টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :

‘কিভাবে রাজাকার চিনবেন’

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
  • ২৫৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
‘ডাইনিং টেবিলেও তারা ষড়যন্ত্রপ্রবণ হন। আপনি যদি তাদের মাছ অথবা উটের মাংস খেতে দেন তবে বেশি সম্ভাবনা যে তারা উটের মাংস খেতে চাইবেন। খাওয়ার শেষে ছিলমচিতে হাত ধোয়া তাদের একটি ট্রেডমার্ক।’ এভাবেই রাজাকারদের চিত্রায়িত করা হয়েছে ঢাকার ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের শুক্রবার প্রকাশিত সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনের একটি লেখায়। ‘চিন্তিত’ (Chintito)এর লেখা ‘হাও টু হান্ট এ রাজাকার’ শীর্ষক লেখাটি পুনঃমুদ্রণ করা হয়েছে। সাত বছর আগে তা লেখা হয়েছিলো। এতে বলা হয়েছে, মানুষ যখন হাঁটে তখন তাদের দিকে চোখ রাখুন। শহীদ মিনারের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় যে গতি বাড়িয়ে দেন তাকে উটের মাংস খাওয়ার কথা বলুন। যদি সে শুকরিয়া বলে তা গ্রহণ করে তবে তার সঙ্গে কথা শুরু করুন। যদি কাউকে এদিক সেদিক করতে দেখেন তবে তার পিছু নেন। তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিন। এজন্য অনুতপ্ত হবেন না। ধাক্কার পর যদি তিনি ওরে বাবাগো-মাগো বলে চিৎকার করে উঠেন তবে আপনি বুঝবেন আপনি সঠিক অপরাধীকেই চিহ্নিত করতে পেরেছেন। বিপদে পড়লে রাজাকাররাও মাতৃভাষায় কথা বলে। এতে বলা হয়েছে, একটি গোষ্ঠীর অপকর্মের কারণে ইসলামের ইতিহাসে ভাল অর্থে ব্যবহৃত কোন শব্দ যদি কোন ভাষায় অপমানজনক অর্থে ব্যবহৃত হয় তা হলো রাজাকার। ১৯৭১ সালে বাংলাভাষার ব্যবহারকারী ওই পাকিস্তানিরা অস্ত্র তুলে নিয়েছিল একই ভাষা ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে। তারা হয়রানি করে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে, হত্যা করে বেসামরিক নাগরিকদের, ধর্ষণ করে সোনার বাংলার আত্মাকে। আক্রমণ করেছিল অসহায় মা-বোনদের। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরের পর থেকে নিজেদের জীবনের ভয়ে সাধারণ মানুষদের সঙ্গে মিশে যায় রাজাকাররা। ১৯৭২ সালের শুরুর দিকে বঙ্গবন্ধুর মহত্ত্বকে ভুল অর্থে বুঝেন রাজাকাররা। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী গৃহবিবাদকে যারা নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন তাদের অসৎ উদ্দেশ্য ব্যর্থ করে দিতেই বঙ্গবন্ধু এ সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। এতদিন পরেও রাজাকাররা ছদ্মবেশ ধারণ করে আছেন। তারা তাদের উপলব্ধিতে কোন পরিবর্তন আনেননি। রাজাকারদের চিহ্নিত করা একটি সত্যিকারের দাবি। এ অনুসন্ধানের পূর্বশর্ত হচ্ছে অনুসন্ধানকারী তাদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না। এখন দেখুন। এটা একটা সমস্যা বটে তারা আমাদের মতোই জামাকাপড় পরিধান করে, আমাদের মতোই খায়। এমনকি তারা আমাদের মতোই কথা বলেন। একজন রাজাকার অনুসন্ধানকারী হিসেবে আপনাকে তাদের খাওয়া, জামাকাপড়, হাঁটা এবং কথা বলার দিকে তীক্ষè দৃষ্টি রাখতে হবে। শ্মশ্রুমণ্ডিত ব্যক্তিদের কাছে যাওয়া প্রথম ভুল হতে পারে। কিছু কিছু রাজাকার এমন ক্লিন সেভ করা যে এমনকি ফরাসি কোম্পানিগুলোও তাদের প্রতি আগ্রহ দেখাতে পারে। তারা কোন পত্রিকার পাঠক তা দেখেও আপনি তাদের চিহ্নিত করতে পারেন। তারা সেসব পত্রিকা বা ম্যাগাজিন পড়ে থাকেন যেসব পত্রিকা বঙ্গবন্ধু লেখে না, যেসব পত্রিকা বিজয় দিবসের খবর সেকেন্ড লিড করে থাকে। এত বছর পর নাৎসীদের বিচারের প্রশংসা করেন রাজাকাররা। তবে তাদের নিজেদের বিচারের ইস্যুটিকে এতদিন পর  সামনে নিয়ে আসার কোন কারণ দেখতে পান না তারা। বঙ্গবন্ধু হত্যাযজ্ঞ নিয়ে কথা বললেই তাদের মুখোশ উন্মোচিত হতে দেখবেন আপনি। গত দুই যুগ ধরে প্রকাশিত পাঠ্যবই পরিস্থিতির অবনতিতে বিরাট ভূমিকা রেখেছে। পাকিস্তানিরা তাদের বন্ধুদের সহযোগিতায় কিভাবে এ অঞ্চল থেকে সম্পদ লুণ্ঠন করেছিলো তার বর্ণনা পাঠ্য বইয়ে নেই। সাত বছর আগের পরিস্থিতিতে এতে বলা হয়েছে, বিটিভি টেস্ট বোঝার জন্য আমি পায়ের দিকে খেয়াল রাখি। দেখি জাতীয় স্মৃতিসৌধের কথা বলার পরই উপস্থাপকের পা এদিক-সেদিক করে, মুক্তিযোদ্ধার কথা বলা হলে সে নাক টানাটানি করে, রক্ত দিয়ে লেখা নাম বেজে উঠলে সে টিভি ত্যাগ করে।
– ডেইলী স্টার অবলম্বনে –44360_raj

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT