টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

কবির সওদাগরের নেতৃত্বে কক্সবাজারে জাতীয় পার্টির চাঙ্গাভাব

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ২১ নভেম্বর, ২০১২
  • ১১৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার /
আলহাজ্ব কবির আহমদ সওদাগর। দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন ১৩ বছর। কক্সবাজার শহরের বিলাসবহুল হোটেল সী-কুইন এর স্বত্ত্বাধীকারী তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে খুবই হাস্যোজ্জ্বল ও পরোপকারী কবির সওদাগরের রাজনৈতিক পারদর্শীতা তাকে করে দিয়েছে কক্সবাজার জেলা জাতীয় পার্টির কর্ণধার।
জনশ্রুতি আছে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করেন কবির সওদাগরকে। ফলে সময় আর অসময়ে সবসময় দলীয় আনুগত্যশীল কবির আহমদ সওদাগরের মালিকানাধীন হোটেল, বাড়ি, গাড়ি সবই দলের জন্য নিবেদিত। তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানান, এই কারণেই কক্সবাজার জেলা জাতীয় পার্টি ও অঙ্গসংগঠনের সকল নেতারা একবাক্যেই স্বীকার করেন কক্সবাজারে জাতীয় পার্টি মানে কবির সওদাগর, আর কবির সওদাগর মানে জাতীয় পার্টি। পরিবেশ অনুকুলে থাকলে আগামিতে যে তিনি মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের এমপি নির্বাচিত হবেন। আমাদের নেতা এরশাদ সাহেব তাই উপলব্ধি করে তাকে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে যথার্থই করেছেন। আগামি নির্বাচনে দলমত নির্বিশেষে আমরা কবির সওদাগরের প্রতীক লাঙ্গল মার্কায় ভোট দিয়ে  গ্রাম-বাংলার দরদী জননেতা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকেই ক্ষমতায় আনব ইনশাআল্লাহ।
দীর্ঘদিন ঝিমিয়ে থাকা রাজনৈতিক অঙ্গনে আকস্মিক জাতীয় পার্টির উত্থান ও কবির সওদাগর প্রসঙ্গে লোকমুখে এমনই আভাসের সূত্র ধরে এই প্রতিবেদক তার মুখোমুখি হলে তিনি এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতকার দেন। এক প্রশ্নের জবাবে কবির আহমদ সওদাগর দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, এরশাদ আমার নেতা। লাঙ্গল আমার প্রতীক। জাতীয় পার্টি ও অঙ্গসংগঠনের সকল নেতাকর্মী আমার হৃদয়ের স্পন্দন। তাই দলের পক্ষ থেকে যখন যে সিদ্ধান্ত আসবে আমরা তাই পালন করতে পারব ইনশাল্লাহ। এসময় জনাব কবির আহমদ কিছুদিন আগের কক্সবাজার জাতীয় পার্টির ইতিহাস টেনে জানান, তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে কক্সবাজার শহরসহ উপজেলার গ্রামে গঞ্জে পর্যন্ত জাতীয় পার্টি সংগঠিত হয়ে উঠছে। ক্রমেই তারা সংঘবদ্ধ হয়ে জেলার ৮ উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড কার্যক্রম জোরদার করেছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামি ডিসেম্বরের মধ্যে কক্সবাজার জেলার সকল ওয়ার্ডে পার্টির শক্তিশালী কমিটি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে কবির সওদাগর আরো বলেন, ক্ষমতার জন্য নয়, জনতার জন্যই আমার রাজনীতি। দীর্ঘদিন নিজ এলাকা কুতুবজোমের ইউপি চেয়ারম্যান থাকাকালে তিনি সেখানে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন বলে দাবি করে বলেন, জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও মহেশখালী-কুতুবদিয়াবাসির পাশে থাকব। এমপি নির্বাচিত হলে মহেশখালী-কুতুবদিয়াকে তিলোত্তমা শহরে পরিণত করা হবে বলে জানিয়ে কবির সওদাগর আরো বলেন, ১৯৮৫ সালে আমার প্রতিষ্ঠিত কক্সবাজার কেজি এন্ড প্রি-ক্যাডেট মডেল হাইস্কুলের একটি অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এসেছিলেন। তখন তিনি স্কুলে পঞ্চাশ হাজার টাকার অনুদানের একটি চেকও আমাকে প্রদান করেছিলেন। সেনাবাহিনীর একটি জেনারেল হয়ে প্রেসিডেন্ট এরশাদ সাধারণ মানুষের সাথে যেভাবে মিশেছিলেন। তাঁর সেই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে আমার যোগদান। এরপর থেকে আমার নেতা এরশাদ যতবার কক্সবাজার এসেছেন, ততবারই আমার হোটেলে রাত্রি যাপন করেছেন। সুখে-দুঃখে আমাকে মানুষের পাশে থাকার শিক্ষা দিয়ে এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচনের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। আল্লাহর রহমতে গরিব¬-দুঃখী মেহনতী মানুষের ভোটে আমি ১৩ বৎসর কুতুবজোম ইউপির চেয়ারম্যান ছিলাম। চেষ্টা করেছি মানুষের উপকারে। শুধু জাতীয় পার্টি করতাম বলেই জীবনে বহুবার মিথ্যা মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছি। তবুও আদর্শের নেতা এরশাদের দল জাতীয় পার্টির হাল ছাড়িনি। ভবিষ্যতেও যতদিন বাঁচব এই দলের হাত ধরে চেষ্টা করব মনুষের উপকার করতে।
বয়সের দিক দিয়ে আনুমানিক ৭০ বছরের মত হলেও চলনে-বলনে মানসিকভাবে শক্তিশালী জাতীয় পার্টির এই কান্ডারীর সাথে সাক্ষাতকারের সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, দলের কক্সবাজার জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক ও শহর জাতীয় পার্টির সভাপতি কামাল উদ্দিন।
কামাল উদ্দিন বলেন, কবির আহমদ সওদারগকে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকে কক্সবাজারের জাতীয় পার্টি আগের অবস্থায় নেই। এখন আমরা এগিয়ে গেছি অনেক দূর। তিনি আরো বলেন, চেয়ারম্যান থাকা কালে একমাত্র কবির আহমদই এমন জনপ্রতিনিধি ছিলেন, যিনি কোনদিন বিচারে পক্ষ অবলম্বন করতেন না। ন্যায় বিচারক কবির আহমদ সওদাগর এলাকার উন্নয়নের রূপকারও বটে। সরকারি বেসরকারি যেভাবেই হোক তিনিইতো একমাত্র নেতা যিনি সবসময় মানুষকে দেন।
উল্লেখ্য, এসময় জাতীয় পার্টির মহেশখালী উপজেলা আহ্বায় নাজিম উদ্দিন চেয়ারম্যান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল আলম, পৌরসভাপতি আবদুল গফুর, ছোট মহেশখালী আহ্বায়ক সিরাজুল মোস্তফা বাসি, শাপলাপুর আহ্বায়ক ডা. জয়নাল আবেদীন, কালামারছড়া আহ্বায়ক মাস্টার সোলাইমান, মাতারবাড়ি আহ্বায়ক মৌলভী আবু সাদেক, হোয়ানক ইউনিয়ন আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন, বড় মহেশখালী আহ্বায়ক কবির আহমদ, কুতুবদিয়া উপজেলা সভাপতি মোছাদ্দেক ফারুকী, কুতুবদিয়া সভাপতি মাস্টার খোরশেদ আলমসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের পদস্থ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT