘটে ওয়াসা মোড়ের আশপাশে।
এ সময় হেফাজত কর্মীদের ১৩ দফা দাবির সমর্থনে শ্লোগান দিতে দেখা যায়। তারা শাহবাগের এক শ্রেণীর নাস্তিক ব্লগারদের হটাতে সবাইকে আহ্বান জানান।
মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলামের আমীর, শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, ‘আজ হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে দেশের বিভিন্ন পেশার লাখ লাখ লোক জমায়েত হয়েছেন। নবীপ্রেমিক তৌহিদি জনতা আল্লাহ, রাসূলের ইজ্জত রক্ষার জন্য রাজপথে নেমে এসেছেন। এ আন্দোলন কোন দলমত গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়। যদি রাসূলের উম্মতের অন্তর্ভুক্ত থাকতে চান, তাহলে হেফাজতে ইসলামের পতাকাতলে সমবেত হতে হবে। হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করতে হবে।’
ঢাকা অবরোধের কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আগামী ৫ই মে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি সফল করা ঈমানি দায়িত্ব। এই কর্মসূচি সফল করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। ইসলাম না থাকলে আমাদের বেঁচে থাকার কোন প্রয়োজন নেই। যতদিন বেঁচে থাকবো ঈমান ও ইসলাম নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। তাই ঘরে বসে থেকে লাভ নেই। ওইসব নাস্তিক ব্লগারদের ঠেকাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে হেফাজত আমীর বলেন, ‘এখনও সময় আছে। নবীপ্রেমিকদের ১৩ দফা দাবি মেনে নিন। সংসদে এটা উত্থাপন করে পাশ করুন।’
আল্লামা শফী বলেন, ‘মুসলমানের দেশে আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি কটাক্ষ করে বসবাসের কারও অধিকার নেই। যার যার ধর্ম নিয়ে থাকুন আপত্তি নেই। কিন্তু ইসলাম বা কোন ধর্মের ওপর আক্রমণ করবেন তা বরদাশত করা হবে না।’
সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের নেতারা আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তি দাবি করেন। জানান, অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিতে হবে। আমার দেশের প্রেস খুলে দিতে হবে। অন্যথায় দেশের নবীপ্রেমিক লাখো জনতা তালা ভাঙতে বাধ্য হবে। আল্লাহ ও রাসূলের পক্ষে কথা বলায় মাহমুদুর রহমানকে বন্দি করা হয়েছে। তাকে মুক্ত করা মুসলমানদের ঈমানি দায়িত্ব। জনগণ তাকে মুক্ত করে আনবে ইনশাআল্লাহ।
শানে রেসালত মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতের মহানগর সভাপতি মাওলানা তাজুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক, আল-জামিয়া পটিয়ার শায়খুল হাদিস, হাফেজ মুফতি আহমদুল্লাহ, ভারপ্রাপ্ত মুহতামিম মুফতি মুজাফফর আহমদ, শিক্ষা পরিচালক মুফতি শামসুদ্দিন জিয়া, হেফাজতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল আল্লামা হাফেজ জুনাইদ বাবুনগরী, নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুল মালেক হালিম, মাওলানা শামসুল আলম, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা সাজেদুর রহমান, মাওলানা মুহাম্মদ ইদরিস, ঢাকা মহানগর নেতা মাওলানা সাখাওয়াত, যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, নানুপুর ওবাইদিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা সালাহুদ্দিন নানুপুরী, মুহাদ্দেস মাওলানা নুরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, মাওলানা লোকমান হাকিম, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি হারুন ইজহারসহ অন্তত ৪০ জন নেতা।
হেফাজতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল আল্লামা হাফেজ জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফার কোনটিই নারী অধিকারের বিপক্ষে নয়। নারীরা আমাদের শ্রদ্বেয় মা, বোন, কন্যা। আমাদের দাবি বাস্তবায়িত হলে এ দেশের নারীরা শতভাগ নিরাপত্তা, মান-মর্যাদা, সম্ভ্রমসহকারে কর্মক্ষেত্রে অংশ নিতে পারবে। দেশে ইভটিজিং, নারী নির্যাতনসহ নারীর বিরুদ্ধে যাবতীয় সহিংসতা চিরতরে অবসান হবে।’ তিনি আগামী জুমা বার দেশের সাড়ে চার লাখ মসজিদে বাদ জুমা ৫ই মে-র অবরোধ সফল করার লক্ষে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানান।
হেফাজত নেতা আল্লামা আবদুল মালেক হালিম বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। অন্যদিকে ধর্মীয় ও সম্পূর্ণ সংবিধান সম্মত। এসব দাবি কোনভাবেই সংবিধানবিরোধী নয়। ইতিমধ্যে আমরা ১৩ দফার বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করেছি। এসব দাবি এ দেশের ঈমানদার মুসলমানদের প্রাণের দাবি।’
তিনি এসব দাবি সম্পর্কে বিভ্রান্ত ছড়ানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘১৩ দফার বিপক্ষে অবস্থান নেয়া মানে আল্লাহ ও রাসূলের অবমাননার পক্ষে। যা নাস্তিকদের কাতারে দাঁড়ানোর শামিল। মদিনা সনদে রাষ্ট্র চলবে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে বলতে চাই যদি তাই হয় তাহলে প্রথমে আপনাকে পদত্যাগ করতে হবে।’
মহাসসমাবেশে মাওলানা সাজেদুর রহমান বলেন, ‘প্রলোভন দেখিয়ে, ভয় প্রদর্শন করে নারীদের হেফাজতে ইসলামের বিপক্ষে মাঠে নামানোর ষড়যন্ত্র চলছে। এ চক্রান্ত অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। কোন প্রকার চক্রান্তে নবীপ্রেমিক তৌহিদি জনতার এই আন্দোলন নস্যাৎ করা যাবে না।’
মহাসমাবেশে যোগ দেয়া ড. আ ফ ম খালিদ বলেন, ‘প্রয়োজনে গণভোট দিয়ে সংবিধান সংশোধন করে হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের জন্য সংবিধান, সংবিধানের জন্য জনগণ নয়। গণভোটে হেফাজতে ইসলামের তের দফা নিরঙ্কুশভাবে বিজয়ী হবে নিশ্চিত করে বলতে পারি।’

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT