টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

খালেদার কক্সবাজার সফর : দলীয় বিভাজন ছিল সু-¯পষ্ট

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১২ নভেম্বর, ২০১২
  • ১০৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ফরিদুল মো¯ত্মফা খান, কক্সবাজার থেকে :
দীর্ঘ ৮ বছর পর কক্সবাজার সফর করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি শনিবার রামুতে সম্প্রীতি সমাবেশ ও চকরিয়ায় পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন । রবিবার উখিয়ায় দিপাংকুর বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শন শেষে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভায় ভাষন দেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের আশা ছিল বেগম জিয়ার কক্সবাজার আগমন ও সমাবেশ সফল করতে দীর্ঘদিনের বিবাদ ভুলে জেলা বিএনপির দু’গ্রুপ একসাথে কাজ করবে। কিন্তু তিনটি পৃথক সভায় তিন নেতার প্রাধান্য ছিল সু-¯পষ্ট। অন্য গ্র“পের নেতাদের সেখানে বক্তব্য দেয়াতো দুরের কথা অনেককে মঞ্চে পর্যন্ত ওঠতে দেয়া হয়নি।
বেগম জিয়ার সফরের আগের দিন কক্সবাজারে হোটেল সী-গাল এর সম্মেলন কক্ষে ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদের সংবাদ সম্মেলন ছিল সাংসদ কাজল গ্র“পের নিয়ন্ত্রনে। অভিযোগ রয়েছে বিএনপির কেন্দ্রিয় যুগ্ম-মহসচিব সালাহ উদ্দিন গ্র“পের নেতা হিসেবে পরিচিত জেলা ছাত্রদল সভাপতি সৈয়দ আহমদ উজ্জলকে ওখান থেকে বের করে দেয়া হয়। যদিওবা ব্যারিষ্টার মওদুদ ওই সংবাদ সম্মেলনে কক্সবাজারে বিএনপির কোন গ্রুপিং নেই বলে দাবী করেন। চকরিয়া ও উখিয়ার জনসভাতে কাজল গ্রুপের কোন নেতাকে দেখা যায়নি। রামুর সম্প্রীতি সমাবেশে সালাহ উদ্দিন আহমদ উপস্থিত হলেও তাকে বক্তব্য দিতে দেয়া হয়নি। কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সাবেক সাংসদ ও বিএনপির সংস্কারপন্থী নেতা শহীদুজ্জামান প্রচার-প্রচারনায় দলীয় চেয়ারপার্সনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলেও তাকে রামু সমাবেশে দেখা যায়নি। এর পরের দিন নিজের নির্বাচনী এলাকা ছেড়ে উখিয়ার সমাবেশে তাকে বক্তব্য রাখতে দেখা যায়। অন্যদিকে হাওয়া ভবনের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত এবং উখিয়া-টেকনাফে বিএপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আলমগীর চৌধুরী প্রচারনায় ব্যাপক টাকা খরচ করলেও উখিয়ার সমাবেশে তাকে দেখা যায়নি। তিনি যোগদান করেছেন রামুর সমাবেশে। সেখানকার দলীয় লোকজন শাহজাহান চৌধুরী ছাড়া অন্য কাউকে চেনেন না বলেও জানিয়েছেন। তারা আলমগীর চৌধুরীকে একজন অসুস্থ লোক বলেও মনে করে জানিয়েছেন, কক্সবাজার বিএনপিতে তার দলীয় কোন পদবী নেই। এভাবে বিএনপি অঙ্গ-সহযোগী সংঠনের নেতারা নিজ নিজ গ্রুপের নেতাদের নিয়ন্ত্রিত সমাবেশে উপস্থিত হতে দেখা যায়। অপর গ্রুপের সমাবেশে গেলেও তাদের বক্তব্য রাখতে কিংবা মঞ্চে ওঠতে দেয়া হয়নি। আবার অনেককে অসহায়ের মত মঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
দলীয় সুত্র জানায়, বিগত ২০০৯ সালে জেলা বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সেলিমা রহমান লাঞ্চিত হবার সেই অপ্রীতিকর ঘটনার পর থেকে কক্সবাজারে বিএনপি দু’মেরুতে বিভক্ত হয়ে গেছে। একটি গ্রুপ কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও স্থানীয় সাংসদ লুৎফুর রহমান কাজলের বলয়ে এবং অন্য গ্রুপ কেন্দ্রীয় যুগ্ন মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমদের হয়ে মাঠে কাজ করছে। তাদের মাঝে বিবাদ এতই তিব্র হয়ে উঠে যে, জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনের সমাবেশে কেন্দ্রীয় যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে লক্ষ্য গুলি করতেও দিধাবোধ করেনি । এসব কারণে বিগত বছর তিনেক দলীয় কিংবা সরকার বিরোধী কোন কর্মসুচী সঠিক ভাবে পালন করতে পারেনি বিএনপি। যা হয়েছে তা শুধু কাগজে-কলমে।
উল্লেখ্য, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ২০০৪ সালে সর্বশেষ কক্সবাজার সফর করেছিলেন। দীর্ঘ ৮ বছর পর তিনি শনিবার কক্সবাজার আসেন। তার সমাবেশ গুলো সম্প্রীতি সমাবেশ হলেও মূলত সেগুলো নির্বাচনী আগাম প্রচারণা সভায় পরিনত হয়। নেতা-কর্মীরা বাদ্য বাজিয়ে, রঙ্গিন ডিজিটাল ব্যানার, পেস্টুন, পোস্টার, তোরণ ও ধানের শীষের প্রতিক প্রদর্শন করে পুরো এলাকায় একটি নির্বাচনী আবহ সৃষ্টি করে এবং নেতাদের শোডাউন ছিল চোখে পড়ার মত।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT