টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
টেকনাফে ৪ প্রতিষ্ঠানকে অর্থদন্ড টেকনাফ হাসপাতালে ‘মাল্টিপারপাস হেলথ ভলান্টিয়ার প্রশিক্ষণ’ বান্দরবানে রোহিঙ্গা ‘ইয়াবা কারবারি বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত রামুতে পাহাড় ধসে ২ জনের মৃত্যু দেশের ১০ অঞ্চলে আজ ঝড়বৃষ্টি হতে পারে মাধ্যমিকে বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না: গ্রেডিং বিহীন সনদ পাবে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে রোহিঙ্গা বিষয়ক বৈঠক বৃহস্পতিবার মেজর সিনহা হত্যা মামলা বাতিল চাওয়া আবেদনের শুনানি ১০ নভেম্বর মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ক্যাশ আউট চার্জ কমানোর উদ্যোগঃ নগদ’এ ক্যাশ আউট হাজারে ৯.৯৯ টাকায় ড্রাইভিং লাইসেন্সের লিখিত পরীক্ষার স্ট্যান্ডার্ড ৮৫টি প্রশ্ন

কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে আদম পাচারকারী চক্রের তৎপরতা বৃদ্ধি

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১২
  • ১৪৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আবদুর রহিম সেলিম, কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির ভিত্তিক একটি মালয়েশিয়ায় আদম পাচারকারী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। পনের সদস্য বিশিষ্ট ওই পাচারকারী চক্র এতই শক্তিশালী যে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশি¬ষ্ট প্রশাসন একেবারেই নিরব। সম্প্রতি ওই পাচারকারী চক্র মালয়েশিয়া নেওয়ার জন্য কুতুপালং শরণার্থী শিবির থেকে ১০৫ জনের একটি দল সাগরের চোরাই পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে মিয়ানমারের আকিয়াব দ্বীপের কাছাকাছি একটি ট্রলার পানিতে ডুবে গেলে প্রায় ৩০ জন যাত্রী নিহত হয়। এ পর্যন্ত ১০ জন নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে। অবশিষ্ট ট্রলার যাত্রীরাও নিহত হওয়ার আশংকা করছে তাদের পরিবার পরিজন। এ নিয়ে কুতুপালং শরণার্থী শিবির জুড়ে বিরাজ করছে চরম উদ্বেগ উত্তেজনা। পাচারকারী চক্রের সাথে যে কোন মুহুর্তে মালয়েশিয়া যাত্রীদের আতœীয়-স্বজনের সাথে সংঘর্ষ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশংকা করছেন ক্যাম্প প্রশাসন। কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গা মহিলা এমআরসি নং-১৮৫৭০, শেড নং-৪১, বি ব¬কের সাজেদা বেগমের স্বামী নুরুল আমিন আদম পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে মিয়ানমারের আকিয়াব সাগর এলাকায় ট্রলার ডুবে নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে কুতুপালং শিবির জুড়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। তার মতে স্বামী নুরুল আমিনকে সাগরে নিয়ে ট্রলার থেকে ফেলে দিয়ে মেরে ফেলেছে। আর না হয় ট্রলার ডুবে ১০৫ জন যাত্রী নিহত হয়েছে বলে তার ধারনা। এ ঘটনা নিয়ে তার স্বামীকে পরিকল্পিত ভাবে সাগরে ফেলে দিয়ে হত্যার অভিযোগ এনে গত ২৬ জুলাই কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে এর প্রতিকার চেয়ে সংশি¬ষ্ট দপ্তর গুলোতে অভিযোগ দায়ের করা হয়। প্রায় ১৫ সদস্য বিশিষ্ট ক্যাম্প ভিত্তিক পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা পুলিশ প্রশাসন কর্তৃক বিষয়টি তদন্তের জন্য উখিয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক জয়নাল উদ্দীনকে নির্দেশ দেওয়া হয়। সাজেদা বেগম অভিযোগ করে জানান, পাচারকারী চক্রের সদস্যদের সাথে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল ও সংশি¬ষ্ট প্রশাসন ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে অথবা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে নানা পায়ঁতারা শুরু করেছে। যার ফলে ট্রলার ডুবে ১০৫ জন যাত্রী মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে নিহত হওয়ার ঘটনা বার বার চাপা পড়ে যাচ্ছে। ট্রলার ডুবে নিহত ১০৫ জনের মধ্যে ১০ জনের পরিচয় মিলেছে। তারা হলেন, সাজেদা বেগমের স্বামী নুরুল আমিন (৩৫), নুর আহমদ (৪০), মোঃ ইসলাম (৩৫), নুর কামাল (২৯), ছৈয়দ আমিন (২৫), আব্দুস সালাম (৩৪), ইয়াছিন (৩০), ইছহাক খলিল (৩৭), মোঃ জুবাইয়ের (৩৩) এদের রোহিঙ্গা নাগরিক বলে কুতুপালং ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া এদের সবার কাছ থেকে পাচারকারী চক্র ৩০-৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জন প্রতি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে পাচারকারী মোঃ রফিকের সাথে কথা বলে জানা গেছে। পাচারকারী চক্রের প্রধান হোতা মোঃ আলম, আবু ছিদ্দিক, রাইবুল¬াহ, মোঃ রফিক, মৌলভী শাহ আলম, ফরিদ উল¬াহ, শামশুল আলম, জমির আহমদ, মাষ্টার ছৈয়দ হোসেন, কামাল প্রকাশ জইল¬া কামাল, আব্দুর রাজ্জাক, ডাঃ নাজির, আইয়ুব মাঝি, আবুল কালাম সহ আরও অনেক পাচারকারী ক্যাম্পে সক্রিয় রয়েছে। সম্প্রতি মালয়েশিয়া নেওয়ার নামে ১৫ জন বিশিষ্ট ওই পাচারকারী চক্রটি বর্তমানে আবারো মালয়েশিয়ায় লোক নেওয়ার জন্য নানা তৎপরতা শুরু করেছে। ইতিপূর্বে ওই পাচারকারী চক্র প্রায় অর্ধকোটি টাকা রোহিঙ্গা শিবির থেকে হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে। শুধু কুতুপালং শিবির নয় জেলার সর্বত্রে সীমান্ত জনপদে রয়েছে তাদের সিন্ডিকেট ভিত্তিক অপতৎপরতা। এরাই বিভিন্ন সময় মালয়েশিয়া যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে বেকার যুবকদের কাছ থেকে অর্থখড়ি হাতিয়ে নিয়ে সর্বশান্ত করছে। কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির এলাকার সাবেক ইউপি মেম্বার বখতিয়ার আহমদ জানান, ক্যাম্প ভিত্তিক একটি পাচারকারী চক্র টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপের মৌ. কলিম উল্লাহর মাধ্যমে দীর্ঘদিন থেকে সক্রিয় রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে প্রশাসন জেনেও না জানার ভান করে বসে আছে। যার ফলে প্রতিনিয়ত শিবির থেকে রোহিঙ্গা বিভিন্ন চোরাই পথে বিদেশে পাচার হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের ইনচার্জ জালাল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয় স্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি তদন্তের জন্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর বাইরে আমি কিছু বলতে পারব না। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) নীলু কান্তি বড়–য়া জানান, আমি নতুন এসেছি তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT