টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের হাইওয়ে পুলিশ..যানবাহন আটকিয়ে চাঁদাবাজি ও ডাকাতি চলছেই

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ২২ জুন, ২০১৩
  • ১৮৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

এ এইচ সেলিম উল্লাহ, কক্সবাজার=কক্সবাজারে কোন নিয়ন্ত্রক না থাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে  হাইওয়ে পুলিশ। একের পর এক অপকর্ম করেও পার পেয়ে যাচ্ছে তারা। বলতে গেলে তাদের ইচ্ছে মতো চলছে যাবতীয় কার্যক্রম। কোন ধরনের নিয়ন্ত্রক না থাকায় প্রতিনিয়ত সড়কে যানবাহন আটকিয়ে চাঁদাবাজি, সড়কে ব্যারিকেট দিয়ে ডাকাতিসহ নানা অপরাপ কর্মকান্ড সংগঠিত হয়ে আসছে। জেলা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে হাইওয়ে পুলিশকে কোন ধরনের নিয়ন্ত্রন করা হয়না। অনেকটা অভিভাবক ছাড়াই চলছে যেন হাইওয়ে  থানা এবং ফাঁড়িগুলো।
অনুসন্ধান করে গেখা গেছে, গত একমাসে কক্সবাজার চট্রগ্রাম মহাসড়ক  ও টেকনাফ সড়কের বিভিন্ন স্পটে প্রায় শতাধিক ডাকাতি সংগঠিত হয়েছে। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে কক্সবাজার টেকনাফ সড়কের পানেরছড়া ঢালায় পুলিশ পাহারায় ডাকাতি সংগঠিত হয়েছে। এ সময় ডাকাতদল সড়কে ব্যারিকেট দিয়ে যানবাহনে লুটপাট চালায়। ডাকাতি সংগঠিত স্থানে খুব কাছে পুলিশ টহল থাকলেও পুলিশের ভ’মিকা রহস্যজনক ছিল বলে জানিয়েছেন ডাকাত শিকার লোকজন।
ডাকাতির শিকার উখিয়া উপজেলা আ.লীগের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক ও হলদিয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল হক আমিন জানান, গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১২ দিকে নোহা গাড়ী যোগে কক্সবাজার থেকে বাড়ী ফেরার পথে পানেরছড়া ঢালার মধ্যখানে একদল ডাকাত সড়কে ব্যারিকেট দেয়। এসময় কক্সবাজার ও টেকনাফমুখী বিভিন্ন যানবাহন আটকিয়ে ডাকাতদল লুটপাট চালায়। তিনি জানান, এসময় ডাকাতদল বেশ কয়েকটি যানবাহনে ডাকাতি সংগঠিত করে।
আ.লীগ নেতা আমিন আরো জানান, ডাকাতি সংগঠিত হওয়া খুব কাছে পুলিশের টহল থাকলেও পুলিশ নিরব দর্শকের ভ’মিকায় ছিলেন। পুলিশের এরক ভ’মিকা দেখে ডাকাতির শিকার লোকজন টহলরত পুলিশকে নাজেহাল করে। রাতেই ডাকাতির বিষয়টি স্থানীয় এমপি আবদুর রহমান বদি এবং  জেলা পুলিশ সুপারকে অবগত করা হয়। এর পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লাহ কন্টোল রুমের ০১৭২০১৬৯৪০৯ নাম্বারে অবহিত করা হয়েছে।
রামু তুলাবাগান হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস আই ) ও রাতেই দায়িত্বরত মোহম্মদ মিজানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ডাকাতির কথা স্বীকার। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছলে ডাকাতদল পালিয়ে যায় বলে দাবী করেন। একই ভাবে রাতেই তুলাবাগান হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরওয়ার আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
যানবাহন  চালক ও বিভিন্ন যাত্রীদের  সাথে কথা বলে জানা গেছে, কক্সবাজার চট্রগ্রাম মহাসড়কের রামু রশিদ নগর, চকরিয়ার হারবাং, খরুলিয়া, খুটাখালীর ঢালা,  রেইতলী, কচ্ছপিয়া ঢালা, এছাড়া  টেকনাফ সড়কের পানেরছড়া ঢালা, খুনিয়াপালং, মরিচ্যা চেকপোষ্ঠ সংলগ্ন এলাকায়,  থাইংখালী ঢালা, পালং খালী ঢালা, হোয়াইক্যং ঢালা, উনচিপ্রাং, খারাংখালী, উলুবনিয়া, হীলার আলী খালী, দমদমিয়া ১৪ নং ব্রিজ, টেকনাফের উঠনি সহ আরো বিভিন্ন  প্রায় সময় ডাকাতি সংগঠিত হয়ে আসছে। এসব স্পটে ডাকাতি হওয়ার বিষয়টি হাইওয়ে পুলিশ অবগত থাকলেও অনেক সময় তারা এসব জায়গায় ডিউটি না করে যানবাহন আটকিয়ে চাঁদাবাজিতে ব্যবস্থ থাকার অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি অধিকাংশ সময়  পুলিশের সহযোগিতায় সড়কে ডাকাতি সংগঠিত হওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
বিভিন্ন যানবাহন চালক ও যাত্রীসাধারন জানান, নানা সময় ডাকাতির ঘটনা সংশ্লিষ্ঠদের অভিযোগ করার পর অভিযোগকারীদের উল্টো হয়রানী করারও অভিযোগ রয়েছে। ফলে অনেক সময় ভুক্তভোগী লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হাইওয়ে পুলিশকে অবগত করেনা।
রামু তুলাবাগান হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরওয়ার আলমের সাথে যোগাযোগ করহলে তিনি বলেন, মাঝে মধ্যে কিছু বিচ্ছন্ন ঘটনা সংগঠিত হলেও আইশৃংখা শান্ত রয়েছে। তিনি চাঁদাবাজির ঘটনা অস্বীকার করেন।
এ এইচ সেলিম উল্লাহ

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT