টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

কক্সবাজার সদরে শিশু শিক্ষার প্রলোভনে অর্ধ কোটি টাকা নিয়ে উধাও

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২ মে, ২০১৩
  • ১২৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আনোয়ার হোছাইন, (ঈদগাঁও) কক্সবাজার। কক্সবাজার সদর উপজেলায় শিশু শিক্ষা সম্প্রসারণের নামে একটি সংস্থার বিরুদ্ধে মহিলাদের চাকুরী ও শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানের প্রলোভনে ফেলে অর্ধ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা এনিয়ে রীতিমত সংশ্লিষ্ঠ শিক্ষিকাদের সাথে দুর্ব্যবহার করছে বলে ভূক্তভোগী সুত্রে প্রকাশ।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ফেমাস বাংলা ইকোনোমিক সোর্সসিং লিমিটেড সহ একাধিক নামে একটি সংস্থা কক্সবাজার সদরে ৫ বছরের নিচের শিশুদের শিক্ষার প্রতি আকৃষ্ট করার অংশ হিসাবে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত বলে উক্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ঈদগাঁও এলাকার রমজান নামের ৫ম শ্রেণী পড়–য়া এক ব্যক্তিকে উপজেলা সমন্বয়কারী হিসাবে দায়িত্ব দেয়। পরে কর্তৃপক্ষের দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী সে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ৬ শতাধিক মহিলাকে মাসিক ৩ হাজার টাকা বেতনে শিক্ষিকা হিসাবে নিয়োগ প্রদান করা হবে মর্মে জন পিচু ৩৬শ টাকা করে রশিদের মাধ্যমে জামানত হিসাবে নেয়। পরে ঐসব শিক্ষিকার মাধ্যমে স্ব-স্ব এলাকায় চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে ৫ বছরের নিচের শিশুদের শিক্ষার প্রতি ধাবিত করার নামে অভিভাবকদের বুঝিয়ে প্রতি প্রতিষ্ঠানে ২০ জন করে ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি করে। এ সব শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে ৫০ টাকা করে বৃত্তি দেয়া হবে মর্মে শিক্ষিকার মাধ্যমে অভিভাবকদের বুঝিয়ে শিক্ষার্থী পিচু ২শ টাকা হারে এককালীন ফি নেয়। এভাবে ৩ মাস কথিত শিক্ষা কার্যক্রম চললেও শিক্ষক কিংবা শিক্ষার্থীদের কেউ বেতন /বৃত্তি না পাওয়ায় সমন্বয়কের সাথে যোগাযোগ করলে তাদের বাকী বেতন ও শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকা আগামী মাসে এক সাথে দেয়া হবে বলে জানায়। শিউলী নামের এক শিক্ষীকা সহ কয়েকজন ভুক্তভোগী ও অভিভাবকের সাথে সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, এসব শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের পরিবারের অধিকাংশ অসহায়, বিধবা, বেকার ও অসচেতন শ্রেণীর হওয়ায় তাদের সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলে তারা দলে দলে রমজান নামের সমন্বয়ককে চাপাচাপি করলে সে বিভিন্ন সময় স্থানীয় প্রভাবশালীদের দিয়ে হুমকি দেয় এবং বিভিন্ন ফাঁকা বুলি উড়িয়ে ক্রোধ নিবারনের চেষ্টা করে। এতে ও ব্যর্থ হয়ে এক পর্যায়ে রমজান তাদেরকে ঢাকার কেন্দ্রীয় অফিসে যোগাযোগ করে সমস্যাটি সুরহা করবে বলে আশস্থ করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। হাজারও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের দুর্ব্যবহারে অতিষ্ট শিক্ষিকারা এক পর্যায়ে জানতে পারে ঈদগাঁও বাস ষ্টেশনে থাকা সংস্থার অফিসটিও উধাও এবং সমন্বয়কারীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করলে সে শিক্ষিকাদের জানায় কেন্দ্রের নির্দেশে স্কুলে গ্রীষ্মের বন্ধ চলছে জানিয়ে অভিভাবকদের মিথ্যা অভয় দেয়ার জন্য বলে। এ নিয়ে অসহায় শিক্ষিকারা কোন কুল কিনারা না পেয়ে রমজানের সাথে যোগাযোগ করলে সে উক্ত বিষয়ে ঢাকায় গেলেও রাজধানীর যে স্থানে অফিস ছিল তা বন্ধ এবং সংস্থায় কর্মরতদের কারো সাথে মোবাইল কিংবা কোন মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারছেনা বলে জানায়। এ বিষয়ে উপজেলা সমন্বয়কারী রমজানের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে উপরোক্ত অভিযোগ স্বীকার করে  বলেন, সে বর্তমানে এ বিষয় নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছে এবং তার মত দেশের বিভিন্ন উপজেলায় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালনকারী ৬৭ জন ভুক্তভোগী সংশ্লিষ্ট সংস্থার ঢাকাস্থ একাধিক স্থানে থাকা অফিসে গিয়ে তা বন্ধ থাকায় কারো সাথে কোন ভাবে যোগাযোগ করতে পারেননি এবং নোমান চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি উক্ত সংস্থার প্রধান বলে জানান। নিরুপায় হয়ে তারা উক্ত সংস্থার সাথে জড়িতের বিরুদ্ধে মামলা করে বিষয়টি ঢাকাস্থ র‌্যাবকে অবহিত করেছেন এবং ১০/১২ দিন যাবৎ তারা উক্ত অফিসের আশপাশে এলাকায় অবস্থান করছেন বলে  এ প্রতিবেদককে জানান। এ সংক্রান্ত বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রিটন কুমার বড়–য়া ও উপজেল প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রহমান চৌধুরীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে জানান, এ জাতীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে কোন সংস্থা বা সংগঠনকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নিয়োগ করেনি বিধায় তারা এ ব্যাপারে অবগত নয় জানিয়ে বলেন উক্ত সংস্থাটি সাধারণ লোকজনের সাথে প্রতারণা করেছে। তারা এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নেবেন বলে জানান। অপর দিকে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আব্দুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ রকম প্রকল্প সম্পর্কে অবগত নন এবং উক্ত বিষয়ে খোঁজ নেয়ার জন্য জরুরী ভিত্তিতে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হবে জানিয়ে বলেন এ জাতীয় কোন সংস্থার কর্মকান্ডের সাথে স¤পৃত্ত হওয়ার পূর্বে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে যোগাযোগ করা জরুরী। অন্যতায় সাধারণ লোকজন প্রতারণার খপ্পরে পড়বে। অন্যদিকে টাকা আদায়ের প্রাপ্ত রশিদে প্রদত্ত উক্ত সংস্থার ঢাকাস্থ শান্তি নগর বাজার সড়কের ৩য় তলায় অফিস দেখিয়ে তাতে যে মোবাইল ফোন নাম্বার (০১৮২৭০৩১৯৩১) উল্লেখ করা হয়েছে ওই নাম্বারে বার বারা যোগাযোগ চেষ্টা করেও তা বন্ধ পাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে উক্ত সংস্থার প্রতারণার শিকার শিক্ষক, সমন্বয়ক ও শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা অনেক চেষ্টা করেও উক্ত ভূঁইফোড় প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের খোঁজ না পাওয়ায় রীতিমত দিশেহারা বলে জানা গেছে। ভূক্তভোগী ও সচেতন মহল উক্ত সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক জড়িতদের খোঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT