টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

কক্সবাজারে গাড়ি চোর পাচারকারী চক্র ফের সক্রিয়

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২ জুলাই, ২০১৩
  • ১৪৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক :-শহর ও গ্রাম ভিত্তিক গড়ে উঠেছে গাড়ী গাড়ী চোরদের শতাধিক সদস্যের এক বিশাল সিন্ডিকেট। এতে জড়িত রয়েছে কয়েকটি পরিবণ শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা ও সদস্য। তাদের নতুন কৌশল সর্বত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ায় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয় হয়ে উঠেছে।শহর থেকে গাড়ী চুরি করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে গ্রামে, আর গ্রাম থেকে নিয়ে আসা হচ্ছে শহরে। সোমবার মহেশখালী সেতু থেকে নাম্বার প্লেইট বিহীন একটি সিএনজি টেক্সী আটক করেছে কালারমারছড়া ফাঁড়ির পুলিশ। এ জন্য বিভিন্ন উপজেলার প্রবেশ দ্বারে বাড়িয়েছে পুলিশের নজরদারী। পুলিশের উর্ধ¦তন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে নাম্বর প্লেইট বিহীন ত্রুটিপূর্ণ গাড়ী আটক অভিযান আরো জোরদার করবে। প্রাপ্ত তথ্যমতে কক্সবাজার শহর থেকেই প্রতিমাসে মোটর সাইকেল ও সিএনজি টেক্সী প্রায় ৮/১০ গাড়ী চুরি হয়। এ পর্যন্ত চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে একটি মাইক্রোবাস ছাড়া কোন চোরাই গাড়ী প্রশাসন উদ্ধার করতে পারেনি। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চোরাই গাড়ী কুরিয়ার সার্বিসের মাধ্যমে কক্সবাজার এনে তা পাঠিয়ে দেওয়া হয় জেলার বিভিন্ন গ্রামে। কতিপয় পরিবহন শ্রমিক নেতার মাধ্যমে তা বিক্রি করে দেওয়া হয়। চোরাই গাড়ী বিক্রি করে অনেক শ্রমিক নেতা ইতোমধ্যে কোটিপতিতে পরিণত হয়েছেন। এ জন্য তারা শ্রমিক ইউনিয়নের পদ দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠে। প্রয়োজনে তারা গড়ে তোলে পৃথক পরিবহন মালিক সমিতি।মহেশখালী জীপ, কার ও মাইক্রো মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাবিব উল্লাহ জানান, আমাদের সমিতি একমাত্র রেজিষ্ট্রাট হলেও এখানে পরিবহন শ্রমিকের ইউনিয়নের নামে গড়ে উঠেছে আর একটি সমিতি। এ নামটি ব্যবহার করে তারা চোরাই গাড়ী বিক্রিসহ নানা অপরাধ মুলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি কক্সবাজার থেকে নিয়ে আসা একটি সিএনজি টেক্সী হোয়ানকে এনে বিক্রি করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়লে তা প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেওয় হয়। গোপনে অনেক চোরাই গাড়ী ইতোমধ্যে মহেশখালী বিক্রি হয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করা হয়।
চকরিয়া বদরখালী সড়কে কর্মরত এক পরিবহন শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মহেশখালী,বদরখালী চকরিয়া সড়ক, লামা আলী কদম সড়ক ও পেকুয়া চকরিয়া সড়কে যে সিএনজি টেক্সী গুলো চলাচল করে তার অধিকাংশই চোরাই গাড়ী। কতিপয় পরিবহন শ্রমিক নেতার তত্বাবধানে তা পরিচালিত হচ্ছে। তারা গাড়ী চোরদের কাছ থেকে স্বল্পদামে গাড়ী ক্রয় করে তা উচ্চ মুল্যে বিক্রি করে। চোরাই গাড়ীর ব্যবসা করে অনেকেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। পুলিশের তৎপরতা বাড়ালে গাড়ী চুরি অনেকাংশে হ্রাস পাবে। ওই নেতারা বিভিন্ন স্থানে প্রভাব বিস্তারের জন্য স্থানীয় সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে।
কক্সবাজার জেলা ট্রাক, বাস মিনিবাস,কার ও মাইক্রোবাস মালিক গ্রুফের একজন সহ-সভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কক্সবাজার শহরে যারা গাড়ী চুরির সাথে জড়িত তারা অত্যন্ত প্রভাবশালী। গাড়ী কারা চুরি করেছে তা জানার পরও মালিক পক্ষ তাদের কিছু করতে পারে না। শহরে চুরি হওয়া গাড়ীর কোন কিছু পরিবর্তন না করে তা গ্রামে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। গ্রামে ব্যবহার করা গাড়ী গুলো পরিক্ষা করলে বিপুল পরিমান চোরাই গাড়ীর সন্ধ্যান পাওয়া যাবে। বেশীর ভাগ চোরাই গাড়ী ঈদগড়, মহেশখালী, কুতুবদিয়া পেকুয়া, আলী কদম ও বদরখালীতে নিয়ে যাওয়া হয়। তেমন তদারকী না থাকায় গাড়ী চোরের সিন্ডিকেটরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
কালারমারছড়া, বদরখালী ও হারবাং পুলিশ ফাঁিড়র ইনচার্জ জানিয়েছেন এ ধরণের অভিযোগ পাওয়ায় তারা সড়কের বিভিন্ন স্পটে নজরদারী বাড়িয়েছেন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আকতার দৈনিক কক্সবাজারকে জানিয়েছেন অবৈধ গাড়ী আটক করা পুলিশের চলমান পক্রিয়া। তবে এ পক্রিয়া আরো জোরদার করা হবে।

সংবাদটির প্রতিবেদক :সৈয়দুল কাদের,কক্সবাজার।

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT