টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
মেয়াদ শেষ হলেও অব্যবহৃত মোবাইল ডাটা ফেরতের নির্দেশ মন্ত্রীর টেকনাফ পৌরসভার এক গ্রামেই ক্যাম্প পালানো ১৮৩ রোহিঙ্গা স্থানীয়দের সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করছে মায়ের গর্ভে ১৩ সপ্তাহ্ বয়সী শিশুর নড়াচড়া হারিয়াখালী থেকে ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকার ইয়াবা উদ্ধার টেকনাফে তথ্যকেন্দ্রের সহযোগিতায় মীনা দলের সদস্যদের নিয়ে ই-লার্নিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হ্নীলায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে আশ্রয় নেওয়া লোকদেরকে বের করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ টেকনাফের দক্ষিণ ডেইলপাড়া এলাকা হতে ২ জন গ্রেফতার এসএসসির অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে জরুরি নির্দেশনা মাউশির টেকনাফে’ ষষ্ঠ শ্রেনীর এক শিক্ষার্থী ধর্ষনের শিকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলি করে একজনকে অপহরণ

চকরিয়ায় ক্রসফায়ারে নিহত ১

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ৭ জানুয়ারি, ২০১৩
  • ১৫৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চকরিয়া-পেকুয়া সড়কে পুলিশের ক্রসফায়ারে ডাকাত সরদার নাছির নিহত হয়েছে। ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে পুলিশের এক দারোগাসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। নিহত নাছির উদ্দিন কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেধাকচ্ছপিয়া ঢালায় বাসচালককে হত্যা করে যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতির ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত আসামি।
শনিবার রাত প্রায় ২টায় চকরিয়া-পেকুয়া-মগনামা সড়কের মোহছেনিয়াকাটা এলাকায় মসজিদসংলগ্ন ব্রিজের কাছে ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, বন্দুকযুদ্ধের পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ডাকাতদলের ফেলে যাওয়া তিনটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, চারটি তাজা গুলিসহ ১৪টি গুলি, ছোট-বড় পাঁচটি ছোরা ও একটি মাক্স (মুখ বাঁধার কালো কাপড়) উদ্ধার করেছে। পুলিশ-ডাকাত সংঘর্ষের সময় পুলিশ ২৮ রাউন্ড ও ডাকাতদলের সদস্যরা অন্তত ৪০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেছে।
ডাকাতের গুলিতে আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন চকরিয়া থানার এসআই সুরেজিত বড়ুয়া, কনস্টেবল রিটন দাশ ও রণি বড়ুয়া।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আকতার সাংবাদিকদের জানান, ‘বন্দুকযুদ্ধ’ চলাকালে ডাকাত সর্দার নাছির উদ্দিন (৩২) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। সে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের উত্তর মেদাকচ্ছপিয়া এলাকার নজির আহমদের ছেলে। তার বিরুদ্ধে খুনসহ ডাকাতি, অস্ত্র, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজিসহ এক ডজন মামলা রয়েছে। তার দাবি, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেধাকচ্ছপিয়া ঢালায় যাত্রীবাহী তিশা পরিবহনের এক বাসচালককে খুন করে গণডাকাতির এই মূল নায়ক নিহত ডাকাত সর্দার নাছির উদ্দিন।
বাবুল আকতার জানান, মহাসড়কের ওই ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত হওয়ার মাত্র মাসখানেক আগে পূর্ববর্তী একটি ডাকাতি মামলায় চার বছর সাজাভোগের পর কারাগার থেকে বেরিয়েছিল নাছির উদ্দিন।
চকরিয়া থানার ওসি রণজিত্ কুমার বড়ুয়া সাংবাদিকদের জানান, ডাকাতির প্রস্তুতির খবর পেয়ে পুলিশ অভিযানে যায়। ওই সময় পুলিশের সঙ্গে ডাকাতদলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
তিনি জানান, এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আকতার। তার সঙ্গে ছিলেন চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রণজিত্ কুমার বড়ুয়া, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মো. নেয়ামত উল্লাহ, কক্সবাজার পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক জাকির হোসাইন মাহমুদসহ পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সমন্বিত একটি দল।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আকতার সাংবাদিকদের জানান, নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে শনিবার রাত দেড়টায় তিনি পেকুয়ায় যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে চকরিয়া-পেকুয়া-মগনামা সড়কের চকরিয়ার মোহছেনিয়া কাটা এলাকায় পৌঁছলে প্রায় ২০ সদস্যের একদল সশস্ত্র ডাকাত সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে গাড়ি থামায়। ওই সময় পুলিশকে লক্ষ করে গুলি ছুড়লে পুলিশ পাল্টা গুলি ছোড়ে।
তিনি দাবি করেন, ওই সময় অন্য ডাকাতরা পালিয়ে গেলেও ডাকাত নাছির গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং চিকিত্সাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।
চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মো. নেয়ামত উল্লাহ সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ‘কুখ্যাত’ ডাকাত সর্দার নাছির উদ্দিন কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত করে আসছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বাসচালক খুনসহ গণডাকাতিতেও সে সরাসরি জড়িত ছিল। খুনসহ এই ডাকাতির ঘটনার পর গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতে দেয়া জবানবন্দির প্রেক্ষিতে নাছির উদ্দিনের খোঁজে জেলা ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে ছিল।
তিনি জানান, দুর্ধর্ষ এই ডাকাত শুধু সড়ক নয়, সমুদ্র চ্যানেলেও অসংখ্য ডাকাতিতে নেতৃত্ব দিয়েছে বলে এর আগে পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃত একাধিক ডাকাত সদস্য পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
চকরিয়া থানার ওসি রণজিত্ কুমার বড়ুয়া সাংবাদিকদের জানান, নিহত ডাকাত নাছিরের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় ডাকাতির প্রস্তুতি, পুলিশ আক্রান্ত, অস্ত্র ও হত্যাসহ পৃথক চারটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
তিনি জানান, পুলিশ-ডাকাত সংঘর্ষকালে পুলিশ ২৮ রাউন্ড ও ডাকাতদলের সদস্যরা অন্তত ৪০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। নাছিরের বিরুদ্ধে খুনসহ ডাকাতি, ধর্ষণ, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধের অভিযোগে ১২টি মামলা রয়েছে।
এলাকায় আনন্দ-উল্লাস, মিষ্টি বিতরণ : এদিকে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কুখ্যাত ডাকাত সর্দার নাছির উদ্দিনের মারা যাওয়ার খবরে এলাকায় আনন্দ-উল্লাস করেছেন সাধারণ মানুষ। তার অপকর্ম ও অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠা মানুষগুলো স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। আবার অনেকে এলাকায় মিষ্টিও বিতরণ করেছেন বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডাকাত নাছিরের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে আমি বেশি কিছু বলতে পারব না। তবে এলাকার মানুষ তার মৃত্যুতে বেশ খুশি হয়েছেন ও অনেক স্থানে মিষ্টি বিতরণ করছেন তারা।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT