টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

কক্সবাজার রেড ক্রিসেন্টের ১কোটি ৩৬ লাখ টাকার সাহায্য সামাগ্রী বিতরণ বন্দ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ১২ জুন, ২০১৩
  • ১৫৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক=
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কক্সবাজার ইউনিটের গ্রামীন অবকাঠামোর উন্নয়নের জন্য আরলি রিকভারি নামক ২ কোটি ৪০লাখ টাকার একটি প্রজেক্টের ২ কোটি টাকা দুর্নীতি হয়েছে বলে অপপ্রচারে চালানোর কারনে। এ প্রকল্প থেকে ১কোটি ৪লাখ টাকা বিতরন করা হলেও বাকি ১কোটি ৩৬ লাখ টাকার সাহায্য সামাগ্রী বিতরন বন্দ করে দিয়েছে দাতা সংস্থা। এতে দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত কাজ যতদিন শেষ না হচ্ছে ততদিন রেড ক্রিসেন্টর এ প্রজেক্ট চালু হবে না বলে জানাগেছে।
সূত্রে জানায়, আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। কক্সবাজার জেলার গ্রামীন অবকাঠামোর উন্নয়নের জন্য। কাজের বিনিময়ে টাকা, প্রশিক্ষণের কিনিময়ে টাকা ও কর্মক্ষম, প্রতিবন্দি, বৃদ্ধা, অসহায়, বিধবা, দুস্থ মহিলাদের জন্য শর্তবিহীন নগত অর্থ প্রধান কর্মসূচি চালু করার লক্ষে। আরলি রিকভারি নামক ২ কোটি ৪০লাখ টাকার একটি প্রজেক্টে। জানুয়ারি মাসে রেড ক্রিসেন্টের সোসাইটি কক্সবাজার ইউনিটের কাছে গৃহীত হয়। এতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষকে অগ্রাধিকার দিয়ে জেলার মোট তিন হাজার পরিবারকে এ প্রজেক্টের আওতায় নিয়ে আসে রেড ক্রিসেন্ট। এর পরে ফেব্রুয়ারির ২৬ তারিখে প্রজেক্টি চালু করে রেড ক্রিসেন্ট। এতে এই প্রজেক্টের সাথে পাচঁটি বিভাগ জড়িত হয়। এগুলো আইএফআরসি, বিডিআরসিএস, এনডিআরটি, আরসিওয়াই ও দুজন লাইভলী হুড অফিসার অর্ন্তভুক্ত হন। এ প্রজেক্টে এনডিআরটি বেনিফিশারী সিলেকশন করে। আরসিওয়াই প্রজেক্টের কাজ বাস্তবায়ন কাজ করে। আইএফআরসি রয়েছে প্রজেক্ট মনিটরিং কাজে। বিডিআরসিএস বাস্তবায়নে সহায়তা করে এবং দুজন লাইভলীহুড অফিসার সমস্ত কার্যক্রম দেখাশুনা ও তদারকি করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কক্সবাজার ইউনিট কর্মকর্তা কর্মচারিরা উক্ত পাচঁটি বিভাগের পরামর্শক্রমে তাদের নির্দেষ ক্রম ও উপস্থিতিতে বিভিন্ন সময়ে এক কোটি চার লাখ টাকার সাহায্য সামাগ্রী প্রধান করেছেন। আর এ প্রকল্পের ধরন হচ্ছে। এলাকার পুকুর সংস্কার, খাল সংস্কার, রাস্তা সংস্কার, স্কুল মাদ্রাসার মাঠ ভরাট, কবরস্থান, শ্বশ্মান সংস্কার ইত্যাদি। এ সমস্ত কাজ সংস্কারের পর দৈর্ঘ্য প্রস্থ মেপে মুল প্রকল্পের অবস্থান নিয়ে সাধারণত সাইন বোর্ড টাকাতে হয়। তাও আইএফআরসি এর পরামর্শক্রমে দিতে হয় বলে জানাগেছে। আরলি রিকভারি নামক যে প্রকল্পটির ১কোটি ৪লাখ টাকা বিতরণ করেছে এ গুলোর মধ্যে কাজের বিনিময়ে টাকা, ট্রেনিং এর বিনিময়ে টাকা এবং নগত সহায়তা টাকা সহ মোট ৪০লাখ টাকা বিতরন করেছে রেড ক্রিসেন্ট কক্সবাজার ইউনিট।
এছাড়া রামু উপজেলার কাউয়ারকোপ এলাকায় ২০ লাখ টাকা, গর্জনিয়ায় ২০০ জনকে ১৫ লাখ টাকা, চকরিয়া উপজেলার বরইতলী এলাকায় ২০ লাখ টাকা, কৈয়ারবিলে ২০লাখ টাকা বিতরন করা হয়েছে। এমনকি ৪টি ইউনিয়নে খাল-পুকুর সংস্কার ও গ্রামীণ সড়ক সংস্কার করেছে রেড ক্রিসেন্ট। এতে একদিকে গরীব লোকজনের কর্মসংস্থান হয়েছে অন্যদিকে গ্রামীণ জনপদে উন্নয়ন হয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। এসব উন্নয়ন কর্মকান্ড দাতা সংস্থার প্রতিনিধি দল, ইউরোপিয়ান কমিশন, রেড ক্রিসেন্টের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা। ২৪ এপ্রলি সরেজমিন পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে মে মাসের শেষের দিকে রেড ক্রিসেন্ট এর সাধারন সম্পাদক সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ২ কোটি টাকা দুর্নীতি ও বিপুল টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে একটি কুচক্র মহল রেড ক্রিসেন্টের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে থাকে। এমনকি ঢাকা এবং কক্সবাজারের স্থানীয় গনমাধ্যমে রেড ক্রিসেন্টের দুর্নীতি নিয়ে একে পর এক সংবাদ চাপানো হলে এ নিয়ে জেলা জুড়ে চরম তুলপাড় সৃষ্টি হয়। তা ছাড়া রেড ক্রিসেন্টের রিলিফ কার্ড দেয়ার নামে কয়েকটি প্রতারক চক্র রেড ক্রিসেন্টের নাম ভাঙ্গিয়ে সদর উপজেলার পিএমখালী, জুমছড়ি, বাংলাবাজার, দরগাহপাড়া, কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া, সমিতিপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়া, ফদনার ডেইলসহ বিভিন্ন এলাকায় চষে বেড়ায়। তারা এসব এলাকার দরিদ্র লোকজনকে রেড ক্রিসেন্টের রিলিফ কার্ড দেয়ার কথা বলে বেশ কিছু টাকা হাতিয়ে নেন। আবার অনেকের হাতে ধরিয়ে দিয়েছিল নকল রিলিফ কার্ড। এধরনের খবর পাওয়ার পর। গোপনে খোঁজ খবর নিতে শুরু করেন রেড ক্রিসেন্ট কক্সবাজার ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মোস্তাফা কামাল। ২৩ মে বুধবার প্রতারক চক্রের সদস্যরা গোপনে কক্সবাজার শহরের থানা রাস্তার মাথার একটি ছাপাখানায় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির রিলিফ কার্ড তৈরী করছে। এমন খবরে সেখানে হানা দেন আবু হেনা মোস্তাফা কামাল। থানা রাস্তার মাথার জিনিয়াস কম্পিউটার এন্ড প্রিন্টার্স নামক একটি দোকানে গিয়ে ছাপানো অবস্থায় ১৫০০ নকল রিলিফ কার্ড জব্দ করেন তিনি এবং রমজান নামের এক ব্যক্তি কয়েকদিন আগে তার দোকানে এসে রেড ক্রিসেন্টের নামে ৫০০ রিলিফ কার্ড ছাপাতে দেয়। এসব কার্ড ছাপিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর আরো ৫০০ কার্ড ছাপাতে দেয় রমজান নামক এ প্রতারক ব্যক্তি।  এর পরে ২৪ মে শহরের বাহারছড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ভূয়াঁ কার্ড জব্দ করে রেড ক্রিসেন্ট কর্মকর্তারা। এসকল ঘটনা গনমাধ্যমে প্রকাশের পর গত ২৩ মে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির হেড অফিস থেকে একটি তদন্ত টিম আসে রেড ক্রিসেন্ট এর দুর্নীতি তদন্ত করার জন্য। তা এখনো তদন্ত করা হচ্ছে। এতদন্ত কাজ যতদিন শেষ না হচ্ছে ততদিন উক্ত প্রজেক্টের কোন সামাগ্রী বিতরণ করা হবে না বলে জানাগেছে।
সূত্রে জানা গেছে, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কক্সবাজার ইউনিট দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে বিএনপি’র চক্রের হাতে জিম্মি ছিল। সেখানে সাধারণ সদস্য, আজীবন সদস্যসহ কারো মতামত দেয়ার সুযোগ ছিল না। ফি দিয়েও কেউ সদস্য হওয়ার সুযোগ ছিল না এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায়। এমনকি ইচ্ছেমতো নির্বাচন সাজিয়ে ২৩ বছর ধরে রেড ক্রিসেন্টকে ইচ্ছে মতো ব্যবহার করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে কোটি কোটি টাকার দেশি-বিদেশী সাহায্য-সহায়তা চক্রটি আত্মসাৎ করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। যার কারণে সে সময় মানুষ রেড ক্রিসেন্টের কোন সাহায্য-সহায়তার মুখ দেখেনি বলে একাধিক অভিযোগ উঠেছে।
এ অবস্থায় জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ.কে আহমদ হোসেন, সাধারণ সম্পদক সালাইদ্দীন আহমদ সিআইপি, আব্দু রহমান বদি এমপি, এথিন রাখাইন এমপি এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বর্তমান চেয়ারম্যান ডা: এসএম আকবরের সহযোগিতায় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এড: সিরাজুল মোস্তাফাকে ভাইস চেয়ারম্যান এবং প্রচার সম্পাদক আবু হেনা মোস্তাফা কামালকে সাধারণ সম্পাদক করে কক্সবাজার রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট গঠন  করা হয়। এত জেলা যুবলীগ এর সভাপতি খুরশেদ আলম, যুব মহিলা লীগের সভা নেত্রী আয়েশা সিরাজ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের শহর সাধারন সম্পাদক ওসমান সরওয়ার আলম, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক প্রিয়তোষ শর্মা চন্দন, শিল্পও বানিজ্য সম্পাদক মাসেদুল হক রাসেদ, মোশারফ হোসেন খোকন, মোশারফ হোসেন দুলালসহ জেলা আওয়ামী লীগের অনেক নেতা কর্মী এ কমিটিতে সদস্য হিসাবে রয়েছে। তাদের সকলের সহ যোগিতায় ২৩ বছরের জিম্মি দশা থেকে রেড ক্রিসেন্টকে বের করে এনে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ শুরু করেছে রেড ক্রিসেন্ট। ঠিক সেই মুর্হূতে পরাজিত শক্তি রেড ক্রিসেন্টের সুনাম ব্যবহার করে সাধারন মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্টকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কক্সবাজার ইউনিটের সাধারন সম্পাদক আবু হেনা মোস্তাফা কামাল জানিয়েছেন, ২৩ বছর ধরে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি একটি চক্রের হাতে জিম্মি ছিল। বর্তমানে রেড ক্রিসেন্টের অধীনে কক্সবাজারে যে কার্যক্রম চলছে তা অতীতে কোন সময় হয়নি।
ফলে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র গরীব লোকজনের সাহায্য ও এলাকার উন্নয়ন সয্য করতে না পেরে রেড ক্রিসেন্টের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে মেতে উঠেছে। এ ধরণের অপপ্রচার করলে দাতারা মুখ ফিরিয়ে নেবে। ক্ষতিগ্রস্থ হবে দরিদ্র লোকজন আমাদের কিছু হবে না। যারা এসব কর্মকান্ডে জড়িত তারা সকলেই সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত। এরা দেশ, সরকার ও সমাজের শক্র। তিনি আরো জানিয়েছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ, অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থসহ বিভিন্ন অসহায় লোকজনের পাশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে রেড ক্রিসেন্ট। কারাগারে বিদেশী বন্দীদেরও সাহায্যের আওতায় আনা হয়েছে।
সর্বশেষ কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়ায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ৭৭টি পরিবারের মাঝে ত্রিপল, কম্বল, মশারী, মাদুর ও পানির জারিকেন দেয়া হয়েছে। যেখানে মানবিক বিপর্যয় ঘটছে সেখানেই ছুটে যাচ্ছে রেড ক্রিসেন্ট।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT