টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

কক্সবাজার সৈকতে বৈশাখের প্রথম দিন ছিলনা প্রাণের উৎসব আর ভালবাসা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৩
  • ২৭৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

CoxBazar_Beachফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার….বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে প্রতিবছর পর্যটন শহর কক্সবাজার বর্ণিল সাজে সজ্জিত অতঃপর লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটলেও এ বছর তা পালিত হয়েছে অনেকটা নি®প্রাণ অবস্থায়। ভালবাসাহীন জোড়াতালি দিয়ে অন্যরকম উদ্যাপিত এই দিনটিতে কক্সবাজারের চেহারা দেখলে মনে হবে এ যেন এক ভূতুড়ে নগরী। পৃথিবীদীর্ঘ বেলাভূমি সৈকত জুড়ে বিরাজ করছিল ফাঁকা হাহাকার অবস্থা।  কারণ  বিগত বছরসমূহের মতো রবিবার কক্সবাজারে ছিল না কোনো প্রাণচাঞ্চল্য।
প্রেমিক-প্রেমিকা কিংবা নবদম্পতিদের অনেকেই আসেননি কক্সবাজারে। যারা এসেছিলেন, হরতাল ও রাজনৈতিক সংঘাত গুজবে বৈশাখের প্রথম প্রহর দুপুরের আগেই বাক্স-পোটলা গুছিয়ে হোটেল ছেড়ে চলে গেছেন আপন গন্তব্যে। ফলে বর্তমানে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে এসেছে স্থবিরতা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, শাহবাগী ও হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনসহ রাজনৈতিক দলগুলোর নানা তাণ্ডবের কারণে সৃষ্টি হয়েছে এই অবস্থা। একইসঙ্গে প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক দুরবস্থা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতাই কেবল বাঙালি জাতির সার্বজনীন এই প্রাণের উৎসবটি নিরুৎসবে পরিণত করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
কক্সবাজার সৈকত, হোটেল-মোটেল, কটেজ ও রেস্ট হাউস ঘুরে দেখা গেছে, গত বছর যেখানে বৈশাখী উৎসবের কনসার্ট ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছিল, এ বছর সেখানে হাহাকার অবস্থা। খাওয়া নেই-দাওয়া নেই, নেই কোনো স্বস্তি, শুধুই রাজনৈতিক অস্থিরতা আর সংঘাতের কারণেই সৃষ্ট এই অবস্থায় হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা রয়েছেন হতশায়।
কক্সবাজার শহরের তারকা হোটেল মিডিয়া ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক ইমতিয়াজ আলম চৌধুরী জানান, এই অবস্থা বিরাজ করলে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে শনির দশাতো নেমে আসবেই, পাশাপাশি কর্মহীন হয়ে পড়বে পর্যটন সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার লোক। ব্যবসায়ীরা হোটেল-রেস্তোঁরা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় তিনি দেখছেননা বলে জানিয়ে আরো বলেন, সাগরে জলদস্যু উৎপাতের কারণে এ বছর কক্সবাজারের জেলেরা চাহিদামত ইলিশও সরবরাহ করতে পারেননি। ফলে বাঙালি জাতির পান্তা-ইলিশ খাওয়ার যে রেওয়াজ পহেলা বৈশাখে ছিল তাও ভূলুণ্ঠিত হয়ে কক্সবাজারবাসী এই বছর পহেলা বৈশাখে খেয়েছেন পুঁটি-পান্তা। আবার কেউ কেউ খেয়েছেন শুটকি ও আলু ভর্তা।
সৈকত সন্নিকট আরেক তারকা হোটেল ওসান প্যারাডাইসের হেড অব মার্কেটিং এন্ড বিজনেস ডাল্টন জহির জানান আরো উদ্বেগের কথা। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ কেন, এ বছর একটি দিনও কক্সবাজারে লক্ষ্যণীয় কোনো পর্যটক ছিল না। যারা এসেছিলেন, তারা নিজের বুক নিজে চাপড়িয়ে বুকভরা ব্যথা নিয়ে ফিরে গেছেন নিজ ঠিকানায়। তাদের মধ্যে এমন এমন পর্যটকও আছেন, যারা হয়ত অদূর ভবিষ্যতে  আর কক্সবাজারে আসবেন না।
এদিকে, বৈশাখী বিকেলে কক্সবাজার সৈকত ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় কিছু লোকজন সৈকতের বিস্তির্ণ বালুকা রাশিতে ঘুরাঘুরি করলেও বাংলা বছরের প্রথম দিন ঊষার পূণ্য লগনে, তারা আল্লাহর গজব দেশ ও নিজের মুক্তি কামনা করে সৈকতে স্নান পূর্বক পাপ মুক্ত হওয়ার চেষ্টা চালান।
তবে কেউ কেউ তপ্ত রুদ্র দহনে পুড়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়Ñ ‘এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ/ তাপসনিশ্বাসবায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে/ বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক/ যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে যাওয়া গীতি/ অশ্র“বাষ্প সুদূরে মিলাক’-সহ নানা আবুল-তাবুল গান-বাজনা করে সময় কাটান। স্থানীয়দের কেউ কেউ ঘরের সুন্দরী বউ ফেলে বান্ধবীদের নিয়ে ঘুরাঘুরি করতেও দেখা যায়।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT