টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
২৩ জন রোহিঙ্গা ও টেকনাফের ৬ জনসহ ১৭ মে জেলায় ১১০ জন করোনা রোগী শনাক্ত কোয়ারেন্টাইনে তরুণীকে ধর্ষণ : সেই এএসআই বরখাস্ত ফিলিস্তিনে মানবাধিকার লঙ্ঘন চোখে পড়েনি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের’ সচিবালয়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখল প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সাবরাংয়ের জাফর ও রফিক ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার বাড়ছে তাপমাত্রা সঙ্গে দাবদাহ ও অস্বস্তি: থাকবে ৫ দিন টেকনাফে শাহজাহান চৌধুরীর ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়,ইউনিটে ইউনিটে খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া কওমি মাদ্রাসায় সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখার নির্দেশ লকডাউনে ব্যাংকিং কার্যক্রম চলবে যেভাবে টেকনাফে শাহজাহান চৌধুরীর ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়, ইউনিটে ইউনিটে খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া

“কার হাতে থুইয়া গেলারে, হায়রে স্বামী”

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
  • ১১৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
টেকনাফ নিউজ ডেস্ক **

ঈদ করতে শনিবারই টাঙ্গাইলের বাড়িতে পৌঁছানোর কথা জহিরুল ইসলামের।শুক্রবার রাতের পালায় টঙ্গীর টাম্পাকো নামের প্যাকেজিং কারখানায় কাজ করছিলেন তিনি।সকালে কাজ শেষেই বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবেন।টাঙ্গাইলে তার অপেক্ষায় ছিলেন স্ত্রী নুরুন্নাহার ও ছয় বছরের শিশুকন্যা।সকালে বয়লার বিস্ফোরণের ফলে আগুন ধরে যাওয়ার পর থেকেই আর খোঁজ নেই মি. ইসলামের।তাই স্বামীকে খুঁজতে ঢাকায় চলে এসেছেন নুরুন্নাহার।গতকাল রাতভর ঢাকার হাসপাতালে হাসপাতালে ছুটে বেরিয়েছেন।কোথাও খুঁজে না পেয়ে দুপুরবেলা টঙ্গী স্টেশন রোডের একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে বিলাপ করছিলেন।হাতে স্বামীর লেমিনেটিং করা একটি রঙিন ছবি।এই প্রতিবেদনের শিরোনাম তার বিলাপেরই ভাষা।

আরেকটু দূরে আহসানউল্লাহ মাস্টার ফ্লাইওভারের একটি পিলারের গোঁড়ায় বেশ কয়েকজন এই ব্যক্তিটির নাম রাজেশ বাবু।তিনি ছিল টাম্পাকোর একজন পরিচ্ছন্ন কর্মী।সকালের পালায় কাজ করবার জন্য একটু আগে ভাগেই কারখানায় গিয়েছিলেন তিনি।তিনিও দুর্ঘটনায় নিখোঁজদের একজন।”বাংলাদেশ মেডিকেল, টঙ্গী মেডিকেল, কুর্মিটোলা, ঢাকা মেডিকেল—কোনো জায়গা বাদ দিইনি। সারারাত আমরা খুঁজেছি। সারা রাত। নাই আমার বাচ্চা”। আমাকে বলছিলেন আর বিলাপ করছিলেন রাজেশের মা মীনা রানী।”এখন একটু আমাগো ঢুকতে দেন। একটু হাতায় মাতায় দেখি। কিচ্ছুতো পাব। একটু মনকে বুঝ দিমু। এইহানে বইয়া কী করি? সবাইরে দেখি। আমার বাচ্চারে তো দেখি না”।মীনা রানী জানাচ্ছেন, বাড়িতে রাজেশের স্ত্রী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।তিনি একটু পর পর স্বামীর খোঁজ করছেন, আর না পেয়ে অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন।”কী জবাব দেব বউয়ের কাছে, কন আপনারা? আমি তো এখানে ফকিরের মত বইয়া রইছি। লজ্জায় ঘরে যাইতেছি না”। বলছেন মীনা রানী।ভবনটির ভেতরে ঠিক কি পরিমাণে মানুষ আটকা পড়েছে তা স্পষ্ট নয়, জহিরুল ইসলামের স্ত্রী বা রাজেশের মায়ের মত আরও কিছু মানুষকে ছবি হাতে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে কারখানাটির আশপাশে।দুর্ঘটনাস্থলের কাছে একটি সরকারি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে গাজীপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হোসেন বলছেন, তারা ১০ জন নিখোঁজ ব্যক্তির বিস্তারিত লিপিবদ্ধ করেছেন।তবে কারখানাটির একজন পুরনো কর্মী রফিকুল ইসলামের ভাষ্যমতে তার হিসেবেই বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ফলে ধসে পড়া ভবনটির ভেতরে অন্তত ৫০ জন মানুষ আটকে পড়েছে, যাদের কোন খোঁজ নেই।রফিকুল ইসলামের চাচা মোহাম্মদ ইসমাইলও কারখানাটির একজন পুরনো কর্মী এবং দুর্ঘটনার সময় তিনি কারখানাটির ভেতরেই ছিলেন।তাকেও এখনো পাওয়া যাচ্ছে না।রফিকুল ইসলামের ধারণা, তার চাচা-সহ বাকী যারা নিখোঁজ রয়েছেন তাদের সবাইই কারখানাটির ভেতরে আটকে পড়েছেন।৩৬ ঘণ্টার বেশী সময় ধরে যে ভবনটিতে আগুন জ্বলছে, যে ভবনটির বেশীরভাগ অংশই ধসে পড়েছে, সেই ভবনটির ভেতরে যদি কোন মানুষ আটকে পড়ে তাদের ভাগ্যে কি ঘটে থাকতে পারে?বলবার অপেক্ষা রাখে না!

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT