টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে চৌকি স্থাপন করছে মিয়ানমার

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
  • ১৩৮৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক ঃ৷ মায়ানমারে সামরিক বাহিনী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পর থেকে সীমান্তে সেই দেশের সেনা ও সীমান্ত রক্ষী পুলিশের (বিজিপি) তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সীমান্তের ওপারে বিভিন্ন স্থানে চৌকি স্থাপন করেছে মিয়ানমার। যার কারণে এপারে অবস্থানরত স্থানীয় মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।

মঙ্গলবার সরেজমিন সীমান্ত এলাকা ঘুরে বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পরপরই ঘুমধুম সীমান্তের তুমব্রু কোনারপাড়া, ভাজাবুনিয়া, বাইশপাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে চৌকি স্থাপন করে কাঁটাতারের বেড়া ঘেঁষে মিয়ানমার সেনারা অবস্থান নিয়েছে।

ঘুমধুম ভাজাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহেদ হোসেন বলেন, গত দুই দিন ধরে সীমান্তের ওপারে কাঁটাতারের বেড়া ঘেঁষে মিয়ানমার সেনাবাহিনী অসংখ্য চৌকি স্থাপন করে অবস্থান নেওয়ায় সীমান্ত এলাকায় কৃষি ক্ষেত-খামারে নিয়োজিত শ্রমজীবী মানুষেরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় মধ্যে রয়েছেন।

বেতবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর বশর মিজান বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী সেদেশে ক্ষমতা দখল করার পর থেকে সীমান্তে মিয়ানমার সেনা ও বিজিপির তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাতে ওপার থেকে গুলির শব্দ ভেসে আসছে এপারে। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে ভয়ভীতি কাজ করছে। এমনকি রেজু আমতলী এলাকার অনেক দোকানপাট বন্ধ রেখেছেন স্থানীয়রা।

ঘুমধুমের বাসিন্দা নুরুল আমিন বাপ্পী জানান, মিয়ানমারে সামরিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর সীমান্তে সেদেশের বাহিনীর মাঝে ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে সীমান্তের পরিবেশ শান্ত থাকলেও স্থানীয় লোকজনের মাঝে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে৷

ঘুমঘুম জলপাইতলি এলাকার জেলে আব্দুস শুক্কুর জানান, ওই এলাকার অধিকাংশ মানুষ নাফ নদী থেকে মাছ শিকার করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু হঠাৎ সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর উপস্থিতির কারণে ভয়ে নাফ নদীতে যেতে পারছেন না। বর্তমানে ওই এলাকার জেলেরা দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি তার।

বিজিবি কক্সবাজার ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ জানিয়েছেন, মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থায় থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। সুতরাং আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।

উল্লেখ্য, সোমবার ভোরে বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী মিয়ানমারে সেনাঅভ্যুত্থানে সেখানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ বেশকিছু নেতাকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। পুরো দেশটি সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। দেশটির অধিকাংশ স্থানে এখনো টেলিফোন এবং ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রয়েছে বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।

এছাড়াও দেশটির সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ শহর ইয়াঙ্গুন বিমানবন্দর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং শহরটির আশপাশের এলাকাগুলোর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগও বন্ধ রয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT