টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :

কোরবানির প্রয়োজনীয় মাসআলা: ভাগে কোরবানির নিময়কানুন

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
  • ১৩৮০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

12038561_1703307876571184_7396191644687864451_n

মুফতি মাহফূযুল হক::: কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। অন্যান্য ইবাদতের মতো কোরবানি শুদ্ধ হওয়ার জন্য রয়েছে বেশ কিছু নিয়ম ও বিধি-বিধান। তাই পাঠকদের জন্য কোরবানির প্রয়োজনীয় কিছু মাসআলা উল্লেখ করা হলো-

কোরবানি কবুল হওয়ার শর্ত
সওয়াবের আশায় কোরবানি দেওয়া, কোরবানির অর্থ হালাল হওয়া এবং বিধানসম্মতভাবে কোরবানি দেওয়া।

শুধুমাত্র গোশত খাওয়ার ইচ্ছায়, সামাজিক মান-মর্যাদা রক্ষায় কোরবানি দিলে তা কবুল হবে না। কোরবানির অর্থ যদি হালালপন্থায় অর্জিত না হয়- তাহলে ওই কোরবানি আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না।

যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব
যে মুসলিম নর-নারী জিলহজ মাসের ১০ তারিখ সুবহে সাদেক থেকে ১২ তারিখ সূর্যস্তের মধ্যে প্রাপ্তবয়ষ্ক, সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন ও সম্পদের দিক দিয়ে নেসাবের মালিক হবে- তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব।

কোনো অপ্রাপ্ত বয়ষ্কের সম্পদ থাকলেও তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়। পাগল ধনী হলেও তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়।

নেসাবের ব্যাখ্যা
সোনার নেসাব ৮৭.৪৮ গ্রাম (সাড়ে সাত ভরি)। রূপার নেসাব ৬১২.৩৬ গ্রাম (সাড়ে বায়ান্ন ভরি)। অন্যান্য সম্পদের ক্ষেত্রে ৬১২.৩৬ গ্রাম রূপার মূল্যমান প্রযোজ্য হবে। সোনা-রূপা অথবা সোনা-রূপা ও অন্যান্য সম্পদ থাকলে সে ক্ষেত্রেও ৬১২.৩৬ গ্রাম রূপার মূল্যমান প্রযোজ্য হবে।

অন্যান্য সম্পদের মধ্যে ধরা হবে- ব্যবসার পণ্য, বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয় না- এমন জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, ফার্ণিচার, তৈজসপত্র, যে কোনোভাবে এবং যে কোনো উদ্দেশ্যে জমানো টাকা।

কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য নেসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর থাকা শর্ত নয়।

পশুর বিবরণ
কোরবানি দিতে হবে গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু দিয়ে দিয়ে। বন্য প্রাণী দিয়ে কোরবানি আদায় হবে না। ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, গরু, মহিষ ও উট দ্বারা কোরবানি দেওয়া যায়। নর ও মাদা যে কোনো পশু দিয়ে কোরবানি হবে। তবে হিজড়া পশু দিয়ে কোরবানি হবে না। এ ছাড়া হরিণ ও বন্যগরু ইত্যাদি দিয়েও কোরবানি হবে না।

পশুর বয়স
ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার নূন্যতম বয়স ১ বছর হতে হবে। গরু-মহিষের নূন্যতম বয়স ২ বছর। উটের নূন্যতম বয়স ৫ বছর।

পশুর ত্রুটি
কোরবানির পশু ত্রুটিমুক্ত ও সুন্দর হওয়া বাঞ্চনীয়। তবে সামান্য পরিমাণের ত্রুটি থাকলে তা দ্বারা কোরবানি হবে।

যদি পশুর একটি পা মাটিতে রাখতে না পারে বা মাটিতে রাখলেও তাতে ভর দিতে না পারে তবে ওই পশু দ্বারা কোরবানি হবে না।

যে পশু এতটাই অসুস্থ্য ও দুর্বল যে নিজ স্থান থেকে জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত নিজে হেঁটে যেতে পারে না- তবে ওই পশু দিয়ে কোরবানি আদায় হবে না।

যে পশুর সবগুলো দাঁত পড়ে গেছে বা এত বেশি দাঁত পড়ে গেছে যে, সে খাদ্য চিবাতে পারে না- তা দ্বারা কোরবানি হবে না।

শিং যদি সমূলে উপড়ে যায় বা গোড়া থেকে এমনভাবে ভেঙে যায় যে, মাথার খুলি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বা খুলির হাড় দেখা যায়- তবে তা দ্বারা কোরবানি করা যাবে না। অন্যথায় কোরবানি হবে। শিং না উঠে থাকলেও কোরবানি হবে বয়স হলে।

কান বা লেজের যদি অর্ধেক পরিমাণ বাকি থাকে তবে কোরাবানি হবে।

দুটি বা একটি চোখ সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন হলে কোরবানি দেওয়া যাবে না।

গর্ভবতী পশুর কোরবানি
গর্ভবতী প্রাণী কোরবানি দিলে কোরবানি হবে। তবে জেনে-শোনে এমনটি করা মাকরূহ। জবাইয়ের পর গর্ভস্থ বাচ্চা জীবিত পাওয়া গেলে তা দান করে দিতে হবে। আর মৃত বা অসম্পূর্ণ পাওয়া গেলে বাচ্চা ফেলে দিতে হবে। এতে কোরবানির কোনো ক্ষতি হবে না বা গোশত খেতেও কোনো সমস্যা নেই।

পশু ক্রয়ের পর পশু মারা গেলে
ক্রেতা ধনী হলে আরেকটি পশু কোরবানি দিতে হবে। আর গরিব হলে তার আর কোরবানি দিতে হবে না।

ক্রয়ের পর পশুতে ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে
যদি এমন ত্রুটি দেখা দেয় যাতে কোরবানি চলবে না, তবে ক্রেতা ধনী হলে অন্য পশু দিয়ে কোরবানি দিবে। ত্রুটিযুক্ত পশু বিক্রি করলে করতে পারবে। আর গরিব হলে ত্রুটিযুক্ত এই পশু দিয়েই কোরবানি দিবে।

পশু ক্রয়ের পর হারিয়ে গেলে
ক্রেতা গরিব হলে তাকে অন্য পশু কোরবানি দিতে হবে না। ধনী হলে অন্য পশু কোরবানি দিতে হবে। অন্য পশু ক্রয়ের পর যদি হারানো পশু ফিরে পাওয়া যায় তবে ধনী ব্যক্তি নিজ ইচ্ছেমতো যে কোনো একটি পশু দ্বারা কোরবানি দিতে পারবে। কিন্তু গরিব ব্যক্তিকে উভয়টাই কোরবানি দিতে হবে। কেননা, ধনীর ওপর কোরবানি ওয়াজিব ধনের কারণে। তাই পশু ক্রয় করার দ্বারা তার ওপর পশু নির্দিষ্ট হয় না। সে যে কোনোটা দিয়ে কোরবানি দিতে পারে। কিন্তু গরিবের ওপর ধনের কারণের কোরবানি ওয়াজিব না। সে যদি কোরবানির নিয়তে পশু ক্রয় করে তবে পশু ক্রয়ের কারণে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়। তাই পশু ক্রয়ের দ্বারা তার জন্য পশু নির্দিষ্ট হয়ে যায়। সে যতগুলো ক্রয় করবে সবগুলো দিয়ে কোরবানি করা ওয়াজিব হবে।

ভাগে কোরবানি
ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ভাগে কোরবানি দেওয়া যায় না। একাই দিতে হয়। গরু, মহিষ ও উট ভাগে কোরবানি দেওয়া যায়। ভাগের সংখ্যা সর্বোচ্চ সাত হতে পারে। এর বেশি হলে হবে না। সাত বা সাতের কম যে কোনো সংখ্যার ভাগ হতে পারে। বেজোড় হওয়ার কোনো বাধ্যবাধ্যকতা নেই।

ভাগে কোরবানি শুদ্ধ হওয়ার শর্ত
ভাগে কোরবানি শুদ্ধ হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তিনটি শর্ত রয়েছে-
এক. প্রত্যেকেরই সওয়াবের নিয়তে কোরবানি দেওয়া।
দুই. প্রত্যেকের অর্থ হালাল হওয়া।
তিন. কারো টাকা এক সপ্তমাংশের কম না হওয়া।

ভাগিদারদের কারো নিয়তে যদি ত্রুটি থাকে অথবা কারো উপার্জন যদি হারাম হয়- তবে সবার কোরবানিই নষ্ট হয়ে যাবে। ভাগিদারদের মধ্যে কারো কোরবানি আদায় হবে না। ইসলামি চিন্তাবিদরা তাই পরামর্শ দিয়ে থাকেন, ভাগে কোরাবানি দেওয়ার চেয়ে একা কোরবানি দেওয়াই অধিক নিরাপদ।

৬৯ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয়কৃত গরুতে ৬ জনের টাকা ১০ হাজার করে ৬০ হাজার টাকা। আর বাকি ৯ হাজার টাকা একজনের। এমতাবস্থায় কারো কোরবানি আদায় হবে না। কেননা, শেষ ব্যক্তির টাকা এক সপ্তমাংশের কম।

অনেক সময় দেখা যায়, চার ভাই মিলে সমানহারে টাকা দিয়ে পিতার নামে এক ভাগ নেয়। কোরবানির পর গোশতের ভাগ বাড়ি এনে আবার নিজেরা ভাগ করে নেয়। সে ক্ষেত্রে ওই গরুতে আরো যে ৬ জন শরিক হয়েছিলেন তাদেরসহ কারো কোরবানি আদায় হবে না। কেননা, চার ভাইয়ের প্রত্যেকের ভাগ এক সপ্তমাংশের কম হয়ে যাচ্ছে।

যদি কয়েক ভাই মিলে পিতার নামে বা মায়ের নামে এক ভাগের কোরবানিতে অংশ নিতে চায় তবে সঠিক নিয়ম হলো- ভাইয়েরা সবাই নিজ নিজ টাকার স্বত্ত্বাধিকার ত্যাগ করে এবং গোশত প্রাপ্তির কোনো দাবি না রেখে একজনকে উপহার দিয়ে দিবে। সে পিতার নামে একভাগে কোরবানি দিবে। পরবর্তীতে কোরবানির গোশত সে তার নিজ ইচ্ছা ও খুশিমতো বণ্টন করবে।

যদি পাঁচ ভাই মিলে একটি গরু ক্রয় করে এবং এরা সবাই মিলে বাকি দুই ভাগ পিতার নামে ও মায়ের নামে কোরবানি দিতে চায় তবে তা দিতে পারবে। কেননা, এ ক্ষেত্রে কারো ভাগ এক সপ্তমাংশের চেয়ে কম থাকছে না। দুই ভাগ পিতা-মাতার নামে দিলেও মালিকানার বিবেচনায় প্রত্যেকের ভাগ এক পঞ্চমাংশ থাকছে।

অনেকে মনে করেন, গরুতে নাম ৭ টাই হতে হবে। তিনজনে মিলে গরু ক্রয় করলেও সাত নাম পূরণ করার চেষ্টা করা হয়। এ ধারণা ভুল। এর কোনো প্রয়োজন নেই। যারা কিনেছে শুধু তাদের নামে কোরবানি দেওয়াটাই যথেষ্ট। নামের সংখ্যা সাতের চেয়ে কম হলে কোনো অসুবিধা নেই।

পশু ক্রয়ের আগেই ভাগ মিল করা শ্রেয়। ধনী ব্যক্তি একা কোরবানি দেওয়ার নিয়তে পশু ক্রয়ের পর অন্যকে ভাগ দিলে অনুত্তম হবে। আর গরিব ব্যক্তি এমনটি করলে তা নাজায়েয হবে।

অন্যের নামে কোরবানি দেওয়া
কারো ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকলে তাকে নিজের নামেই কোরবানি দিতে হবে। নিজের নামে না দিয়ে অন্যের নামে দেওয়া যাবে না। অনেকে মনে করে কোরবানি মুরুব্বিদের নামে দিতে হয়। এটা প্রচলিত ভুল ধারণা।

তবে কেউ যদি একাধিক কোরবানি দেয় তবে একটা নিজের নামে দিয়ে বাকি নফল কোরবানিগুলো জীবিত-মৃত যে কারো নামে দিতে পারে।

কোরবানির সঙ্গে আকিকা
গরু, মহিষ ও উট ইত্যাদিতে নিজের কোরবানির সঙ্গে সাত ভাগ মিল রেখে নিজের বা সন্তানদের আকিকার নিয়ত করা যাবে।

আকিকার নিয়তে অন্যদের কোরবানির সঙ্গেও শরিক হওয়া যাবে।

পশু ক্রয়ের পর শরিকদের কেউ মারা গেলে
যদি মৃতের সকল ওয়ারিশ মৃতের পক্ষ থেকে কোরবানি করার অনুমতি দেয়- তবেই কেবল সবার কোরবানি আদায় হবে। আর যদি ওয়ারিশদের কেউ অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক থাকে অথবা ওয়ারিশগণ অনুমতি না দেয় অথবা কোনো একজন ওয়ারিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করে তার অনুমতি সংগ্রহ করা সম্ভব না হয়- এমতাবস্থায় কোরবানি দিলে কারো কোরবানি আদায় হবে না।

এক্ষেত্রে করণীয় হলো- মৃতের ভাগের টাকা তার ওয়ারিশদের ফিরিয়ে দেওয়া। বাকি শরিকরা নিজ নিজ অংশ অনুপাতে এ টাকা পরিশোধ করতে পারে অথবা নতুন কাউকে শরিক করে নিতে পারে।

কোরবানির সময়
জিলহজ মাসের ১০ তারিখ এলাকার ঈদের প্রথম জামাত শেষ হওয়ার পর থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে রাতে-দিনে যে কোনো সময় কোরবানি করা যাবে।

কোরবানির পশু ও মালিক দুই শহরে বা দুই দেশে থাকলে পশুর স্থানের সময় ধর্তব্য হবে।

বছরের অন্য কোনো সময় কোরবানির নিয়তে পশু জবাই করলে তা কোরবানি হবে না। কোনো সওয়াবও পাওয়া যাবে না।

জবাই
কোরবানির পশু নিজেই জবাই করা উত্তম। তবে অন্যকে দিয়েও জবাই করানো যায়। জবাইয়ের সময় যে কয়জন ছুরিতে হাত লগাবে তাদের সবাইকে অবশ্যই বিসমিল্লাহ বলতে হবে। নচেৎ গোশত হালাল হবে না, কোরবানি শুদ্ধ হবে না। জবাইয়ের পর কোরবানির দোয়া বলা সুন্নত। তা না বললেও কোরবানি হবে।
খাদ্যনালী, শ্বাসনালী এবং এর দুই পাশের দু’টি শাহরগ- এই মোট চারটি রগ থেকে কম করে হলেও যে কোনো তিনটি রগ কাটা আবশ্যক। এর কম হলে কোরবানি হবে না, গোশত হালাল হবে না।

জবাইকারী ও কসাইয়ের পারিশ্রমিক
তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিজের থেকে দিতে হবে। কোরবানি চামড়া বা গোশত দিয়ে তাদের পারিশ্রমিক আদায় করা জায়েয নেই। হ্যাঁ, নিজের থেকে ন্যায্য পারিশ্রমিক পরিপূর্ণ পরিশোধ করার পর উপহার হিসেবে গোশত, চামড়া দেওয়া যেতে পারে। গরিব হলে চামড়া বিক্রির টাকা দান করা যেতে পারে।

গোশত
কোরবানির গোশত নিজে খাওয়া যায়। যে কাউকেই দেওয়া যায়। তবে তিন ভাগ করা মোস্তাহাব। এক ভাগ নিজের পরিবারের জন্য। এক ভাগ আত্মীয়-স্বজনের জন্য। এক ভাগ গরিবদের জন্য।

কোনো কোরবানি দাতা যদি নিজেই অভাবি হয় এবং তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি হয় তবে সম্পূর্ণ গোশত নিজ পরিবারের জন্য রেখে দিলে দিতে পারবে।

অমুসলিমদেরও কোরবানির গোশত দেয়া জায়েয আছে। তবে স্থানীয় মুসলিমদের বা পৌঁছানো সম্ভব এমন দূরবর্তী স্থানের মুসলিমদের অভাব অপূরণ থাকতে অমুসলিমদের প্রাধান্য দেওয়া অনুত্তম।

কোরবানির গোশত ফ্রিজিং করে, রোদে শুকিয়ে বা যে কোনো উপায়ে বহুদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা ও খাওয়া জায়েয আছে। এমনকি পরবর্তী ঈদ পার হয়ে গেলেও কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু তিন ভাগের দু’ভাগ বিলি না করে অনেক দিন পর্যন্ত খাওয়ার জন্য সংরক্ষণ করা ইসলামের চেতনা, আদর্শ ও বৈশিষ্ট্য বিরোধী। কৃপণতা ও ভোগবাদী মানসিকাতর লক্ষ্যণ। এতে ত্যাগ, উৎসর্গ ও বিসর্জনের কোনো ছাপ বুঝা যায় না। তাই এমনটি না করাই উত্তম।

যে কোরবানি মৃতের ওসিয়ত অনুযায়ী তার পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে দেওয়া হয়েছে ওই কোরবানির গোশত নিজেরা খাওয়া যাবে না, ধনীদের দেওয়া যাবে না।

মান্নতের কোরবানির গোশতের বিধানও অনুরূপ। কিন্তু ওয়ারিশরা যদি নিজেদের সম্পদ থেকে মৃতের নামে কোরবানি দিয়ে থাকে তবে এ গোশত নিজেরাও খেতে পারবে এবং ধনীদেরও দিতে পারবে।

গোশতের সামাজিক ভাগ
অনেকে মনে করে কোরবানির গোশতের তিন ভাগের এক ভাগ সমাজের মানুষের জন্য। এ ভিত্তিতে অনেক স্থানেই মহল্লার সবার কোরবানির এক তৃতীয়াংশ সামাজিক চাপের মাধ্যমে একত্রিত করা হয়। এর পর তা সমানভাগে ভাগ করে মহল্লার ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবখানাকে এক ভাগ করে দেয়। এ পদ্ধতিটি ভুল ধারণার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত একটি ভুল প্রথা। কেননা, কোরবানির গোশতে সমাজের কোনো ভাগ নেই। আগের প্যারাতে আমরা আলোচনা করেছি ভাগ কাদের প্রাপ্য।
যদি কোনো উপকারের প্রতি লক্ষ্য রেখে গোশতের সামাজিক ভাগ করতেই হয় তবে আবশ্যিকভাবে ৩টি শর্ত রক্ষা করতে হবে। যথা-

এক. গোশত জমা দিতে অথবা এক তৃতীয়াংশ দিতে কাউকে সামাজিকভাবে বাধ্য করা যাবে না।
দুই. গোশতের ভাগ শুধুমাত্র গরিবদের দিতে হবে।
তিন. গোশতের ভাগ পাওয়ার জন্য মহল্লার মসজিদ, ঈদগাহ, স্কুল, সভা ইত্যাদিতে কোনো ধরণের চাঁদা-অনুদান-মুষ্টির চাল দান করার শর্ত আরোপ করা যাবে না।

এ ক্ষেত্রে মহল্লার বাইরের অনাথ, দরিদ্র ও অসহায়দের প্রতি বিশেষ বিবেচনা করার প্রয়োজন আছে।

গৃহকর্মীকে কোরবানির গোশত দিয়ে খেতে দেওয়া
গৃহকর্মীকে তার কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে হিসেবে, কাজের ওপর খুশি হয়ে কাঁচা গোশত দেওয়া যাবে না। অবশ্য পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মতো তাদেরও  কোরবানির গোশত দিয়ে ভাত-রুটি খাওয়ানো যাবে। কেননা, কোরবানির গোশতকে খাওয়ার উপযোগী করতে মালিককে বাড়তি পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।

চামড়া, চর্বি, গোশত ও হাড় বিক্রি করা
কোরবানির পশুর কোনো অংশ নিজে বিক্রি করা নাজায়েয। নিজে ভোগ করা যায়, যে কাউকে উপহার দেয়া যায়। তবে কোনো কারণে বিক্রি করলে তা করতে হবে দান করার নিয়তে এবং বিক্রিলব্ধ সম্পূর্ণ টাকা জাকাত প্রদানের খাতে দান করতে হবে।

গোশত, চামড়া, চর্বি কাউকে উপহার দেওয়ার পর গ্রহীতা যদি নিজ প্রয়োজনে বা যে কোনো কারণে বিক্রি করে তা করতে পারবে। ফেলে দেওয়া হাড় অন্য কেউ কুড়িয়ে নিয়ে বিক্রি করলে করতে পারবে।

কোরবানি দিতে না পারলে
যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব সে যদি কোরবানির নিয়তে পশু ক্রয় করে থাকে আর কোনো কারণে ১২ তারিখ সূর্যাস্তের আগে কোরবানি করতে না পারে তবে উক্ত পশু জীবিত দান করবে। যদি জবাই করে তবে সম্পূর্ণ অংশ গরিবদের দান করতে হবে। আর জবাইয়ের কারণে যদি মূল্যমান হ্রাস পায় তবে যে পরিমাণ মূল্যমান হ্রাস পেয়েছে সে পরিমাণ টাকাও দান করতে হবে।

 

আর সে যদি কোরবানির নিয়তে পশু ক্রয় না করে থাকে, তবে মধ্যম মানের একটি ছাগলের মূল্য দান করবে।

কাজা কোরবানি আদায়
পিছনের কোনো বছরের কাজা কোরবানি আদায়ের নিয়তে কোরবানি দিলে এটা নফল কোরবানি হবে। কাজা আদায় হবে না। কাজা আদায়ের জন্য মূল্য দান করতে হবে।

ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদ। মুসলিম উম্মাহর সার্বজনীন দু’টি উৎসবের অন্যতম একটি এই ঈদ। ঈদুল আযহার প্রধান আকর্ষণ পশু কোরবানি করা।

নিজের অর্থে কেনা পশুটি আল্লাহর নামে উৎসর্গ করে জবাই করার মাধ্যমে একজন প্রকৃত মুসলমান মূলত নিজেকে আল্লাহর কাছে সমপর্ণের শিক্ষা নেয়।

পশু কোরবানির অনেক ফজিলত রয়েছে। আসুন জেনে নেওয়া যাক কোরবানির পশু কেনা ও জবাই সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাসআলা। (মাওলানা আশরাফ আলি থানভি রহ. কর্তৃক প্রণীত বেহেশতি জেওর থেকে গৃহিত)

মাসআলা: কেউ চাইলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ হয়ে কোরবানি করতে পারে। এছাড়া মৃত আত্মীয়-স্বজন, জীবিত আত্মীয়-স্বজনের পক্ষ থেকেও কোরবানি করা জায়েজ আছে।

মাসআলা: যদি কেউ নিজের খুশিতে কোনো মৃত ব্যক্তির সওয়াব পৌঁছানোর উদ্দেশে কোরবানি করে, তবে তা জায়েজ আছে এবং ওই গোশত নিজেও খেতে পারবে এবং যা কে ইচ্ছা দিতেও পারবে।

মাসআলা: যদি একটি গরুতে সাত জনের কম ৫/৬ জন শরিক হয় এবং কারো অংশ সাতভাগের কম না হয়; (যেমন, ৭০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনলে কারো অংশে যেন দশ হাজার টাকা কম না হয়) তবে সবার কোরবানি জায়েজ হবে। আর যদি আট জন অংশীদার হয়, কবে কারো কোরবানি বৈধ হবে না।

মাসআলা: যদি গরু কেনার আগে সাতজন অংশীদার হয়ে সবাই মিলে কেনে, তবে তা উত্তম, আর যদি কেউ একা একটি গরু কোরবানির জন্য কেনে এবং মনে মনে ইচ্ছা রাখে যে, পরে আরো লোক শরিক করে তাদের সঙ্গে মিলে কোরবানি করবে, তবে সেটাও জায়েজ আছে। কিন্তু যদি গরু কেনার সময় অন্যকে অংশীদার করার ইচ্ছা না থাকে, বরং একাই কোরবানির নিয়ত করে থাকে, কিন্তু পরে অন্যকে অংশীদার করতে চায়, এমতাবস্থায় যদি ওই ক্রেতা লোকটি গরিব হয় এবং তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব না থাকে, তবে সে তার কেনা পশুতে এখন অন্য কাউকে অংশীদার করতে পারবে না, বরং একা একাই গরুটি কোরবানি করতে হবে (যার ওপর কোরবানি ওয়াজিবই হয়নি তার জন্য প্রযোজ্য)। আর যদি ওই ক্রেতা সম্পদশালী হয় এবং তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকে, তবে ইচ্ছা করলে পরে অন্য অংশীদার নিতে পারবে।

মাসআলা: যদি কোরবানির পশু হারিয়ে যায় এবং আরেকটি পশু দ্রুত কেনার পর যদি প্রথম পশুটি পাওয়া যায়, এমতাবস্থায় ক্রেতা যদি সম্পদশালী হয়, তবে যে কোনো একটি পশু কোরবানি করা ওয়াজিব হবে। আর যদি লোকটি গরিব হয়, তবে দু’টো পশুই কোরবানি করা তার ওপর ওয়াজিব হবে (যার ওপর কোরবানি ওয়াজিবই হয়নি তার জন্য প্রযোজ্য)।
মাসআলা: কোরবানির পশু কেনার পর যদি সেটি বাচ্চা প্রসব করে, তবে ওই বাচ্চাটিকেও কোরবানি করে গরিব মিসকীনদের দিয়ে দেবে, নিজে খাবে না। তবে জবাই না করে সেটি কোনো গরিবকে দান করে দেওয়াও জায়েজ।

মাসআলা: গর্ভবতী পশু কোরবানি করা জায়েজ আছে। যদি জবাই করার পর পেটের বাচ্চা জীবিত পাওয়া যায়, তবে সে বাচ্চাটিও জবাই করতে হবে।

মাসআলা: সাতজন মিলে অংশীদার হয়ে যদি একটি গরু কোরবানি করে, তবে গোশত নিজেদের ধারণা অনুযায়ী ভাগ করা যাবে না। দাঁড়িপাল্লা দিয়ে মেপে সমান সমান ভাগ করা উচিত। অন্যথায় যদি ভাগের মধ্যে তারতম্য হয়ে যায়, তবে সুদ হয়ে যাবে এবং গোনাহগার হবে। অবশ্য যদি গোশতের সঙ্গে মাথা, পা বা চামড়াও ভাগ করে দেওয়া হয়, তবে যে ভাগে মাথা, পা, চামড়া থাকবে, সে ভাগে গোশত কম হলেও জায়েজ হবে, যত কমই হোক। কিন্তু যে ভাগে গোশত বেশি সে ভাগে মাথা, পা, বা চামড়া দিলে সুদের মতো হবে এবং গুনাহ হবে।

মাসআলা: ছাগলের বয়স পূর্ণ এক বছরের কম হলে জায়েজ হবে না। এক বছর পূর্ণ হলে জায়েজ হবে। গরু, মহিষ দুই বছরের কম হলে কোরবানি জায়েজ হবে না। পূর্ণ দুই বছর হলে জায়েজ হবে। উট পাঁচ বছরের কম হলে জায়েজ হবে না। দুম্বা এবং ভেড়ার হুকুম ছাগলের মতো। কিন্তু ছয় মাসের বেশি বয়সের দুম্বার বাচ্চা এমন মোটাতাজা হয় যে এক বছরের দুম্বার পালে ছেড়ে দিলে সেটিকে আলাদা করে চেনা না যায়, তবে সেই দুম্বার বাচ্চাও কোরবানির জন্য জায়েজ আছে, অন্যথায় নয়। কিন্তু ছাগলের বাচ্চা যদি এরকম মোটা তাজাও হয়, তবুও এক বছর পূর্ণ না হলে কোরবানি জায়েজ হবে না।

মাসআলা: যে পশুর চোখ দু’টি অন্ধ, অথবা একটি চোখ পূর্ণ অন্ধ বা একটি চোখের তিনভাগের একভাগ বা আরও বেশি দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে, তবে সে পশুর কোরবানি জায়েজ নয়। এমনিভাবে যে পশুর একটি কানের বা লেজের এক তৃতীয়াংশ বা তার বেশি কেটে গেছে, সেটিও কোরবানির জন্য জায়েজ নয়।

মাসআলা: যে পশু এমন খোঁড়া যে মাত্র তিন পায়ের ওপর ভর করে চলে, চতুর্থ পা মাটিতে লাগে না, অথবা মাটিতে লাগে বটে, কিন্তু তার ওপর ভর দিতে পারে না, এমন পশুর কোরবানি জায়েজ নয়। আর যদি খোঁড়া পায়ের উপরও ভর দিয়ে খুড়িয়ে চলে, তবে সেরকম পশুর কোরবানি জায়েজ আছে।

মাসআলা: পশুটি যদি এমন জীর্ণ ও শুকনো হয় যে তার হাড়ের মধ্যের মগজও শুকিয়ে গেছে, তবে এমন পশুর কোরবানি জায়েজ নয়। হাড়ের ভেতরে মগজ যদি না শুকিয়ে থাকে, তবে কোরবানি জায়েজ আছে।

মাসআলা: যে পশুর একটি দাঁতও নেই, এমন পশুর কোরবানি জায়েজ হবে না। আর যদি দাঁত পড়ে থাকে এবং অবশিষ্ট দাঁতের সংখ্যা যদি বেশি হয় তবে কোরবানি জায়েজ হবে।

মাসআলা: যে পশুর জন্মলগ্ন থেকে কান নেই, সেটার কোরবানি জায়েজ নয়। কান আছে কিন্তু খুব ছোট, তবে সেটার কোরবানি জায়েজ।

মাসআলা: যে পশুর জন্ম থেকে শিং হয়নি কিংবা শিং ছিল, কিন্তু ভেঙে গেছে, তবে এমন পশু দিয়ে কোরবানি জায়েয আছে। অবশ্য যদি একবোরে মূল থেকে ভেঙে যায়, তবে কোরবানি জায়েজ নয়।

মাসআলা: যে পশুকে খাসি বানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সে পশু দিয়ে কোরবানি জায়েজ আছে। এমনিভাবে যে পশুর গায়ে বা কাঁধে দাদ বা খুজলি হয়েছে সেটিরও কোরবানি জায়েজ। অবশ্য খুজলির কারণে যদি পশু একবোরেই জীর্ণ হয়ে থাকে, তবে কোরবানি জায়েজ হবে না।

মাসআলা: ভালো পশু কেনার পর যদি এমন কোনো ত্র“টি দেখা দেয়, যার কারণে কোরবানি জায়েজ হয় না, তবে ওই পশুটি রেখে অন্য একটি পশু কিনে কোরবানি করতে হবে (যার ওপর কোরবানি ফরজ)। অবশ্য যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়, নিজেই আগ্রহ করে কোরবানি করার জন্য কেনে, সে ওই পশুই কোরবানি করবে। অন্য আরেকটি পশু কেনার প্রয়োজন নেই।

মাসআলা: কোরবানির মাংস নিজে খাওয়া এবং নিজের পরিবারবর্গকে খাওয়ানোতে কোনো দোষ নেই। আত্মীয়-স্বজনকে হাদিয়া দেওয়া এবং গরিব মিসকীনকেও দান করা ভালো। কোরবানির মাংস ভাগের সর্বোত্তম পন্থা হলো- তিন ভাগ করে এক ভাগ গরিবদের দান করা, একভাগ আত্মীয়দের দেওয়া ও একভাগ নিজে রাখা। যদি কেউ এর চেয়েও কম বা বেশি করে তাতে গুনাহ হবে না।

মাসআলা: কোরবানির চামড়া এমনিতেই দান করে দেওয়া মুস্তাহাব (ভালো)। কিন্তু যদি চামড়া বিক্রি করে, তবে এর মূল্য হিসেবে প্রাপ্য ওই টাকাটাই গরিবকে দান করতে হবে। ওই টাকা নিজে খরচ করে যদি অন্য টাকা দান করে, তবে আদায় হয়ে যাবে, কিন্তু অনুত্তম হবে।

মাসআলা: কোরবানির চামড়ার দাম মসজিদ মেরামত বা অন্য কোনো নেক কাজে খরচ করা জায়েজ নয় বরং গরিবকে দান করতে হবে।

মাসআলা: যদি চামড়া নিজের কাজে ব্যবহার করে যেমন, কিছু তৈরি করে, তবে এটাও জায়েজ আছে।

মাসআলা: কোরবানির পশু জবাইকারী ও মাংস প্রস্তুতকারীর পারিশ্রমিক আলাদাভাবে দিতে হবে, কোরবানির মাংস, চামড়া, মাথা বা পা দিয়ে এর বিনিময় দেওয়া যাবে না।

মাসআলা: কোরবানির পশুতে যদি কোনো পোশাক থাকে, তবে তা এবং সঙ্গে থাকা রশি বা দড়িও গরিবদের দান করতে হবে, নিজেদের কাজে লাগানো যাবে না।

মাসআলা: গরিবের উপর কোরবানি ওয়াজিব নয়, কিন্তু যদি কোরবানির নিয়ত করে পশু কেনে, তবে তার নিয়তের কারণে সেই পশু কোরবানি করা ওয়াজিব হয়ে যাবে।

মাসআলা: কারো কোরবানি ওয়াজিব ছিল, কিন্তু কোরবানির তিনটি দিনই চলে গেল অথচ কোরবানি করলো না। এমতাবস্থায় একটি বকরি বা ভেড়ার মূল্য দান করতে হবে। আর যদি বকরি কিনে থাকে, তবে ওই বকরিটিই দান করতে হবে।
মাসআলা: যদি কেউ কোরবানির মান্নত করে এবং যে উদ্দেশে মান্নত করেছিল সেটা যদি পূর্ণ হয়, তবে গরিব হোক বা ধনী হোক, তার ওপর ওই কোরবানি করা ওয়াজিব হবে। কিন্তু মান্নতের কোরবানির গোশত গরিব মিসকীনের হক হবে, নিজে খাওয়া যাবে না। যদি নিজে খায় বা কোনো ধনীকে দেয়, তবে যে পরিমাণ খেয়েছে বা ধনীকে দিয়েছে সেই পরিমাণ পুনরায় গরিবদের দান করতে হবে।

মাসআলা: কিন্তু যদি কোনো মৃত ব্যক্তি মৃত্যুর আগে অছিয়ত করে যায়, তবে সেই কোরবানির মাংস পুরোটাই দান করা ওয়াজিব হবে।

মাসআলা: কারো অনুপস্থিতিতে যদি অন্য কেউ তার পক্ষ থেকে তার বিনা অনুমতিতে কোরবানি করে, তবে কোরবানি হবে না। আর যদি কোনো পশুর মধ্যে অনুপস্থিত ব্যক্তির অংশ তার বিনা অনুমতিতে সাব্যস্ত করে, তবে অন্যান্য অংশীদারের কোরবানিও হবে না।

মাসআলা: যদি কোনো ছাগল কারো কাছে ভাগে বা প্রতিপালনের জন্য দেওয়া হয় এবং তার কাছ থেকে কিনে কেউ কোরবানি করে, তবে তার কোরবানি জায়েজ হবে না। কারণ, ওই লোক পশুর মালিক হয়নি। আসল মালিকই প্রকৃত মালিক। আসল মালিকের কাছ থেকে কিনলে তবে জায়েজ হবে।
মাসআলা: যদি একটি গরু কয়েকজন মিলে কোরবানি করে এবং প্রত্যেকেই গরিব-মিসকীনকে বিলিয়ে দেওয়া বা রান্না করে খাওয়ানোর নিয়ত করে, তবে সেটাও জায়েজ আছে। অবশ্য যদি ভাগ করতে হয়, তবে দাঁড়িপাল্লায় সমান ভাগ করে নিতে হবে।

মাসআলা: কোরবানির চামড়ার পয়সা পারিশ্রমকি হিসেবে দেওয়া জায়েজ নয়। কারণ, সেটা দান করে দেওয়া জরুরি।

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT