টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

কক্সবাজারে ১২১ জন পুরুষ এবং ২১ জন নারী কনস্টেবল নেবে পুলিশ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
  • ১২১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক :: কক্সবাজার সহ সারা দেশে ১০ হাজার কনস্টেবল চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। এর মধ্যে কক্সবাজার জেলায় নেয়া হবে ১২১ জন পুরুষ এবং ২১ জন নারী। নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য নির্ধারিত ২৯ সেপ্টেম্বর তারিখে উপস্থিত হতে হবে কক্সবাজার জেলার পুলিশ লাইনস ময়দানে। বিস্তারিততথ্য নিম্নে দেয়া হলো।

লাগবে যা যা

পরীক্ষার দিন সঙ্গে নিতে হবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। লাগবে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ বা সাময়িক সনদের মূল কপি, সর্বশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের দেওয়া চারিত্রিক সনদের মূলকপি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অথবা সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার মেয়র বা কাউন্সিলরের দেওয়া স্থায়ী নাগরিকত্ব সনদের মূলকপি, প্রার্থীর (না থাকলে মা-বাবার) জাতীয় পরিচয়পত্রের মূলকপি, পাসপোর্ট আকারের সদ্য তোলা তিন কপি সত্যায়িত ছবি, ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি বাবদ ১০০ টাকা ‘১-২২১১-০০০০-২০৩১’ নম্বর কোডে জমার চালানের কপি, সংশ্লিষ্ট কোটার সনদের মূলকপি এবং তা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র, চাকরিরত প্রার্থীদের কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র।

১০ হাজার ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। নিয়োগ পাবেন সাড়ে আট হাজার পুরুষ ও দেড় হাজার নারী। আগ্রহী প্রার্থীদের শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট দিনে নিজ নিজ জেলার পুলিশ লাইনসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত হতে হবে।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হয়েছে ৬ সেপ্টেম্বরের ইত্তেফাকে। বাংলাদেশ পুলিশের IGqemvBU www.police.gov.bd I bit.ly/2c7kVOt লিংকেও পাওয়া যাবে বিজ্ঞপ্তিটি।

আবেদনের যোগ্যতা

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং বিভাগের এআইজি মো. মনিরুল ইসলাম জানান, এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় থাকতে হবে জিপিএ ২.৫০। ৩১ আগস্ট ২০১৬ তারিখে সাধারণ, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের সন্তান বা অন্যান্য কোটার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স হতে হবে ১৮-২০ বছর।

মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ১৮-৩২ বছর। বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক ও অবিবাহিত হতে হবে। সাধারণ, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের সন্তান বা অন্যান্য কোটার পুরুষ প্রার্থীদের উচ্চতা হতে হবে কমপক্ষে ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি, বুক স্বাভাবিক অবস্থায় ৩১ ইঞ্চি, সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩৩ ইঞ্চি।

মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি, বুক স্বাভাবিক অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি, সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩১ ইঞ্চি। উপজাতীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি, বুক স্বাভাবিক অবস্থায় ৩১ ইঞ্চি, সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩৩ ইঞ্চি হতে হবে। নারীদের ক্ষেত্রে উচ্চতা থাকতে হবে ৫ ফুট ২ ইঞ্চি। বয়স ও উচ্চতার সঙ্গে ওজন অনুমোদিত (বডি মাস ইনডেক্স অনুযায়ী) হতে হবে।

শারীরিক পরীক্ষা

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং বিভাগের অ্যাডিশনাল এসপি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আল-মামুন জানান, শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষা নেওয়া হবে প্রার্থীর নিজ জেলার পুলিশ লাইনস ময়দানে। এর আগে কোনো আবেদনের প্রয়োজন নেই। নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত হতে হবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ। চাকরিরত প্রার্থীদের সঙ্গে রাখতে হবে কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র। শারীরিক মাপ পরীক্ষায় বয়স, উচ্চতা, বুকের প্রস্থ ও ওজন ঠিক আছে কি না যাচাই করা হবে। এরপর অংশ নিতে হবে দৌড়ে। সাধারণত ১৩৭.৫ মিটার দূরত্বে দৌড়ানোর জন্য বলা হয়ে থাকে। ফিটনেস যাচাইয়ের জন্য হতে পারে লং জাম্প পরীক্ষাও। বয়স ও উচ্চতার তুলনায় ওজন বেশি হলে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। ওজন কম হলে পর্যাপ্ত খাওয়া ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। অনেকে কয়েক মিটার দৌড়েই হাঁপিয়ে যান বা মাঝপথে পড়ে যান। খোলা মাঠে লং জাম্প ও দৌড়ের প্র্যাকটিস করতে হবে। শারীরিক মাপের সময় হাফহাতা বা টি-শার্ট পরে যাওয়াটাই ভালো। দৌড়ের উপযোগী হাফপ্যান্ট বা ঢিলেঢালা ট্রাউজার পরতে হবে, যাতে ব্যায়ামের সময় অসুবিধা না হয়। পুরুষ ও নারীরা নিজেদের উপযোগী একাধিক পোশাক সঙ্গে রাখতে পারেন, যেন ব্যায়ামের সময় বদলে নেওয়া যায়।

পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে জেলার পুলিশ সুপার পরবর্তী পরীক্ষার জন্য প্রবেশপত্র ইস্যু করবেন। একই সঙ্গে তিনি লিখিত পরীক্ষার কেন্দ্র নির্ধারণ করে প্রার্থীদের জানিয়ে দেবেন। লিখিত, মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষার সময় সঙ্গে আনতে হবে প্রবেশপত্র।

লিখিত পরীক্ষা

শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে নির্দিষ্ট দিনে বসতে হবে লিখিত পরীক্ষায়। পরীক্ষার পূর্ণমান ৪০। সময় দেড় ঘণ্টা। সাধারণত বাংলা ১৫, ইংরেজি ১৫ ও সাধারণ গণিত থেকে ১০ নম্বরের প্রশ্ন থাকে। অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির বোর্ড নির্ধারিত পাঠ্য বই থেকেই প্রশ্ন করা হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পেতে হবে কমপক্ষে ৪৫ শতাংশ নম্বর।

বাংলা অংশে রচনা, অনুচ্ছেদ লিখন, ভাবসম্প্রসারণ, ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ, এক কথায় প্রকাশ, বাগ্ধারা, সমার্থক শব্দ, সন্ধি বিচ্ছেদ থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। এসএসসি পর্যায়ের বাংলা প্রথম পত্র এবং বোর্ডের ব্যাকরণ বই পড়তে হবে। বাংলাদেশ প্রসঙ্গ, পুলিশ বাহিনী ও সাম্প্রতিক বিষয়াবলি থেকে কিছু সাধারণ জ্ঞানমূলক প্রশ্নও করা হতে পারে। নিয়মিত পত্রিকা, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক মাসিক সাময়িকী পড়লে কাজে দেবে।

ইংরেজিতে প্রশ্ন আসে Fill in the Gaps, Sentence Making, Translation, Essay, Paragraph, Letter, Application থেকে। Fill in the Gaps অংশে ভালো করার জন্য Grammar-এর বিভিন্ন Rules, Tense, Noun, Pronoun, Adjective, Verb-এর বিভিন্ন Form ভালোভাবে আয়ত্তে রাখতে হবে। Sentence Making-এর ক্ষেত্রে বাক্য যেন অর্থবোধক হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির উপযোগী Essay, Paragraph, Letter, Application-এর প্রস্তুতি নিলেই চলবে। পাটিগণিত ও বীজগণিত থেকে প্রশ্ন করা হয় সাধারণ গণিত অংশে। সাধারণত শতকরা, লাভ-ক্ষতি, সুদ কষা, ল.সা.গু. ও গ.সা.গু. থেকে প্রশ্ন থাকে। ভালো করতে চাইলে অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের অঙ্ক বারবার চর্চা করতে হবে।

মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষা

মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আল-মামুন আরো জানান, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নির্ধারিত তারিখে মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে। এতে থাকবে ২০ নম্বর। ব্যক্তিগত পরিচিতিমূলক প্রশ্নের পাশাপাশি প্রার্থীর মানসিক দক্ষতা, মূল্যবোধ বিচারের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করা হয় এ পরীক্ষায়। মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষায় উপস্থাপনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পোশাক মার্জিত ও মানানসই হতে হবে। ভাইভা বোর্ডে নিজেকে উপস্থাপন করতে হবে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। যে বিষয়ে জানতে চাওয়া হবে তার যথাযথ উত্তর দিতে হবে। অপ্রাসঙ্গিক কোনো কথা বলা যাবে না। কমপক্ষে ৪৫ শতাংশ নম্বর পেতে হয় মৌখিক পরীক্ষায়।

প্রার্থী নির্বাচন যেভাবে

প্রতি জেলায় শূন্যপদের বিপরীতে লিখিত, মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষায় পাওয়া নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। সমযোগ্যতার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন অধূমপায়ীরা। নির্বাচিতরা পুলিশ ভেরিফিকেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যোগ্য বিবেচিত হলে প্রশিক্ষণের জন্য প্রাথমিক মনোনয়ন পাবেন। কোনো ভুল তথ্য দেওয়া যাবে না বা তথ্য গোপন করা যাবে না। ভেরিফিকেশনে তথ্য ভুল প্রমাণিত হলে মনোনয়ন বাতিল হবে।

প্রাথমিকভাবে নির্বাচিতরা প্রশিক্ষণকেন্দ্রে যোগ দেওয়ার পর শারীরিক যোগ্যতা ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করবে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত পুনর্বাছাই কমিটি। যোগ্য বিবেচিত হলে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল হিসেবে ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হবে নির্ধারিত প্রশিক্ষণকেন্দ্রে।

বেতন ও সুযোগ-সুবিধা

বাংলাদেশ পুলিশের রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং বিভাগের অ্যাডিশনাল এসপি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আল-মামুন জানান, ছয় মাসের প্রশিক্ষণ চলাকালে পাওয়া যাবে পোশাক, থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসা সুবিধা। পাশাপাশি দেওয়া হবে ৫০০ টাকা হারে মাসিক ভাতা। প্রশিক্ষণ শেষে চূড়ান্ত নিয়োগপ্রাপ্তদের ২০১৫ সালের বেতন স্কেলের ১৭তম গ্রেড অনুযায়ী বেতনক্রম হবে ৯০০০-২১৮০০ টাকা। দুই বছরের শিক্ষানবিশকাল সন্তোষজনকভাবে শেষ করার পর কনস্টেবল পদে স্থায়ী করা হবে। পাওয়া যাবে পোশাকসামগ্রী, ঝুঁকি ভাতা, চিকিৎসা সুবিধা ও স্বল্পমূল্যে রেশনসামগ্রী। রয়েছে পদোন্নতিসহ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ার সুযোগ।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT