টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

‘কী যে কষ্ট করছি!’

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০১৫
  • ২০০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
টেকনাফ নিউজ…

‘ফ্লাইট ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায়। ১৮ ঘণ্টা বিমানবন্দরে থাকার পর হোটেল দিছে। এরপর সেই ফ্লাইট নামছে আজ (গতকাল) সাড়ে তিনটায়। বিমানবন্দরের বাইরে তাঁবুতে ছিলাম। ৫০ ডিগ্রির ওপরে তাপমাত্রা। কী কষ্ট করছি, বোঝেন!’
কথাগুলো হাবিবুর রহমান নামের একজন ব্যবসায়ীর। আজ শুক্রবার বেলা ৩টা ৩৩ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানে (বিজি-২০২২) ঢাকায় ফেরেন এই হাজি। তিনি বলেন, ‘মানুষের যেন কোনো মূল্য নাই। কেউ হোটেল পাইছে, কেউ পায় নাই। আমি দেড় দিন বিমানবন্দরের বাইরের তাঁবুতে ছিলাম। খাবার নাই, পানি নাই। আর বিমানবন্দরের খাবারের দামও বেশি। সেখানে খাবার কিনে খাইছি। আজ ঢাকায় এসে দেখি বাড়ি যাওয়ারও টাকা নাই।’
বাংলাদেশ বিমানে করে ঢাকায় ফেরা সব হাজির চোখে-মুখেই ছিল বিরক্তির ছাপ। কাছ থেকে মৃত্যুকে দেখার ব্যথার পর বিমানবন্দরে স্বজনদের পেয়ে হাজিরা আপ্লুত হয়ে পড়েন। আর কোনো সাংবাদিককে পেলেই তাঁরা অকপটে বলছিলেন তাঁদের জেদ্দা থেকে ঢাকা পর্যন্ত দুর্ভোগের কথা। অনেক যাত্রীকে ফ্লাইট ধরতে ১৮ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্ব করতে হয়েছে। সৌদি পুলিশ ও বাংলাদেশ বিমানের অনেক কর্মকর্তা তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ করেন অনেক হাজি।
আবদুল লতিফ নামের একজন হাজি জানালেন, তাঁদের ফ্লাইট ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায়। ফ্লাইট ধরতে তাঁরা এর দুই ঘণ্টা আগে জেদ্দা বিমানবন্দরে আসেন। ১৮ ঘণ্টা বিমানবন্দরে অপেক্ষার পরও তাঁদের ফ্লাইট দেয়নি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ। ওই ১৮ ঘণ্টা তাঁরা তীব্র গরমের মধ্যে জেদ্দা বিমানবন্দরের বাইরের টাঙানো তাঁবুতে ছিলেন। পরে তাঁদের হোটেল দেওয়া হয়। তবে সেখানেও তিনজনের থাকার কক্ষে তাঁদের ১২-১৫ জনকে থাকতে হয়েছে। এরপর গতকাল রাত ১২টায় তাঁদের আবার বিমানবন্দরে আনা হয়। এরপরও ৬ ঘণ্টা বিলম্বে ভোর সাড়ে ছয়টায় ঢাকার উদ্দেশে তাঁদের বিমান ঢাকা ত্যাগ করে।
আজ শুক্রবার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২-এর ভেতরের কনকোর্স হলের চেয়ার ও মেঝেতে অনেক হাজিকে বসে থাকতে দেখা যায়। সন্ধ্যার পর অনেক হাজিকে সেখানে মাদুর পেতে বসে থাকতে দেখা যায়। সেখানে যাঁরা অপেক্ষা করছিলেন তাঁরা কেউই লাগেজ পাননি।
কনকোর্স হলে বসে থাকা মনিরুল ইসলাম নামের একজন হাজি বলেন, ‘৪৮ ঘণ্টা পর ফ্লাইট পাইছি। এখন বলতাছে তিন দিন পর লাগেজ দিব। কই যাইয়াম।’ লাগেজের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাপড় ও সৌদি থেকে কেনা আতর, জায়নামাজ, তসবিহ ও মিসওয়াক রয়েছে জানান তিনি। এ ছাড়া টার্মিনাল-২-এর সামনের নামাজের ঘরেও অনেক হাজিকে লাগেজের জন্য বসে থাকতে দেখা যায়।
কনকোর্স হলের সামনের কনভেয়ার বেল্টের দুদিকে লাগেজের স্তূপ পড়ে ছিল। সেখানে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক সদস্য জানালেন, ‘হাজিদের বেশির ভাগই বয়স্ক। নিজেদের লাগেজই তাঁরা চিনতে পারেন না। এ কারণে লাগেজগুলো পড়ে রয়েছে। এগুলো লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেকশনে দিয়ে দেওয়া হবে। সেখান থেকে হাজিরা নিয়ে যাবেন।’
ছেলে মাহদী ও স্ত্রী সাহেদা রহমানকে নিয়ে হজ থেকে ফিরেছেন বাংলাদেশ সরকারের সাবেক যুগ্ম সচিব হাবিবুর রহমান। ঢাকায় ফিরে লাগেজের হদিস পাননি তিনি। তিনজন হাতব্যাগ নিয়ে ফেরত যাচ্ছিলেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সৌদি সরকারের কোনো ব্যবস্থাপনা নাই। বাংলাদেশ বিমানেরও নাই। বলছে তিন দিন পর পাব।’ মাহদী বলেন, ‘বিমানের লোকজন একেক সময় একেক কথা কইছে। আর জেদ্দা এয়ারপোর্টে পুলিশ থাকতে দেয়নি। বাবা অসুস্থ হয়ে গেছে। পুলিশ ভাষা বুঝে না। কী যে করুণ অবস্থা, না দেখলে বিশ্বাস করতে পারবেন না।’
কেমন ছিল সেখানকার পরিবেশ? জানতে চাইলে আজাদ কামাল নামের একজন হাজি বলেন, ‘জেদ্দা বিমানবন্দরের বাইরে থাকা হাজিদের মধ্যে খাবার নিয়ে কাড়াকাড়ি পর্যন্ত হইছে। কেউ খোঁজ-খবর নিলে এমন কি হয়।’
আহমেদ ফারুক নামের একজন হাজি বলেন, তাঁরা ১১ জন আত্মীয়স্বজন একত্রে হজে গিয়েছিলেন। কিন্তু আসতে পেরেছেন মাত্র দুজন। অন্যরা কোথায় আছে সেটা তিনি জানেন না। তিনি বলেন, ‘জেদ্দায় এত বিশৃঙ্খলা যে, কার কোন ফ্লাইট, এটা কেউ মানছে না। আমার ছিল অন্য একটি ফ্লাইট। আমি এই ফ্লাইটে (বিজি-২০২২) চলে আসছি।’
হাজিদের সঙ্গে কথা বলার সময় দেখা মিলল হাফেজ লাল মিয়া নামের একজন মুয়াল্লিমের, যিনি প্রতিবছর মুয়াল্লিমের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাসা থেকে বের হওয়া থেকে শুরু করে জেদ্দা এয়ারপোর্টে বিমান ছাড়া পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টা বিলম্ব হইছে।’ অনেক হাজি অভিযোগ করেছেন আপনারা তাঁদের কোনো সহযোগিতা করেন না—এমন প্রশ্নের জবাবে লাল মিয়ার সরল স্বীকারোক্তি, ‘মুয়াল্লিমদের মধ্যে ৯৮ ভাগ ২ নম্বর। এজেন্সি যে নির্দেশনা দেয়, তারা সেটা পালন করে। আর এবার সৌদি সরকার জেদ্দা বিমানবন্দরে কড়াকড়ি আরোপ করায় হাজিদের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হইছে।’
আজ বাংলাদেশ বিমানের দুটি এবং সৌদি এয়ারলাইনসের তিনটি ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণ করে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT