টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
টেকনাফে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের গুলিতে সিএনজি চালক খুন তালিকা দিন, আমি তাঁদের নিয়ে জেলে চলে যাব: একজন পুলিশও পাঠাতে হবে না: বাবুনগরী টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উদ্যোগে মানসিক রোগিদের মধ্যে খাবার বিতরণ বাংলাদেশে নারীর গড় আয়ু ৭৫, পুরুষের ৭১: ইউএনএফপিএ ফেনসিডিল বিক্রির অভিযোগে ৩ পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার দেশের ৮০ ভাগ পুরুষ স্ত্রীর নির্যাতনের শিকার’ এ বছর সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০ টাকা, সর্বোচ্চ ২৩১০ হেফাজতের বর্তমান কমিটি ভেঙে দিতে পারে: মামলায় গ্রেফতার ৪৭০ জন মৃত্যু রহস্য : তিমি দুটি স্বামী – স্ত্রী : শোকে স্ত্রী তিমির আত্মহত্যাঃ ধারণা বিজ্ঞানীর দেশে নতুন করে দরিদ্র হয়েছে ২ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ

এবার লাঞ্চিত হলেন আ’লীগ নেতা ও প্রবীন শিক্ষক

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৩
  • ১২১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার থেকে॥
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে এবার লাঞ্চিত হলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য বিদায়ি সাধারণ সম্পাদক, রামু উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক। বুধবার (২ জানুয়ারি) রামু উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলার ১৯ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৈশ প্রহরী (কাম) দপ্তরী নিয়োগ কমিটির সভায় এ ঘটনা ঘটে। ইতিপূর্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক কয়েকজন ইউপি সদস্যকে ‘লাথি না মারার আগে আমার বাসা থেকে বের হয়ে যান’ ধরনের অসংলঘœ কথাবার্তা বলে বিতর্কিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবী চন্দ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অব্যাহত দূর্ব্যবহার নিয়ে সর্বত্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য বিদায়ি সাধারণ সম্পাদক, মেরংলোয়া মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান শামসুল আলম জানান, বুধবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলার ১৯ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৈশ প্রহরী (কাম) দপ্তরী নিয়োগ কমিটির সভায় তাকে আমন্ত্রন জানানো হয়। সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবী চন্দ উক্ত নিয়োগ সংক্রান্ত পরিপত্র না দেখিয়ে নিজের ইচ্ছে অনুযায়ি বক্তব্য প্রদান ও সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেন। তিনি এর প্রতিবাদ করে কমিটির সকলকে পরিপত্র দেখালে নিয়োগ সংক্রান্ত আলোচনা ভালো হবে বলে অভিমত দেন। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার এ অভিমত শুনে ক্ষেপে গিয়ে বলেন ‘গলা নামিয়ে কথা বলুন, নইলে এক্ষুনি এখান থেকে বের করে দেব’। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এ ধরনের অসংলঘœ কথা শুনে সভায় উপস্থিত সকলে হতবাক হয়ে যান।
শামসুল আলম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এ বক্তব্যের তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ করে বলেন, ‘আপনি কথা সাবধানে বলেন। সাহস থাকলে বের করে দেন, পুলিশ ডাকেন, দেখি বের করতে পারেন কিনা’।
জানা গেছে, ওই সভা শুরুর দিকে মোবাইল ফোনে রিং বেজে উঠার মেরংলোয়া মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৌলানা মোহাম্মদ তৈয়বকে ফোন খোলা রাখায় ধমক দেন। এসময় সভায় উপস্থিত অনেকে ভয়ে নিশ্চুপ হয়ে যান।
সভায় উপস্থিত অনেকে জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবী চন্দ ১০ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৈশ প্রহরী/দপ্তরী নিয়োগ নিয়ে অবৈধ বাণিজ্য করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাই পরিপত্র চাওয়ায় তিনি ওই সভায় ক্ষিপ্ত হয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানার জন্য গতকাল রাতে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবী চন্দ’র দুটি মোবাইল ফোনে অনেকবার চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে একটি মোবাইল ফোন বন্ধ এবং অন্যটি দীর্ঘক্ষন ব্যস্ত ছিলো। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবী চন্দ গত ২০ ডিসেম্বর রামুর কয়েকজন ইউপি সদস্যের সাথেও অশোভন আচরণ করেন। ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের কর্মসৃজন প্রকল্পের ২২০ জন শ্রমিক দুই সপ্তাহের বেতন না পেয়ে ওই দিন ইউএনও’র বাসভবন ঘেরাও করে ক্ষুব্দ শ্রমিকরা। এসময় শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে ইউএনও’র বাড়ির উদ্দেশ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের চেষ্টা চালালে কয়েকজন ইউপি সদস্য তাদের নিবৃত করে।
ওইসময় ইউপি সদস্যা আফসানা ইয়াছমিন পপি, ইউপি সদস্য মনির আহমদকে ইউএনও বলেন, ‘লাথি না মারার আগে আমার বাসা থেকে বের হয়ে যান’। একপর্যায়ে সোফায় দাঁড়িয়ে মারধরের ভঙ্গিতে কথা বলা শুরু করেন ইউএনও।
ইউপি সদস্যা আফসানা ইয়াছমিন পপি, ইউপি সদস্য মনির আহমদ এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তারা জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। বিনা অজুহাতে তাদের সাথে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ ধরনের রূঢ় আচরণ করায় তারা চরম অপমানবোধ করছেন। ওইসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবী চন্দ তার বাসা ঘেরাও করার কথা অস্বীকার করেছিলেন।
॥ ইউএনও’র বিতর্কিত কর্মকান্ড ॥
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নানা অনিয়ম আর বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের সাথে অশোভন আচরণ নিয়ে পুরো উপজেলায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা আর ক্ষোভ। ইউএনও আসার পর থেকে থমকে আছে রামুর উন্নয়ন কর্মকান্ড। শতাব্দীর বড় বন্যার কোথাও সংস্কার কাজ শুরু হয়নি। আর ২৯ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা থাকার পরও রামুর বিতর্কিত ইউএনও দেবী চন্দ বহাল তবিয়তে থাকায় বৌদ্ধ সম্প্রদায় সহ রামুর সচেতন মহলে দিন-দিন ক্ষোভের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। রামুবাসী মনে করে, ব্যর্থতার দায়ভার ইউএনও এড়াতে পারেন না। তিনি ওইদিন যথাযথ আইনী পদক্ষেপ নিলে সহিংতা ভয়াবহ হতো না।
এদিকে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবী চন্দের অনৈতিক আবদার মেটাতে না পারায় রামুতে ঝিমিয়ে পড়েছে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) কার্যক্রম। বন্যা পরবর্তী সময়ে ইউএনওর স্বেচ্ছাচারিতার কারনে ৭ কোটি টাকা রামুর পরিবর্তে চট্টগ্রামের একটি উপজেলায় চলে গেছে বলে জানিয়েছেন, স্বনামধণ্য এনজিও সংগঠন অগ্রযাত্রা’র চেয়ারম্যান, ইউনেস্কা পুরস্কারপ্রাপ্ত নীলিমা আকতার চৌধুরী। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একটি ডিও ফরমের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে ব্যাপক হয়রানি করেছেন।
এদিকে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে উপজেলা খাদ্য অধিদপ্তরের চাল সংগ্রহ অভিযান ইউএনও’র স্বেচ্ছাচারিতার কারনে বাঁধাগ্রস্ত হয়েছে। খোদ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দেয়া একটি লিখিত চিঠিতে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। একারনে অনেক রাইচ মিল মালিকও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। উপজেলায় শিক্ষা কর্মসূচী নিয়ে কাজ করা একটি এনজিও সংস্থাও ইউএনও’র বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ জানিয়েছেন।
দেশের বৃহৎ এনজিও সংস্থা ব্র্যাক এর হত-দরিদ্র কর্মসূচীর জেলা পর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানান, সরকারের অনুমোদন থাকার পরও ইউএনও দেবী চন্দ রামুতে তাদের কোন কার্যক্রম চালাতে দেননি। এ কারনে রামুর অনেক কর্মসূচী তারা পেকুয়া সহ অন্যান্য উপজেলায় বাস্তবায়ন করেছেন। বিগত ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসকে পূঁজি করে পুরো উপজেলায় ব্যাপক চাঁদাবাজী করেন ইউএনও দেবী চন্দ। এমনকি টাকার পরিমান কম হওয়ায় একটি খামও একটি সংস্থার ম্যানেজারকে ছুড়ে মারেন ইউএনও।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT