টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

কক্সবাজারে পাহাড় ধস ও বজ্রপাতে নিহত ৩৮..ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৭ জুন, ২০১২
  • ১৪৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার থেকে… বৃষ্টি নেই। আকাশের মেঘও সরে যাচ্ছে। কমে যাচ্ছে নিম্নাঞ্চলের পানি। কিন্তু এর আগেই লন্ড-ভন্ড হয়ে যাওয়া পরিবারগুলোতে গতকাল দিনভর চলছিল শোকের মাতম। স্বজন হারানোদের কান্নায় ভারি তাদের আকাশ-বাতাস। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ জয়নুল বারী ও পুলিশ সুপার সেলিম মোঃ জাহাঙ্গীরসহ পুরো জেলা প্রশাসন জনপ্রতিনিধি এক হয়ে কাজ করছে দূর্গতদের দুঃখ মুছনে। এজন্য গতকাল দূর্গত বিভিন্ন এলাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে ৩৯ মেট্রিক টন চাল, ৩১ ক্যান গুড় ও ৪৩ বস্তা চিড়া। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন গুলোর জন্য নগদ টাকার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. জয়নুল বারী।

কারণ কক্সবাজারে পাহাড় ধস, দেয়াল চাপা, পানিতে ডুবে ও বজ্রপাতে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ জনে। একই সঙ্গে নিখোঁজ রয়েছে আরও ১২ জন। জেলা প্রশাসনের ত্রাণ ও পুণর্বাসন শাখা জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পাহাড় ধসে উখিয়া উপজেলায় সাতজন, কক্সবাজারে পাহাড় ধ্বসে মোট ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রামু উপজেলায় মারা গেছেন ৪ জন, চকরিয়া উপজেলায় মারা গেছেন ৫ জন, পেকুয়ায় ২ জন, মহেশখালীতে ৩ জন ও উখিয়া উপজেলায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বজ্রপাতে মারা গেছে ৫ জন। এর মধ্যে চকরিয়া উপজেলায় ৩ জন, পেকুয়া উপজেলায় ১ জন ও মহেশখালীতে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেয়াল চাপায় মারা গেছে ৩ জন। এর মধ্যে কক্সবাজার সদরে ২ জন ও মহেশখালীতে ১ জন। এছাড়া, পানিতে ডুবে মারা গেছে ৬ জন। এর মধ্যে কক্সবাজার সদরে ১ জন, রামুতে ৩ জন ও কুতুবদিয়ায় ২ জন মারা গেছেন। এর আগে মঙ্গলবার দিনে পাহাড় ধসে মহেশখালী উপজেলায় নিহত হন চারজন, কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুলে একজন, চকরিয়া উপজেলায় একজন এবং পেকুয়া উপজেলায় মারা গেছে একজন।

জেলা প্রশাসক মো. জয়নুল বারী বুধবার দুপুর আড়াইটায় ৩৮ জনের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে এই প্রতিবেদককে জানান, ভারী বর্ষণের কারণে জেলায় পাহাড় ধস, বজ্রপাত, বাড়ির দেয়াল চাপায় এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন উপজেলা থেকে পাওয়া তথ্য মতে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টায় উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের সোনাঘোনা পাড়ায় পাহাড় ধসে একই পরিবারের চারজনসহ সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। রাত ৩টার দিকে রামুর কাউয়ারকোপ ইউনিয়নের মধ্যম পাহাড়পাড়ায় পাহাড় ধসে একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় পাহাড় ধ্বসে চকরিয়া উপজেলায় মারা গেছে ৫ জন, পেকুয়ায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার দিনে মহেশখালীর কালারমারছড়ায় পাহাড় ধসে মারা যান ৩ জন। ওই দুই এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া, বজ্রপাতের ঘটনায় কুতুবদিয়া উপজেলায় বড়ঘোপ ইউনিয়নের লাল ফকিরপাড়ার খুকি আখতার (১৫) নামের এক কিশোরী নিহত হয়েছে। একই সঙ্গে চকরিয়া উপজেলায় দুইজন, পেকুয়া উপজেলায় ১ জন ও মহেশখালীতে ১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হলেও এদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার রাত ১২টায় বাড়ির দেয়াল চাপায় কক্সবাজার সদরে ঈদগাঁও ইউনিয়নের দরগারপাড়া এলাকার আনোয়ারা বেগম (৫০) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। আনোয়ারা ওই এলাকার মোহাম্মদ ইসলাম স্ত্রী। অপরদিকে, মঙ্গলবার রাতে রামু উপজেলার গর্জনীয়ার গর্জই খালে পারাপারের সময় নৌকা ডুবে ১২ নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় পর্যন্ত এদের খোঁজ মেলেনি।

কক্সবাজার আবহাওয়া কার্যালয় জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় সাগর এখনো উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মংলা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নং স্থানীয় সতর্ক সংকেত বলবৎ রাখতে বলা হয়েছে। বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৩৭ মিলিমিটার। টানা ভারী বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারের প্রায় দেড় শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক, চকরিয়া-মহেশখালী সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। জেলা প্রশাসক আরো বলেন, সব উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দূযোর্গ কবলিত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে সড়ক ও জনপদ বিভাগ, সেনাবাহিনী যৌথভাবে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঈদগাঁও ব্রিজ সংস্কার শুরু করেছে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT