টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

কক্সবাজারে ভেঙ্গে পড়েছে পর্যটকদের নিরাপত্তা: পুলিশে জনবল সংকট

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০১৩
  • ১২৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার থেকে…
পুলিশের জনবল সংকটের কারণে কক্সবাজারে ভেঙ্গে পড়েছে পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলার ক্রমাবনতিতে স্থানীয় অধিবাসিরাও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। রাতদিন পরিশ্রম করে কোন অবস্থায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ফিরিয়ে আনা যাচ্ছে না সামাজিক শৃঙ্খলা। ফলে ঠাঁইহীন পর্যটক আর কক্সবাজারের মূল জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয় সেবা দিতে পারছেনা তারা। দায়িত্ব পালনে হাঁপিয়ে উঠা জেলা পুলিশ বলছে, নিজেদের জনবল সংকট ও নানা সীমাবদ্ধতার কথা। তাদের মতে কক্সবাজারে আগত দেশি-বিদেশি পর্যটক, স্থানীয় জনসাধারণ ও রোহিঙ্গাদের তুলনায় জেলা পুলিশের জনবল মৌসুমে প্রতি ২০ হাজারে ১ জনও পড়ে না। তাই স্বল্প সংখ্যক জনবল নিয়ে দেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে এই কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলা তুলনামূলকভাবে অনেকটা ভাল বলতে হবে। পুলিশ সূত্র জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত কক্সবাজার জেলা পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামো সংস্কারের বিষয়টি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত এই সমস্যা প্রকট থাকবে। তবে জেলা পুলিশ ও পুলিশ হেড কোয়ার্টারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে অনেক চিঠি চালাচালি হয়েছে বলেও দাবি করে দায়িত্বশীল ওই কর্মকর্তা জানান, স্বরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহের আন্তরিক সহযোিগতায় কেবল পারবে এই সমস্যা সমাধান করতে। অন্যথায়, প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে জেলা পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে বর্তমান মঞ্জুরীকৃত জনবলের যে অতিরিক্ত পদ সৃষ্টির আশ্বাস দিয়েছিলেন, তা অনিশ্চিয়তার পাশাপাশি পর্যটনের ব্যাপক ক্ষতিতো হবে, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার অভাবে বিদেশি পর্যটক কক্সবাজারে আসবে না। এছাড়া পুলিশের জনবল সংকটের এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে দুর্বৃত্তরা যেকোন সময় বড় ধরনের কোন দূর্ঘটনা ঘটাতে পারে।
জানা গেছে, বর্তমানে কক্সবাজার জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়ন, অপরাধ দমন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আধুনিক-মানসম্মত পুলিশি সেবা প্রদান, যথাযথ ট্রাফিক পুলিশিং ব্যবস্থা গ্রহণ, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধ করা, ভিভিআইপি ও ভিআইপি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক যাবতীয় কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে অনেকটা জোড়া-তালি দিয়ে। রাজধানী ঢাকা ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামের পর জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জেলায় বর্তমানে পুলিশের মঞ্জুরিকৃত পদের সংখ্যা রয়েছে মাত্র ১২শ ৭৮টি। অথচ পার্শ্ববর্তী একইরকম ভূ-প্রাকৃতিক বান্দরবান জেলায় মঞ্জুরিকৃত পদের সংখ্যা ২হাজার ২শ ৯২, রাঙ্গামাটি জেলায় ৩ হাজার ২শ ৮৯ এবং খাগড়াছড়ি জেলায় ২ হাজার ২শ ৩৭টি থাকলেও ভৌগোলিক, প্রাকৃতিক ও জনগোষ্ঠীসহ সামগ্রিক কারণে কক্সবাজার জেলা পুলিশের সাংগঠনিক মঞ্জুরিকৃত পদের সংখ্যা আরো অনেক বেশি হওয়া উচিত ছিল। কারণ এখানে প্রতিদিন দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটকের পাশাপাশি ভিভিআইপি এবং ভিআইপিদের আনাগোনা থাকে সবচেয়ে বেশি।
কক্সবাজারের সাবেক পুলিশ সুপার সেলিম মোঃ জাহাঙ্গীর বলেন, আমি কক্সবাজার থাকাকালে জেলা পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে বর্তমান মঞ্জুরিকৃত জনবলের অতিরিক্ত বিভিন্ন পদবীর জনবলের পদ সৃষ্টির লক্ষে বর্তমান জনবল এবং প্রস্তাবিত জনবলের অর্গ্রানোগ্রাম প্রেরণ করেছিলাম। ইন্সপেক্টর জেনারেল বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে মোঃ আতিকুল ইসলাম, বিপিএম-বার, পিপিএম, এআইজি (আরএন্ডএম) মহোদয় বিষয়টি বিবেচনা করে  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে ছিলেন। এরপর বিষয়টি কোন অবস্থায় আছে আমি জানিনা।
কক্সবাজারের বর্তমান পুলিশ সুপার মোঃ আজাদ মিয়া জানিয়েছেন, ব্যাপক জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় কারণে অত্র জেলা পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামো সংস্কার ও অতিরিক্ত পদ সৃজনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যৌক্তিক। এ বিষয়ে এখন আমাদের করণীয় কিছু নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রণালেয়র পক্ষ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে অন্তত কক্সবাজারের পর্যটনের স্বার্থে জরুরিভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে শুধু কক্সবাজার নয়, এর সুনাম ছড়িয়ে পড়ত বিদেশেও। আশা করা যাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তর জরুরিভিত্তিতে কক্সবাজার জেলা পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামো সংস্কারের লক্ষে প্রয়োজনীয় পদবির পদগুলো সৃজন করবেন।
উল্লেখ্য, কক্সবাজারের পর্যটনসহ নানা কারণে অতি গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল অনুধাবন করে কক্সবাজার সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা পর্যায়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। এসময় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কক্সবাজার জেলাকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন, অপরাধ দমন ও প্রয়োজনীয় কারণে জেলা পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে মঞ্জুরিকৃত জনবলের অতিরিক্ত পদ সৃষ্টি করবেন।
পরবর্তীতে ২০১১ সালের ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সভা করেন। সেখানে উপস্থিত দায়িত্বশীলরা বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে কক্সবাজার জেলা পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে মঞ্জুরিকৃত জনবলের অতিরিক্ত জনবলের পদ সৃষ্টির বিষয়টি গুরুত্ব দেন। এরপর বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে বিষয়টি লিখিতভাবে জানানোর দীর্ঘদিন পরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে ফাইলটি আটকে আছে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT