টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
টেকনাফে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের গুলিতে সিএনজি চালক খুন তালিকা দিন, আমি তাঁদের নিয়ে জেলে চলে যাব: একজন পুলিশও পাঠাতে হবে না: বাবুনগরী টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উদ্যোগে মানসিক রোগিদের মধ্যে খাবার বিতরণ বাংলাদেশে নারীর গড় আয়ু ৭৫, পুরুষের ৭১: ইউএনএফপিএ ফেনসিডিল বিক্রির অভিযোগে ৩ পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার দেশের ৮০ ভাগ পুরুষ স্ত্রীর নির্যাতনের শিকার’ এ বছর সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০ টাকা, সর্বোচ্চ ২৩১০ হেফাজতের বর্তমান কমিটি ভেঙে দিতে পারে: মামলায় গ্রেফতার ৪৭০ জন মৃত্যু রহস্য : তিমি দুটি স্বামী – স্ত্রী : শোকে স্ত্রী তিমির আত্মহত্যাঃ ধারণা বিজ্ঞানীর দেশে নতুন করে দরিদ্র হয়েছে ২ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ

এখন আর বসে থাকার সময় নেই- সাক্ষাৎকারে আল্লামা শফী

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩ মে, ২০১৩
  • ২১৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

indexমহিউদ্দীন জুয়েল, চট্টগ্রাম থেকে: ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচিতে বাধা এলে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছে সামপ্রতিক সময়ের আলোচিত সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। কেবল তাই নয়, কোন ধরনের নমনীয়তা ছাড়াই মাঠে লাগাতার অবরোধ, হরতালসহ নানা কঠোর কর্মসূচিও দেয়ার বিষয় চূড়ান্ত করেছে তারা। গতকাল মানবজমিন-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এমনই কথা বলেছেন হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী। এই সময় দুপুরে হাটহাজারী মাদরাসায় ৫ই মে ঢাকা ঘেরাও নিয়ে দলটির শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে আহমদ শফী ১৩ দফা দাবির বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। এই বিষয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। জানান, তারা সুবিধাবাদী আচরণ করছেন। একদিকে নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তির কোন ব্যবস্থা না করে তাদের বাহবা দিচ্ছেন। অন্যদিকে আবার দেশের আলেম সমাজকে হাতে রেখে এক ধরনের সান্ত্বনার বাণী শোনাচ্ছেন। আহমদ শফী এই সময় আহলে সুন্নাতেরও সমালোচনা করেন। এই সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কে কার পক্ষ হয়ে কাজ করছে তা সবাই জানে।’
‘ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। আপনারা এর আগের কর্মসূচিতে বাধা পেয়েছিলেন। এবার পেলে কি করবেন?’- এমন প্রশ্নের জবাবে শাহ আহমদ শফী বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি, এখনও বলছি। হেফাজতে ইসলাম কোন রাজনৈতিক সংগঠন নয়। লংমার্চে ঢাকায় লোক আসতে দেয়া হয়নি। সেখানে ৫০ লাখ লোক জড়ো হওয়ার কথা ছিল। সরকার সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়ে হেফাজতের ওপর অন্যায় আচরণ করেছে। ট্রেন, লঞ্চ ফেরি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল। তারা ভেবেছিল আমরা সরকারের বিরুদ্ধে কোন কর্মসূচি দেবো। তাই ভয়ে নেতা-কর্মীদের পথে পথে বাধা দেয়। কিন্তু এবার সেই রকম কিছু হলে আরও কঠোর হবে হেফাজতে ইসলাম। বিশেষ করে ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নে বাধা এলে এক দফার আন্দোলন শুরু করবো। আর তা হচ্ছে সরকার পতনের আন্দোলন।’
‘কর্মসূচি কতটুকু সফল হবে বলে আপনারা মনে করছেন’ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ধর্মপ্রাণ মানুষ এর মধ্যেই ঢাকায় আসার প্রস্তুতি নিয়েছেন। এর মধ্যে আমাদের শীর্ষ আলেমরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে সভা-সমাবেশ করে সবাইকে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এবার লোকজন আগের চেয়ে অনেক বেশি হবে। কারণ সবার মধ্যেই একটা ক্ষোভ কাজ করছে। আমরা কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি মেনে নেয়ার দাবি জানাইনি। ১৩ দফা দাবি দিয়েছি। এখানে ইসলাম রক্ষার কথা বলা হয়েছে। সরকার দাবি বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে।’
‘হেফাজতে ইসলামকে সরকারের অনেক মন্ত্রী, এমপি বিরোধী দল বলে আখ্যায়িত করেছেন। আবার তাদের অনেকেই আপনার সঙ্গে দেখা করে লংমার্চের কর্মসূচি পেছানোর জন্য জোর অনুরোধ করেছেন, বিষয়টা কি’, প্রশ্নের জবাবে আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, ‘সরকারের লোকজন হেফাজতকে বিরোধী দল বলে মনে করে। কিন্তু এটি ভুল ধারণা। আমরা কোন দলের পক্ষে কাজ করছি না। শাহবাগে যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে এক ধরনের নাস্তিক ব্লগার নবী, রাসুলকে নিয়ে কটাক্ষ করেছে। একই সঙ্গে সেখানে নারী, পুরুষের অবাধ বিচরণ ও মেলামেশা পুরো মুসলমান গোষ্ঠীকে ব্যথিত করেছে। সামগ্রিক অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ ও নাস্তিক ব্লগারদের এদেশ থেকে তাড়াতে পুরো আলেম সমাজ ফুঁসে উঠেছে। তারা প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে। হেফাজতে ইসলাম কমিউনিস্টদের এমন আচরণ কিছুতেই মেনে নেবে না। এর আগে বনমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এখানে এসেছিলেন। তার সঙ্গে এসেছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুস সালাম। পুলিশের অনেকেও যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু তাদের আমরা সাফ বলে দিয়েছি নাস্তিক ব্লগারদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়া পর্যন্ত সমঝোতা বা আলোচনা নয়।’
‘১৩ দফা দাবির বিষয়ে সরকারের মনোভাব এখন কি বলে মনে করছেন’ এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘১৩ দফার দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন দেশের সব শীর্ষ আলেমরা। অথচ একটি মুসলিম প্রধান দেশের সরকার এখন পর্যন্ত কোন দাবি মানার ঘোষণা দেয়নি। সরকার ঠিক বুঝতে পারছে না তারা কি করবেন। ক্ষমতায় থাকার জন্য তারা নাস্তিকদের সহযোগিতা চাইছেন। এমন সিদ্ধান্ত নিলে খুব ভুল করবেন। আমরা আশা করবো ১৩ দফা দাবি মেনে নিয়ে নবী, রাসুলের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করবেন। না হলে দেশের মানুষই তাদের ক্ষমতায় রাখবে না’- বললেন হেফাজতে আমীর।
‘সংসদে আপনারা নবী-রাসুলকে নিয়ে কটাক্ষ করলে আইন পাস করার কথা জানিয়েছেন?’ উত্তরে তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষই চায় তার ধর্মের মহাগুরুকে নিয়ে যাতে কেউ কটাক্ষ না করে। শাহবাগের ছেলেপেলেদের অনেকে ইচ্ছে মতো নবী, রাসুলকে নিয়ে অশ্লীল কথা লিখছে। আমাকে নিয়েও বাজে কথা লিখেছে। এসব বেয়াদবি কিভাবে সহ্য করা যাবে। সরকার সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর আস্থা-বিশ্বাস বাদ দিয়ে পুরো জাতিকে ঈমানহারা করছে। আলেমরা অনেক ধৈর্য ধরেছে। এখন আর বসে থাকার সময় নেই।’
‘আহলে সুন্নাত নামের একটি সংগঠন আপনাদের বিরোধিতা করছে। এই বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি?’ এ বিষয়ে আহমদ শফী বলেন, ‘আমাদের দাবির সঙ্গে হক্কানী আলেমদের কোন দ্বিমত থাকতে পারে না। সারা দেশের আলেম সমাজ, সাধারণ মানুষের দাবি এক। তবে যাদের কথা বলছেন তারা কারও পক্ষ নিয়ে হেফাজতের বিরুদ্ধে কথা বলছেন তা আমাদের জানা নেই। এতে আমরা বিস্মিত! তাদের অবস্থান ইতিমধ্যে ধর্মপ্রাণ দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে।’
‘হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের শেষ কোথায়?’- আল্লামা শাহ আহমদ শফির এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘১৩ দফা  দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তৌহিদী জনতা ঘরে ফিরবে না। নবী, রাসুলকে কটাক্ষ করে যারা এদেশে ঘুরে বেড়াতে চায় আমরা তাদের সেই ষড়যন্ত্র কিছুতেই সফল হতে দেবো না।’

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT