টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

কেন্দ্রে বিরোধ, তৃণমূলে সমঝোতা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১৩
  • ১৪৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আরটিএনএন…কেন্দ্রে সরকারি দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোনো সমঝোতা হবে না। বিরোধীদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের। বাদ যায়নি বিরোধী দলপন্থী পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানও। উপরন্তু খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের হুমকি জানিয়ে রাখা হয়েছে।

এদিকে মিত্র জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপিও বসে নেই। সরকার যেমন কঠোর তেমন কড়া জবাব দেয়ার সিদ্ধান্ত বিরোধীদের। মিত্রদের নিয়ে গত সপ্তাহে টানা চার দিন হরতাল পালন করেছে। আগামী সপ্তাহেও হরতাল ডাকবে তারা।

মঙ্গলবার হরতাল ডাকবে অরাজনৈতিক মিত্র হেফাজতে ইসলাম। বুধ ও বৃহস্পতিবার ডাকবে বিএনপি-জামায়াতের ১৮ দল। তারপর সাপ্তাহিক ছুটি ও বিরোধী নেতাদের জামিনে মুক্তির আশায় রবিবার পর্যন্ত অপেক্ষা। তারপর কি?

আগামী সপ্তাহের সোম বা মঙ্গলবার নাগাদ ফের হরতাল। অথবা অসহযোগ আন্দোলন। অসহযোগের পরিকল্পনাও সরকারকে কাবু করার মতো। মহাসড়ক, রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকবে। বড় বড় শহরগুলোতে অবস্থান করবে বিরোধীদলীয় কর্মীরা। দিনের পর দিন ঢাকা থাকবে বিচ্ছিন্ন।

এহেন পরিস্থিতিতেও চলছে সমঝোতার উদ্যোগ। আড়াল রেখেই কূটনীতিকরা যোগাযোগ করছেন দুই পক্ষের প্রভাবশালী আমলা রাজনীতিকদের সঙ্গে। আর প্রকাশ্যে কূটনীতিকদের সহযোগী এনজিও ও নাগরিকরা সমঝোতার জন্য সরব রয়েছেন।

তবে শেষ পর্যন্ত সমঝোতার ব্যাপারে ছাড় দিতে রাজি হচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। কিভাবে রাজি হবেন? দলীয় সরকারকে সামনে রেখেই আগামী নির্বাচনের আয়োজন করেছে সরকারি দল। বিরোধীদের ক্ষমতায় ফেরার আয়োজনে আছে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। যে পক্ষই ছাড় দিক ক্ষমতা হাতছাড়া হবে। তাই কেউ চায় না।

ক্ষমতা যার হাতেই যাক তৃণমূলে সরকারদলীয় ও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের এক সঙ্গেই বসবাস করতে হয়। একই হাটে-বাজারে ও রাস্তায় তাদের দেখা সাক্ষাত হয়। বিয়েশাদি সামাজিক উত্সবে একই পাতে খেতে হয়। যেতে হয় একই মসজিদ-মন্দিরে।

তাই ইচ্ছা হলেই একে অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়তে পারে না। একের বিপদে অপরকেই আগলে রাখতে থানা পুলিশ এবং দলীয় উগ্র কর্মী ও সন্ত্রাসীদের। প্রতিপক্ষের নিরাপত্তা ও ঝক্কি-ঝামেলায় নিতে হয় কেন্দ্রের মনোভাব বিরোধী বিতর্কিত সিদ্ধান্ত।

এখনো তাই হচ্ছে। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক সহিংসতার সময়ে তৃণমূলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ  এবং বিরোধী বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা সমঝোতা করে চলছেন।

সন্ধিও সোজা। সরকার বিরোধী বিক্ষোভ দেখানোর কারণে বিরোধীদের ওপর হামলা করবে না সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা। বিরোধীরাও হামলে পড়বে না সরকারদলীয়দের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘর বাড়িতে। পুলিশ গ্রেপ্তার করলে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনবে। ফেরার হলে আশ্রয় দেবে। জামিন পাইয়ে দিতে যোগাযোগ করিয়ে দেবে।

বিনিময়ে রয়েছে নিশ্চয়তা। ক্ষমতার হাতবদল হলে সরকারদলীয়রা বিরোধী দল হিসেবে নিরাপত্তা পাবে। থানা পুলিশে রেহাই মেলবে।

তৃণমূলের এমন সমঝোতা চেষ্টা পুরোটাই গোপনে হচ্ছে। তবে রাজনীতির ভাষায় ব্যাপারটা ‘ওপেন সিক্রেট’। চলছে কানাঘুষা, ফিসফাঁস। কিছু কিছু ঘটনা অবশ্য আড়ালে নেই।

ইতোমধ্যে বগুড়া, রাজশাহী, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ময়মনসিংহ, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন জেলায় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের সমঝোতা হয়েছে।
সমঝোতায় শুধু সরকারদলীয় নেতাকর্মীরাই নেই। আছেন স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তারাও। চিহ্নিত সরকারপন্থী হিসেবেই পদায়ন করা হয়েছিল তাদের। কিন্তু দলীয় সরকারের আনুগত্যকে ছাপিয়ে গেছে তাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের ভাবনা।

যদিও এই সন্ধিতে সরকারের উচ্চ পর্যায় নাখোশ। শাস্তিমূলক বদলির আদেশ দিচ্ছেন তারা। তবুও থেমে নেই মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন ও পুলিশের সমঝোতা।

আরটিএনএন-এর স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে সরকারি দল ও বিরোধী দলের তৃণমূলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমঝোতার বিভিন্ন খবর পাওয়া গেছে।

আমাদের শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, শরীয়তপুরের সখিপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসতাফিজুর রহমান সরদার ও থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজহারুল ইসলাম সরদার সম্পর্কে চাচা ও ভাতিজা।

সম্প্রতি বিভিন্ন হরতালে সখিপুরে বিএনপির নেতাকর্মীরা ব্যাপক তত্পরতা দেখায়। এতে স্থানীয় পুলিশ বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে মোসতাফিজুরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ কর্মীরা পুলিশ বাধা দেন।

আমাদের গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ১ থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত সরকার বিরোধী বিক্ষোভ দেখানোর ঘটনায় একটি মামলার এজাহারে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার বিএনপিপন্থি মেয়র নুরুন্নবী প্রামাণিক সাজুর নাম থাকলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের চাপের মুখে পুলিশের তত্কালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তার নাম বাদ দিতে বাধ্য হন।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, সম্প্রতি জেলায় পুলিশ, বিজিবি ও সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এতে ১৮ জন বিরোধী দলীয় কর্মী নিহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এ বি এম মামুন হোসেনও নিহত হন।

রাজনৈতিক সহিংসতার পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের সমঝোতা হয়। এ কারণে মামুন হত্যা মামলায় সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল খালেক মণ্ডল ও সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমানকে আসামি করা হলেও তাদের গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা।

প্রতিনিধি জানান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম আত্মীয়তার কারণে ও স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আবদুল খালেক ও  হাবিবুর রহমানসহ বিএনপি-জামায়াত নেতাদের গ্রেপ্তার না করার ব্যাপারে পুলিশকে চাপ দেন।

রাজশাহী প্রতিনিধি জানান, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন ও শিল্পপ্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরীসহ এ জেলার প্রায় সব সরকারদলীয় সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের সঙ্গে গোপণ সমঝোতা করেছেন।

সম্প্রতি স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা সরকার বিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচি পালনকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি গ্রেপ্তারের ব্যাপারে তারা পুলিশকে নিরুত্সাহিত করেন। ওয়ার্ড কাউন্সিলর নোমানুল ইসলাম সহ বেশ কয়েক জন বিরোধী নেতাকে গ্রেপ্তারের পর ছেড়ে দিতে পুলিশকে বাধ্য করেন তারা।

পাশাপাশি স্থানীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বিরোধীদলীয় কর্মীদের সঙ্গে সঙ্ঘাতে না জড়াতে নির্দেশ দেন কর্মীদের।

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল আজম খান চঞ্চল দলীয় সঙ্ঘাতে না জড়িয়ে বিরোধীদলীয় কর্মীদের সঙ্গে সদ্ভাব রাখার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ ও দলীয় কর্মীদের। এ কারণে স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের বদলে সমঝোতার সম্পর্ক তৈরি করেছেন সরকারদলীয় নেতারা।

এদিকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি সরকার বিরোধী আন্দোলন জোরদার হওয়ায় ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর ও কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সমঝোতার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

সমঝোতার ফলে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীরা মিছিল-সমাবেশ করতে না পারলেও আবাসিক হলে অবস্থান করতে পারছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাদের সমঝোতা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক শীর্ষ নেতার সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক নাসির ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাহিদুল ইসলাম হিরুর ও তাদের অনুসারি নেতাকর্মীদের।

এ ছাড়াও কেন্দ্রীয়, বিশ্ববিদ্যালয় ও হল শাখার ছাত্রলীগ নেতারা আঞ্চলিকতা ও ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে সমঝোতা করছেন। এই সমঝোতার কারণে আবাসিক হলগুলোতে বিপুল সংখ্যক ছাত্রদল কর্মী অবস্থান করতে পারছেন।

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT