টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

কক্সবাজারে তিন লাখ মানুষ পানিবন্দী:২০০ গ্রাম প্লাবিত

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১ জুলাই, ২০১৩
  • ১০৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

Flooding-bg20130630093555 ডেস্ক নিউজ :কক্সবাজারে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। বৃষ্টি, জোয়ারের পানি ও পাহাড়ি ঢলে এখনো পানিবন্দি হয়ে পড়েছে দুই শতাধিক গ্রামের মানুষ।

এতে বিভিন্ন স্থানে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে খাদ্য ও সুপেয় পানির সংকটে পড়েছে দুর্গত এলাকার জনগণ। কাজে যেতে না পারায় দিনমজুরদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে প্রাণহানির আশঙ্কার পরও কাউকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া যাচ্ছে না।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, গভীর সাগরে সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টির কারণে কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এর প্রভাবে বৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে, টানা বর্ষণে কক্সবাজার সদর উপজেলার ২০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এসব এলাকার মানুষ নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন নানা স্থানে। উখিয়ায় বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে অর্ধশতাধিক গ্রামের নিম্নাঞ্চল।

উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বাংলানিউজকে জানান, প্রবল বর্ষণে তার ইউনিয়নে কয়েকটি বসত ঘরের একাংশ ধসে গেছে।

হলদিয়াপালং ইউপি চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মিন্টু জানান, দু’টি ইউনিয়নে প্রায় দুই হাজার পরিবারের লোকজন পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে বসবাস করছে।

অপরদিকে, জেলার বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) শনিবার বিভিন্ন ইউনিয়নের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে প্রচার প্রচারণা জোরদার করেছেন। এছাড়া পাহাড়ি এলাকা থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের চিহ্নিত করে তাদের পার্শ্ববর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে আসার কথা বলেছেন। সারাদিন বিভিন্ন পাহাড়ে মানুষের ঘরে ঘরে গিয়েও কাউকে নিরাপদ আশ্রয়ে আনা যায়নি।

চকরিয়া ও পেকুয়ায় অন্তত অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

চকরিয়া পৌরসভার মেয়র নুরুল ইসলাম হায়দার বাংলানিউজকে জানান, ভারী বর্ষণেই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীকে। গতবছরের কয়েক দফা ভয়াবহ বন্যায় ভেঙে একাকার হয়ে যাওয়া পৌর শহর রক্ষাবাঁধ মেরামত না করায় বর্ষণের শুরুতেই এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘‘ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে ও মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি ভাটির দিকে তাড়াতাড়ি চলে যেতে না পারলে যেকোনো মুহূর্তে প্লাবিত হয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।’’

চকরিয়া ইউএনও জয়নাল আবদিন বাংলানিউজকে জানান, এরই মধ্যে তিনি কাকারার এসএমচরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেছেন। ঢলের পানি প্রবেশ করে বেশকিছু গ্রামের অসংখ্য মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।

কুতুবদিয়া দ্বীপের উপকুলের ৩৮ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল বশর চৌধুরী।

তিনি জানান, শনিবার ভোর থেকে কুতুবদিয়া দ্বীপের ওপর দিয়ে টানা ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। উপকূলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবোর) সাত কিলোমিটার ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে আষাঢ়ি পূর্ণিমার জোয়ারের নোনা পানি গ্রামাঞ্চলে ঢুকে পড়ে শত শত ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে।

কুতুবদিয়া ইউএনও মো. ফিরোজ আহমেদ বাংলানিউজকে জানান, পাউবোর ভাঙন বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি এলাকায় ঢুকে এবং টানা বৃষ্টির পানি ফলে কুতুবদিয়া দ্বীপের নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ বসতঘর, ফসলি জমি, পুকুর ডুবে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে জমে থাকা পানি যথার্থভাবে নিষ্কাশনের জন্য পাউবোর স্লুইস গেটগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে।

টানা ভারী বর্ষণ, সাগর-নদীর অস্বাভাবিক জোয়ার ও পাহাড়ি ঢলে টেকনাফের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া টানা বর্ষণে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় উপজেলায় মাইকিং করা হয়েছে বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিক মিয়া।

বৃষ্টি ও বাঁকখালী নদীতে পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় রামু উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

রামু ইউএনও মো. মাসুদ হোসেন বাংলানিউজকে জানান, দুই ইউনিয়ন ছাড়া উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের অন্তত ১০ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। পানির স্রোতে বেশ কয়েকটি বেঁড়িবাধ ভেঙে গেছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে হাইটুপি ভুতপাড়া, গর্জনীয়া সেতুর এপ্রোচ সড়ক, কোনার পাড়া সড়কটি ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

কক্সবাজারে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে।  কক্সবাজার শহরসহ জেলার দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে ওই সব এলাকার অন্তত তিন লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে।

 প্লাবিত এলাকায় তলিয়ে গেছে চিংড়ি ঘের, পানের বরজ, বীজতলাসহ ফসলি জমি।

 জেলার মাতামুহুরী, বাঁকখালী ও রেজু নদীর পানি এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বন্যা দেখা দিয়েছে চকরিয়া, রামু, কক্সবাজার সদর ও পেকুয়া উপজেলায়।

 এদিকে, পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার শহর ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। কক্সবাজার শহর ও জেলার দুই শতাধিক গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কয়েক শত দোকানে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 কক্সবাজারের কলাতলী হোটেল মোটেল জোনসহ পর্যটন এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে মারাত্মক জলাবদ্ধার সৃষ্টি হয়েছে। বেশ কয়েক তারকামানের হোটেলের নিচ তলায় পানি উঠেছে।

 অপরদিকে, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসরতদের সরিয়ে যেতে জেলাব্যাপী প্রশাসন মাইকিং চলছে। শনিবার বিকেল থেকে কক্সবাজার সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে প্রশাসন লার পাড়া, সৈকত পাড়া থেকে শতাধিক পরিবারকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

 কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবীদ একেএম নাজমুল হক জানান, গভীর সাগরে সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টির কারণে কক্সবাজারে আরো দুই থেকে তিন দিন ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। কক্সবাজার, চট্রগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দরকে দেয়া ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এখনো বলবৎ রয়েছে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT