টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
রোহিঙ্গাদের এনআইডি কেলেঙ্কারি : নির্বাচন কমিশনের পরিচালকের বিরুদ্ধে দুপুরে মামলা, বিকালে দুদক কর্মকর্তা বদলি সড়কের কাজ শেষ হতে না হতেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং! আপনি বুদ্ধিমান কি না জেনে নিন ৫ লক্ষণে ৫৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশি ভোটার: নিবন্ধিত রোহিঙ্গাও ভোটার! ইসি পরিচালকসহ ১১ জন আসামি হ’ত্যার পর মায়ের মাংস খায় ছেলে ব্যাংকে লেনদেন এখন সাড়ে ৩টা পর্যন্ত আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত লকডাউন বাড়ল মডেল মসজিদগুলোয় যোগ্য আলেম নিয়োগের পরামর্শ র্যাবের জালে ধরা পড়লেন টেকনাফ সাংবাদিক ফোরামের সদস্য ও ইয়াবা কারবারি বিপুল পরিমাণ টাকা ও ইয়াবা উদ্ধার রোহিঙ্গাদের তথ্য মিয়ানমারে পাচার করছে জাতিসংঘ: এইচআরডব্লিউ

এনজিও’র কাজে তদারকি নেই-টেকনাফে অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে চলেছ ক্রেল প্রকল্প !

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৫
  • ২২১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

টেকনাফ নিউজ…
পরিবেশ ও রক্ষিত এলাকা সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্রের উন্নত ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বহুমুখি জীবিকায়নের লক্ষে এনজিও ‘ক্রেল’ এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছেন বলে জানা গেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। প্রকল্পটির অর্থায়নে রয়েছেন ইউএসএইড।

সুত্র অনুযায়ি, বনবিভাগের পরিবেশ রক্ষা উন্নয়ন কর্মকান্ডে নিয়োজিত ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইক্যোসিস্টেমস এন্ড লাইভলিহুডস (ক্রেল) চারটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ার কথা। তা হলো প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্রের উন্নত সুশাসন, প্রধান অংশভোগীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি, জলবায়ূ সহিষ্ণু প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, অভিযোজন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং উন্নত পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু সহিষ্ণু জীবিকা। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন অনেকটা খাতা কলমে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও সম্পৃক্ততার কোন প্রমান এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বনবিভাগের সহযোগীতা নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে টেকনাফ উপজেলায় কত টাকা বরাদ্দ রয়েছে তা জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন সাইট কর্মকর্তা নেছার আহমেদ। এই কর্মকর্তা বনবিভাগের দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের যোগসাজসে প্রকল্পের টাকা আত্মসাত করে নিজেরা আখের গুছিয়েছে

এই বির্তকিত এনজিও’র বিভিন্ন অনিয়ম, দূর্নীতি, জালিয়াতি ও প্রতারনা নিয়ে ধারাবাহিক তথ্য অনুসন্ধানে রেবিয়ে আসতে শুরু করেছে থলের বিড়াল।  প্রকল্পের কাজে কোন প্রকার তদারকি না থাকার ফলে যেমন ইচ্ছা তেমন করে যাচ্ছে। দূর্নীতিবাজ বন কর্মকর্তা কর্মচারীর সহায়তায় বিদেশ থেকে আনা কোটি কোটি টাকার ডলার ইউরো লুটপাট করে খাচ্ছেন। বিগত কয়েক বছর  ধরে এই লুটপাট চলছে বিরামহীনভাবে, বাধাহীনভাবে। সরকারের তরফ থেকে বিপুল অংকের এই বিদেশী ডোনেশন অডিট করাও হয় না। তদুপরি প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার বেতন-ভাতা ছাড়াও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছেন।

এ প্রকল্পের কার্যক্রমের কর্মকর্তা কর্মচারীরা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে ভূয়া ফরমেট তৈরী, ক্রয় কমিটি বিহীন পশুসহ মালামাল ক্রয়, চারা বিতরনে পরিমাণ বেশি দেখানো, বনপ্রহরী ও কলেজ ছাত্রদের প্রশিক্ষণ ও মাসিক সম্মানী ভাতা আতœসাত, দমদমিয়া নেচারপার্কের উন্নয়নের নামে  সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে ১ লাখ টাকা থেকে মাত্র ৩টি সাইন বোর্ড ও ২ হাজার টাকার মাটি ভরাট করে ৯০ হাজার টাকা আতœসাত, প্রধান বন সংরক্ষক সভা অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত ভূয়া বিল তৈরী, লাইলিহুডস মালামাল ক্রয়ে ভূয়া বিল, সর্বশেষ ভূয়া প্রকল্পে কাজ দেখিয়ে জালিয়াতি করে সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির টাকার চেক চুরি করার অভিযোগ উঠে।

ক্রেল প্রকল্পের সাইট অফিসার নেছার আহমদ বনবিভাগের গাছ কর্তন করে লাখ লাখ টাকার ফার্ণিচার তৈরী, অন্তহীন অনিয়ম, মাদক সেবন, অনৈতিক কাজের প্রস্তাব, অর্থ কেলেংকারীসহ  একাধিক অভিযোগ থাকলেও এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে উক্ত কর্মচারী। নাম প্রকাশ করা হল না, ভাড়াবাসায় প্রতিনিয়ত দুই মহিলা আসা-যাওয়া করে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। কি কারণে আসা- যাওয়া করে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পাশের বাড়ির লোকজন কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি। নাম প্রকাশে অনিশ্চুক স্থানীয় গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন, প্রায় সময় অফিসের অভ্যন্তরে বসে প্রকাশ্য মদ্যপান সহ নেশা জাতীয়দ্রব্য সেবন করে। শুধু তাই নয়, নেশা জাতীয়দ্রব্য সেবন করার জন্য কয়েক চাকুরীজীবী বন্ধু সহ বহিরাগত উখিয়া ও টেকনাফ এলাকার অজ্ঞাত নামা একাধিক যুবক আসা যাওয়া করে। তাদের গতিবিধি সন্দেহ জনক। এছাড়া চাকুরী দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় মহিলাদের সাথে অশুভ আচরন সহ অনৈতিক সুবিধা আদায় করে এমন অভিযোগ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর জানালেও কোন কাজ হয়নি।

এছাড়া অনেক কর্মীর দোকান থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার উপকরন ক্রয় করিয়ে সে টাকাও দেওয়া হচ্ছে না। উপরন্তু টাকা চাওয়ায় চাকুরীচ্যুত করারও অভিযোগ উঠে। এমনকি লাইভলিহুডস এর কামরুল চাকুরী ছেড়েছেন। তার স্থলাভিষিক্ত হলেন  নজরুল ইসলাম। সে যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়ম দূর্নীতি আরো বাসা বাঁধে।

খোঁজ আরো জানা যায়, সংরক্ষিত বন এলাকায় সম্পৃক্ত এমন ব্যক্তি সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটিতে থাকতে পারবে এবং ভোটাভোটির মাধ্যমে সরকারী কর্মকতার্রা এটি গঠন করবে। কিন্তু সেখান ব্যতিক্রম ঘটে। একজন বির্তকিত কর্মকর্তা নেছার আহমেদ উক্ত কমিটি গঠন করে উপদেষ্টা বরাবর উপস্থাপন করেছে।  এতে করে সরকারী আইন-কানুন কিছুই মানা হয়নি। বর্তমানে কমিটির নেতারা একজনও বন এলাকায় বসবাসকারী নয়।

কোষাধ্যক্ষ মো: শফিক বি কম জানান, নেছার আহমেদ অনিয়ম ও দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি করার উদ্দেশ্যে এ কমিটি গঠন করে এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের নাম বিক্রি করছেন।  এব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ জানিয়েছেন, তিনি কিছুই জানেন না।

এসব অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কেউই মাথা ঘামাতে রাজি নন। এমনকি প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারের কাছে জবাবদিহিতা না থাকায় এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে দুর্নীতি হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। সরকারী বা বেসরকারী সংস্থাগুলোর কাজের মধ্যে সমন্বয়হীনতা, ওভারল্যাপিং পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিংয়ের অভাবে প্রচুর অনিয়ম এবং দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে।

সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সভাপতি এসকে আনোয়ার বলেন, নেছার আহমেদ অনিয়ম ও দূর্নীতি করে এই প্রকল্পের নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। আমি অনেক সমস্যা সমাধানের করছি।

এ ব্যাপারে নেছার আহমদ এর কাছে  সাংবাদিক পরিচয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এইসব কিছু আমি জানিনা এবং এখন ক্রেল এর কোন দায়িেত্ব আমি নেই। এইসব কাজ রেজাউল করিম চৌধুরী দেখাশুনা করেন।

এ ব্যপারে জেলা দক্ষিণ বনবিভাগের সহকারি বন সংরক্ষক(এসিএফ) রেজাউল করিম চৌধূরী জানান, আমি একজন সরকারি কর্মকর্তা বন বিভাগের দায়িত্বে রয়েছি। ক্রেল একটি এনজি সংস্থা এর দায়িত্বে আমি থাকতে পারিনা । ক্রেল কর্মকর্তা নেছার আহমদ মিথ্যাচার করেছেন। তিনি টেকনাফের দায়িত্বে রয়েছন।

প্রকল্প সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোজাহিদ উদ্দীন বলেন, আমাকে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির উপদেষ্টা করা হয়েছে।  কিন্তু আমি সাইট কর্মকর্তা নেছার আহমদের কাজে সন্তুুট নয়, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে সেভাবে বাস্তবায়ন হলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার উন্নয়নে যথেষ্ট ভুমিকা রাখতে পারে। তবে খাতা কলমে উপস্থাপন এবং বাস্তবতায় এর মিল সম্পর্কে এখনো সুস্পষ্ট কোন ধারনা তার নেই বলে জানান তিনি এবং এ উপজেলায় অর্থ বরাদ্দ সম্পর্কেও তিনি কিছুই জানাতে পারেননি।

সুচতুর জালিয়াত সাইট কর্মকর্তা উপজেলার স্বনামধণ্য ব্যাক্তিদের তার সংস্থার সদস্য দেখিয়ে লুটপাট  অব্যহত রেখেছে। অনেক সদস্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান ভূক্তভোগীরা। উক্ত দূর্নীতিবাজ কর্মকতার্র অপসারণ করার জোর দাবী ও তার  অপকর্মের তদন্ত দাবী করছেন বন এলাকা সংশ্লিষ্ট লোকজন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT