টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

কলাতলীতে প্রতারক চক্র সক্রিয়

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৩
  • ১৩০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

বার্তা পরিবেশক: কক্সবাজারের কলাতলী এলাকায় একটি প্রতারক চক্র একই জমি একাধিক ব্যক্তি প্রতিষ্টানের সাথে চুক্তি করে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রতারকরা রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেলেও চরমভাবে হয়রানীর শিকার হচ্ছে অনেক সহজ সরল বিনিয়োগকারী। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকার জনৈক মনজুর আলম ও নুরুল আলম গং দীর্ঘদিন ধরে দেশ ও দেশের বাইরের বিভিন্ন ব্যক্তি এবং ডেভেলপার প্রতিষ্টানের কাছে ভূমি উন্নয়নের কথা বলে কৌশলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অভিযোগ আছে, ওই গং একই দাগ ও একই খতিয়ানের জমি লোভের বশবতি হয়ে একাধিক প্রতিষ্টানের সাথে চুক্তি করে। ২০০৮ সালে  ৪ মে ডেভেলপার কোম্পানী আরএফ প্রোপাটিজ লি: এর চেয়ারম্যান হাজী দেলোয়ার হোসেনের সাথে চুক্তি হয়।  যার নং-১৬৩৭ ও ১৬৩৮। এই চুক্তি নামামুলে দুই একর ২৬ শতক জমি চুক্তি করা হয়। যেখানে লেখা আছে, ডেভেলপার কোম্পানী পাবে ৭০ শতাংশ ও জমির মালিক পাবে ৩০ শতাংশ। ঠিক তার পরেরদিন একই দাগ একই জমিগুলো রিসোর্ট ডেভেলাপম্যান্ট এন্ড সার্ভিস লি: নামে একটি প্রতিষ্টানের সাথে চুক্তি করেন মনজুর আলম ও নুরুল আলম গং। যার চুক্তি নং-১৬৭৩। এরপরও থেমে থাকেনি প্রতারক চক্রটি। ২০১০ সালে ৬ জুন সাউথইস্ট ল্যান্ডমার্ক লি: নামে অপর একটি প্রতিষ্টানের সাথে ওই জমি চুক্তি করে। যার নং-৩১৪৮। এরপর ২০১১ সালের ২২ মার্চ একর্ড হোল্ডিং লি: নামে আরেকটি চুক্তি সম্পাদন করে। যার নং-১৬৯০। একইভাবে ইনডেস্ক ডেভেলপার লি: এর সাথে ২০১১ সালের ৭ জুলাই আবারও চুক্তি বদ্ধ হয়। যার চুক্তি নং- ৬২৮৫। এরপর একই জমি সবশেষ এটলার্স ডেভেলাপম্যান্ট নামে আরেকটি প্রতিষ্টানের সাথে চুক্তি নামা করা হয়। তবে এসব চুক্তিতে প্রায় ১০ একর জমি বিভিন্ন পরিমানে প্রতিষ্টানগুলোর সাথে চুক্তি করেন কৌশলী এই প্রতারক চক্র। তবে জানা গেছে, তাদের নামে বিভিন্ন খতিয়ানে মোট জমি রয়েছে মাত্র আড়াই একর। তৎমধ্যে সরকার দেড় একর জমি অধিগ্রহন করে নেয়। এরপর বর্তমানে প্রায় এক একর জমি অবশিষ্ট রয়েছে। কিন্তু তারা উপরলোক্ষিত ব্যবসা প্রতিষ্টান গুলোর কাছে প্রায় ১০ একর পরিমান জমি চুক্তি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছে চুক্তিসম্পাদনকারীরা। আর এসব সহজ সরল বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন পর্দার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে। শুধু তাই নয়, যারা কোটি কোটি টাকা দিয়ে তাদের কাছ থেকে জমির চুক্তি করেছে তাদের বিরুদ্ধেই এখন উল্টো মিথ্যা ও হয়রানীমুলক মামলা দিচ্ছে। এতে অসহায় হয়ে পড়েছে সহজ সরল এসব বিনিয়োগকারী। প্রতারনার শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্থরা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানিয়ে বলছেন, শীঘ্রই এসব অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে এই মনজুর আলম ও নুরুল আলম গং এর দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দেয়া হউক। এদিকে জমি চুক্তি করে প্রতারনার শিকার হওয়া আরএফ বিল্ডার্স লি: এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাজী দেলোয়ার হোসেনের কাছ থেকে ৭০ কোটি টাকা চাঁদা দাবী করে বসে মনজুর ও নুরুল আলম গং। আরএফ কর্তৃপক্ষ তাদের দাবীকৃত চাঁদার টাকা না দেয়ায় উল্টো প্রজেক্টে হামলা ও লুটপাট চালিয়ে থানায় প্রতিষ্টানের চেয়ারম্যান এবং কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরেুদ্ধে চাঁদাদাবীর মামলা দায়ের করে। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় নানাভাবে অভিযোগ দায়ের পূর্বক হয়রানী করা হয় তাদের। এমন অভিযোগ তুলেছেন আরএফ প্রোপার্টিজ লি: এর চেয়ারম্যান হাজী দেলোয়ার হোসেন। অভিযোগে তিনি আরো জানান, ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিতায় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসককে নির্মাণাধীন আরএফ ওয়ার্ল্ড বীচ প্রকল্পে কাজের গুনগত মানের প্রশ্ন তুলে মিথ্যা ও হয়রানী মুলক একটি অভিযোগ দায়ের করে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত  ২২ এপ্রিল মোঃ রাজিবুল আলমের নেতৃত্বে একটি দল গিয়ে ভবনের কাজ বন্ধ করে দেন। এতে চরমভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হতে হচ্ছে তাদের। তিনি এসব হয়রানী থেকে পরিত্রান পেতে প্রশাসনের সার্বিক সহযোগীতা কামনা করেছেন। ইতোমধ্যে হাজী দেলোয়ার হোসেন প্রধানমন্ত্রী,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, দুদক, র‌্যাব হেডকোয়াটার পুলিশের আইজি ও রিহ্যাব সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT