টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

কাছে পেয়েও ধরলেন না বৌদ্ধ জনপদে হামলাকারী জামায়াত নেতা তোফাইল কে ঃ বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে জামায়াত তার ‘অভ্যুত্থান’

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১২
  • ১০৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার…………..tofayel-chaসকাল সাড়ে আটটা। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে শুরু হতে যাচ্ছে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ। পতাকা উত্তোলনের জন্য প্রস্তুত ইউএনও, পাশে দাঁড়িয়ে ওসি। এ সময় ‘ধূমকেতুর’ মতো সেখানে এসে হাজির হন রামুর বৌদ্ধপল্লীর ভয়াল ঘটনার পর পলাতক জামায়াত নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান তোফাইল আহমদ। তিনি তিলমাত্র দেরি না করে খুঁটির সামনে দাঁড়িয়ে তুলতে থাকেন লাখো শহীদের রক্তে আঁকা জাতীয় পতাকা। তোফাইলের সঙ্গে আসা দেড়-দু’শ জামায়াত-শিবিরকর্মী ঝটিকা বেগে ততক্ষণে স্কুলমাঠটির চারদিক ঘিরে অবস্থান নিয়েছে। তোফাইল এরপর মাইক্রোফোন হাতে তুলে ইউএনও-ওসির মাঝখানে দাঁড়িয়ে খানিকক্ষণ ‘বিজয় দিবস’ নিয়ে বক্তব্য দেন। ১০/১৫ মিনিট ধরে এ অভ্যুত্থান ঘটিয়ে বীরদর্পে চলে যান বৌদ্ধপল্লীতে চালানো ধ্বংসযজ্ঞের অন্যতম পরিকল্পনাকারী এবং চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর এইট মার্ডার মামলার আসামি তোফাইল।

রামুর বৌদ্ধমন্দির ও বসতিতে অগ্নিসংযোগ এবং হামলার ঘটনার প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে তদন্ত কমিটির রিপোর্টে নাম প্রকাশের পর থেকেই গত দুমাস জামায়াত নেতা তোফাইল আহমদ গা ঢাকা দিয়েছিলেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ বারবার অভিযান চালিয়ে আসছিল। এরকম অবস্থায় রবিবার বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁকে কাছে পেয়েও পুলিশ ও প্রশাসনের নীরবতায় এলাকার মানুষ হতবাক। তাঁর দম্ভভরা উপস্থিতি ও পতাকা উত্তোলনে অপমানিতও বোধ করছে তারা। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে অতর্কিতে জামায়াত নেতা তোফাইল আহমদের উপস্থিতি প্রসঙ্গে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি এ এস এম আজাদ বলেন, ‘সকাল সাড়ে আটটার সময় নাইক্ষ্যংছড়ি হাই স্কুলমাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একদম ধূমকেতুর মতো করেই তিনি উপস্থিত হয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং বক্তব্য দিয়ে আবার গা ঢাকা দেন।’

তাঁকে আটক করা হলো না কেন এ প্রশ্নে ওসি বলেন, ‘আমরা একে তো অপ্রস্তুত ছিলাম তদুপরি আটকের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যেমন আদেশ ছিল না, মামলাসংক্রান্ত কোনো কাগজপত্রও আমাদের দেওয়া হয়নি।’ তবে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি নিষ্ক্রিয় থাকলেও তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে পতাকা উত্তোলন এবং বক্তব্য রাখার খবর পেয়ে তোফাইলকে গ্রেপ্তারের জন্য কক্সবাজার জেলা শহর থেকে পুলিশ গিয়ে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালায়। কিন্তু ফল শূন্য। নাইক্ষ্যংছড়ির ওসি ‘মামলাসংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র দেওয়া হয়নি’ বললেও কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিশ্চিত করে জানান, ‘রামু থানায় দায়েরকৃত রামু সীমা বিহার পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় (মামলা নং-৪১(১০)১২) জামায়াত নেতা তোফাইল আহমদকে গ্রেপ্তারের জন্য অনুসন্ধানপত্র (ইনকোয়্যারি ¯ি¬প) নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমদ জামিল জানিয়েছেন ভিন্নকথা। তিনি বলেন, ‘গত দুদিন ধরে উপজেলা চেয়ারম্যান তোফাইল আহমদ আমার সঙ্গে মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কথা বলে জানান, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত হবেন।’ এই সুযোগে তাঁকে গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ কেন নেননি এ প্রশ্নের জবাবে ইউএনও যুক্তি দেখান, ‘উপজেলা চেয়ারম্যান (তোফাইল) স¤পর্কে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে তিনি রামুর বৌদ্ধপল্লীর ঘটনার সঙ্গে জড়িত মর্মে জেনেছি এবং শুনেছিও। কিন্তু এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন মহল থেকে কোনো আদেশ আমার কাছে নেই।’ ইউএনওর ধারণা তোফাইল সম্ভবত ওইভাবে পালিয়েও বেড়াচ্ছেন না। তার কাছে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর করা ফাইলপত্রও আসে। ইউএনও বলেন, ‘তিনি অফিসে অনুপস্থিত থাকলেও সম্ভবত বাসায় অবস্থান করে ফাইলপত্রে যথারীতি স্বাক্ষর করেন।’

বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখেই দ্রুত কেটে পড়ার সময় তোফাইল ওসিকে বলেন, ‘নাস্তা খাই নাই।’ ইউএনও বলেন, ‘চেয়ারম্যান পরে আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, ভাই গতরাতে ঘুম হয় নাই। তাই আর আসব না। বাকি অনুষ্ঠান আপনারা চালিয়ে দেন।’

কক্সজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বাবুল আকতার গতকাল জানান, জামায়াত নেতা তোফাইল আহমদকে গ্রেপ্তারের জন্য কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে। গতকাল নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠনে উপস্থিত হওয়ার সংবাদ পাওয়ার পর কক্সবাজার থেকে ডিবি পুলিশের একটি দল স্থানীয় থানার পুলিশ নিয়ে অভিযান চালিয়েও তাঁকে আটক করতে পারেনি।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিজয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বক্তা তোফাইল-কাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা রাজা মিয়া বলেন, ‘আজ স্বাধীন দেশের পতাকাটিকে আরেকবার অবমাননা করা হয়েছে একজন পলাতক ব্যক্তির ছোঁয়ায়।’ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডা. মো. ইসমাইল, উপজেলা বিএনপির যুগ্মস¤পাদক কামাল উদ্দিন, যুবলীগ নেতা হোসাইন আহমদ, ছাত্রলীগ নেতা সুসম মারমা, সাইফুদ্দিন মামুন, আওয়ামী লীগ নেতা খাইরুল বশরসহ অন্য বক্তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT