টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

চকোরিয়া সমাবেশ মঞ্চে খালেদা জিয়া

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ১০ নভেম্বর, ২০১২
  • ১১৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

লুটপাট ও দুর্নীতির দায়ে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের বিচার করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেছেন, “আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না। কিন্তু কেউ কোন অপরাধ করে পার পাবে না। এ সরকারের দুর্নীতি ও লুটপাটের সব তথ্য জনগণ ও আমাদের কাছে আছে। সময় হলে এসবের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনারা এসবের বিচার ও শাস্তির জন্য প্রস্তুত থাকুন।” ঢাকা থেকে রামু অভিমুখী সফরের দ্বিতীয় দিন শনিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ কক্সবাজারেরপৌরসভার চিরিঙ্গায় শহীদ আব্দুল হামিদ পৌর বাস টার্মিনালে এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন। “বিশ্বচোর ও দুর্নীতিবাজদের সরিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে সব ধর্মের লোককে একযোগে কাজ করা”র আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, “এ সরকার যুবলীগ, ছাত্রলীগের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে। কিন্তু আমরা কারো হাতে অস্ত্র তুলে দেবো না। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এমনভাবে জবাব দেবো যে, তারা পালাবার পথ পাবে না।” আগামীতে ১৮ দলীয় জোট যে আন্দোলনের ঘোষণা দেবে তাতে শরিক হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, “এ সরকার দেশকে ৫০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে। আগামী নির্বাচনে আমাদের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে চিরতরে বিদায় করুন।” “সেসব সাংবাদিক সত্য কথা লেখে, তাদের হত্যা বা গুম করা হয়” অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, “১৬ জন সাংবাদিককে গুম করা হয়েছে। এ সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও গন্তব্যে বিশ্বাস করে না। তাই বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন চলছে। এ সরকার বিশেষ বাহিনী ও গোয়েন্দা বাহিনী দিয়ে ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমসহ বিএনপি অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুম করেছে।” তিনি বলেন, “এ সরকার এমনভাবে চাঁদাবাজি শুরু করেছে যে, বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে চাইলে চাঁদা দিতে হচ্ছে। তাই আর কেউ বিনিয়োগ করতে চাচ্ছে না। দেশ আজ ধ্বংসের পথে।” সরকারকে বিশ্বচোর ও বিশ্ববেহায়া আখ্যা দিয়ে বিএনপি প্রধান বলেন, “যারা দেশকে ভালোবাসেন তারা অবশ্যই নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চান।” রামুর ঘটনার জন্য সরকারের বিভিন্ন বাহিনীকে দায়ী করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘তারা রামুতে হামলা চালিয়ে কি অবস্থা করেছে, তা আপনারা দেখেছেন। বৌদ্ধদের বসত-বাড়ি, উপাসনালয় তারা ধ্বংস করেছে। আমি সেখানে যাচ্ছি। এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের সবার বিচার হবে।’’ তিনি বলেন, ‘‘বিএনপি যখনই ক্ষমতায় যায়, তখনই দেশের উন্নয়ন হয়। বিদেশি বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার হয়। শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সবকিছুরই উন্নয়ন ঘটে। কারণ, বিএনপি দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদন এবং মানুষের কল্যাণের রাজনীতি করে। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে বিএনপির করা উন্নয়ন কাজে তাদের নাম বসিয়ে সবকিছু ধ্বংস করে।’’ আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্রের কারণে ২০০৭ সালের নির্বাচন হয়নি এবং এর পরিণতিতে মঈন উদ্দিন-ফখরুদ্দিনের অগণতান্ত্রিক সরকার এসেছে বলে অভিযোগ তুলে খালেদা জিয়া বলেন, সেই সরকার তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে, তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। ঢালাওভাবে মামলা দিয়ে তারা দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। তাই ওয়ান-ইলেভেনের জন্যও আওয়ামী লীগ দায়ী বলে মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া। বক্তব্য শেষে ফের গন্তব্যের পথে ছুটতে শুরু করে তার গাড়িবহর। এর আগে উগ্রপন্থিদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ বসতি ও মঠ পরিদর্শনের জন্য শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে ঢাকা থেকে রওয়ানা হয় বিরোধী দলীয় নেতার গাড়ি বহর। শতাধিক গাড়ির বহরে বিএনপি প্রধানের সফরসঙ্গী হন ১৮ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর নেতারা। পথে অগণিত মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হতে হতে আর আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের শোডাউন পেরিয়ে চট্টগ্রাম পৌছে সার্কিট হাউসে রাতযাপন করেন খালেদা জিয়া। শনিবার সকাল পৌনে ১১টায় ফের যাত্রা শুরু করেন তিনি। বিকেলে রামুর খিজারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সম্প্রীতি সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার পর কক্সবাজার সদরে যাবেন খালেদা জিয়া। সেখানে সার্কিট হাউসে রাতযাপন শেষে রোববার সকালে ঢাকার পথ ধরবে তার গাড়ি বহর।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT