টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে দূর্ভোগ..ফিরে যাচ্ছে রোগীরা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৬ জুন, ২০১৩
  • ১০৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক…জেলার সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্টান কক্সবাজার সদর হাসপাতালের বহিঃবিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা অনুপস্থিত থাকায় চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা। চিকিৎসা বঞ্চিত এসব হতদরিদ্র রোগীরা বাধ্য হয়ে  পাশ্ববর্তী বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টায় জেলা সদর হাসপাতালের বহিঃবিভাগে গিয়ে দেখা যায়-দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দুর্ভোগ। এসময় বহিঃ বিভাগ থেকে টিকেট নিয়ে শত শত রোগী হাসপাতালের নিচ তলার পশ্চিম দিকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের দরজায় দাঁড়িয়ে চিকিৎসকের অপেক্ষায় ছিলেন। চিকিৎসকের কক্ষ নং ১১১, ১১২ ও ১১৩ এর সামনে শত শত নারী ও পুরুষ রোগী চিকিৎসকের অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিলেন দীর্ঘক্ষণ। চিকিৎসক না আসায় অনেকেই মেঝেতে বসে ছিলেন। ১১৩ নং কক্ষে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ অশুতোষ ধর ছিলেন অনুপস্থিত। উক্ত কক্ষের দরজায় বসে থাকা এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘চিকিৎসক না আসায় এই কক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মচারী আমাকে একটু বসতে বলে সেও কোথায় চলে গেছে।’ চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে ১১৩ নং কক্ষ খোলা থাকলেও বাকি ১১১ ও ১১২ নং কক্ষেও ঝুলেছে তালা। রামু থেকে চিকিৎসা নিতে আসা নবী হোসেন (৪৮) বলেন, ‘সকাল ৭ টা থেকে হাসপাতালে এসেছি। হাসপাতালে আসার এক ঘন্টা পর হাসপাতাল খোলা হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে ডাক্তার দেখানোর জন্য টিকেট নিয়েছি। টিকেটে ১১৩ নং কক্ষে যাওয়ার নির্দেশনা থাকলেও ওই কক্ষে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বসে আছি। আমার মতো আরো শত শত রোগি অপেক্ষায় আছি চিকিৎসকের। কিন্তু চিকিৎসকের দেখা নেই।’ সমিতি পাড়া থেকে আসা রোগী নাজমা বেগম বলেন, ‘সকাল ৮ টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখন ১২ টার কাছাকাছি। তবুও ডাক্তার আসছেনা।’ খুরুস্কুল থেকে আসা রোজিনা আক্তার জানান, ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১১২ নং কক্ষের সংশ্লিষ্ট ডাক্তার থেকে গত সোমবার চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি প্রাইভেট হাসপাতালে পরীক্ষা দিয়ে রির্পোট দেখাতে বলেন। রির্পোট দেখাতে গত মঙ্গল এসেছিলাম। কিন্তু ডাক্তার না থাকায় ফিরে যায়। আজ (গতকাল বুধবার) আবারও এসেছি রির্পোট দেখাতে। কিন্তু আজকেও পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘অসুস্থ শরীর নিয়ে দূর-দুরান্ত থেকে প্রতি দিন আসতে পারিনা। এতে আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছি।’
ঘোনার পাড়া এলাকার আবদুল হামিদ ও মোঃ আমিন জানান, ‘পেটের ব্যাথা নিয়ে সকাল থেকে ডাক্তার দেখাতে এসেছি। ১১৩ নং রুমে ডাক্তার অনুপস্থিত থাকায় বাধ্য হয়ে চলে যাচ্ছি।’ একই সময়ে তৃতীয় তলায় গিয়ে দেখা যায় আরো ভয়াবহ অবস্থা। ৩০৯ নং কক্ষে ডাক্তার না আসায় শত শত শিশু রোগী ও তাদের স্বজনের র্দীঘ লাইন। কক্ষের ভিতরে গিয়ে দেখা যায়, একজন কর্মচারী একা বসে আছেন। আজিজ নামের ওই কর্মচারি বলেন,‘ডাক্তার মাইয়েনু এখানে নিয়মিত রোগী দেখেন। কোন কাজ থাকায় আসতে একটু সময় হচ্ছে। বিডিআর ক্যাম্প থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রুহুল আমিন (৫) এর মা আনোয়ারা বেগম বলেন,‘সকাল থেকে টিকেট নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখন ১২ টা বাজে। তবুও ডাক্তার আসছেনা।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT