টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

কক্সবাজারে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে কেবল চীনের সাড়া

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ৮ মে, ২০১৩
  • ১৫২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

indexসরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপে দেশের প্রথম প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে একমাত্র চীন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জার্মানি, আবুধাবি, নেদারল্যান্ডস, মালয়েশিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ডেনমার্ক মৌখিকভাবে আগ্রহ দেখালেও বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে তারা লিখিত প্রস্তাব দেয়নি। এ অবস্থায় পরবর্তী সময়ে করণীয় নির্ধারণে আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে চীনের দেওয়া প্রস্তাব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার পাশাপাশি বাকি ৯ দেশ থেকে সাড়া পেতে আরো কিছু সময় অপেক্ষা করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব শেখ মো. ওয়াহিদ উজ জামানের সভাপতিত্বে গত ১০ মার্চ অনুষ্ঠিত বৈঠকে সোনাদিয়ায় প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে আগ্রহী ১০ দেশকে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
সে আলোকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মাধ্যমে আগ্রহী দেশগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়েছিল, আগ্রহী দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ সরকার লিখিত প্রস্তাব চায়। এ ছাড়া সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান আগ্রহী হলে তাকে অবশ্যই সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে লিখিত প্রস্তাব দিতে হবে। এ জন্য এক মাস সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও চীন ছাড়া কেউই লিখিত প্রস্তাব দেয়নি।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানিয়েছে, সরকারি পর্যায়ে অন্য দেশে তারা এ ধরনের বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণ করে না। তাই গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানোর সুযোগ নেই। নেদারল্যান্ডস সরকারও একই কথা জানিয়ে দিয়েছে। তবে বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসলে তারা তাতে মত দেবে।
গত ২৯ জানুয়ারি আবুধাবির বৈদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রী লুবনা বিনতে খালেদ আল কাসেমি বাংলাদেশ সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে বিনিয়োগের প্রস্তাব করেন। সরকারি পর্যায়ে এ বন্দর নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আবুধাবিকে লিখিত প্রস্তাব পাঠাতে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু দেশটি কোনো লিখিত প্রস্তাব দেয়নি বলে ইআরডি সূত্র জানিয়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নাসির আরিফ মাহমুদ বলেন, ‘আজকের (বুধবার) বৈঠকে চীনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। অন্য দেশ থেকে সাড়া পাওয়ার বিষয়ে আরো কিছু দিন অপেক্ষা করা হবে কি না, তা বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে।’
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র জানায়, চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানি লিমিটেড গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে গত ১৮ এপ্রিল সরকারকে লিখিত প্রস্তাব দেয়। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। ওই প্রস্তাবে তারা সমুদ্রবন্দর নির্মাণে সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) একটি খসড়াও পাঠিয়েছে। চীন সরকারের মাধ্যমে হারবার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বাংলাদেশ কার্যালয়ের আবাসিক প্রতিনিধি হুয়াং দাউজুন এ প্রস্তাব পাঠিয়েছেন।
চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বিল্ড, অপারেট অ্যান্ড ট্রান্সফার বা বিওটি পদ্ধতিতে তারা এ বন্দর নির্মাণ করবে। এতে তারা ৮০ শতাংশ অর্থ বিনিয়োগ করবে। বাকি ২০ শতাংশ বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগ করবে। বন্দরটি নির্ধারিত একটি সময় পর্যন্ত পরিচালনা করবে চায়না হারবার। সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর আট মাসের মধ্যে অর্থায়নসহ সব বিষয় চূড়ান্ত করা হবে। এ ছাড়া চায়না হারবারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার অন্য দেশের সঙ্গে সমুদ্রবন্দর নির্মাণবিষয়ক কোনো প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে পারবে না।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় সূত্র জানায়, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ বিষয়ে গত ১০ মার্চ শেখ ওয়াহিদ উজ জামানের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন অর্থসচিব, ইআরডিসচিব, নৌসচিব, পররাষ্ট্রসচিব, বাণিজ্যসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন পরিচালক। সে কমিটির দ্বিতীয় সভা আজ অনুষ্ঠিত হবে। এ কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রায় তিন বছর অনেক দেন-দরবার ও বিস্তর আলোচনার পর দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পটি সরকারি পর্যায়ে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত কমিটিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্বের যেকোনো দেশ এ প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে পারবে। এ ছাড়া একাধিক দেশ একসঙ্গে এই প্রকল্পে অর্থায়ন করতে পারবে। ২০০৯ সালে সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে জাপানের পরামর্শক দিয়ে এ সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছিল। এতে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT