হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

অর্থ-বাণিজ্যটেকনাফপ্রচ্ছদবিশেষ সংবাদ

পাঁচ বছরও সংস্কার হয়নি টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপের ভাঙা সড়কটি

জসিম মাহমুদ, টেকনাফ ….

টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপের পশ্চিম অংশে দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে গেছে সমুদ্রের করাল গ্রাস ও সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের কারণে। এর ফলে বিলীন হয়েছে মসজিদ-মাদ্রাসাসহ অন্তত চার হাজার ঘরবাড়ি। দ্বীপের প্রায় ১০ হাজার একরের চিংড়িঘের ও ফসলি জমি সাগরগর্ভে তলিয়ে গেছে। জোয়ার-ভাটার কবলে পড়ে ‘শাহপরীর দ্বীপ-টেকনাফ’ সড়কের পাঁচ কিলোমিটার পাকা সড়কও ভেঙে গেছে। গত পাঁচ বছর ধরে দ্বীপের ৪০ হাজার মানুষ চরম ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় টেকনাফ সদরে আসা-যাওয়া করছে।

ভাঙা বেড়িবাঁধের অজুহাত দেখিয়ে গত পাঁচ বছর ভাঙা সড়কটি সংস্কার করা হয়নি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে শাহপরীর দ্বীপের ভাঙা বেড়িবাঁধে জোড়া লাগিয়ে জোয়ারের পানি ঠেকালেও ভাঙা সড়কটি সংস্কার না করায় যানবাহন নিয়ে টেকনাফ সদরে যাতায়াত করতে পারছেন না দ্বীপের মানুষ। কারণ সড়কটি ভাঙাই পড়ে আছে। এতে দ্বীপের মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

পাউবো সূত্র জানা যায়, ১০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া, মাঝেরপাড়া, ঘোনারপাড়া হয়ে দক্ষিণপাড়া পর্যন্ত ২ দশমিক ৬৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। এর উচ্চতা হবে সাড়ে ছয় মিটার। প্রস্থ হবে সাড়ে চার মিটার। সমুদ্রের করাল গ্রাস থেকে বেড়িবাঁধটি রক্ষার জন্য এক পাশে (সমুদ্রের দিকের অংশে) বসানো হবে পাথরের সিসি ব্লক।

পাউবো কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান বলেন, শাহপরীর দ্বীপের প্রায় ৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য ১০৬ কোটি টাকার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে ৬৪ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা বন্ধ করতে গত ফেব্রুয়ারি মাসে বেড়িভাঁধের ভাঙা অংশটি জোড়া লাগানো হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ শেষ হবে ২০১৯ সালের ৩০ মার্চের মধ্যে।

তিনি আরো বলেন, জোয়ার-ভাটা বন্ধ হওয়ায় শাহপরীর দ্বীপ-টেকনাফ সড়কের সংস্কার কাজ করতে কোনো সমস্যা নেই। ভাঙা সড়কটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সওজ বিভাগের।

শাহপরীর দ্বীপ রক্ষা ও উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মাষ্টার জাহেদ হোসেন বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে শাহ পরীর দ্বীপের মানুষকে নৌকা নিয়ে টেকনাফ সদরে যাতায়াত করেছে। কিন্তু ৮ মাস আগে ভাঙা বেড়িবাঁধটি সংস্কার করায় জোয়ারের পানি আসা বন্ধ, তাই নৌকা চলাচলও কমে গেছে। এতে পুরো ভাঙা সড়ক পায়ে হেঁটে আবার কয়েকটি খাল নৌকায় পেরিয়ে টেকনাফ সদরে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে।

চলতি বছরের মার্চ মাসে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মোটরসাইকেলে চড়ে এই সড়কটি ঘুরে আসেন। সড়কের বেহাল দশা দেখে শাহপরীর দ্বীপের মানুষকে সড়কটি সংস্কার করে দিবেন বলে পথসভায় আশ্বাস দিয়েছিলেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তবুও সড়কটির এই পর‌্যন্ত কোন উন্নয়ন হচ্ছে না

গত ৭ অক্টোবর দুপুরে সরেজমিন দেখা গেছে, প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে শাহপরীর দ্বীপের লোকজন ভাঙা সড়কের ওপর দিয়ে হেঁটে হেঁটে টেকনাফ আসছেন। শাহপরীর দ্বীপের উত্তরপাড়া থেকে সাবরাং ইউনিয়নের কাটাবুনিয়া পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার পাকা সড়ক ভেঙে খান খান হয়ে গেছে। সড়কের মধ্যখানে একটি সেতু ও কয়েকটি কালভার্ট ধসে পড়েছে। এসব খাল নৌকায় পারাপার করতে হচ্ছে লোকজনকে। তবে কাটাবুনিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত আরও ৮ কিলোমিটার সড়ক ঠিক আছে। লোকজন পাঁচ কিলোমিটার ভাঙা সড়ক হেঁটে এসে তারপর অটোরিকশা অথবা ব্যাটারিচালিত রিকশায় চড়ে টেকনাফ আসা-যাওয়া করতে দেখা গেছে।

শাহপরীর দ্বীপ রক্ষা ও উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বলেন, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ভাঙা বেড়িবাঁধের সংস্কার কাজ চালাচ্ছে। এতে জোয়ারের পানি বন্ধ হলেও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ভাঙা সড়কটি সংস্কার হচ্ছে না। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় শতাধিক শিক্ষার্থীর লেখাপড়াও বন্ধ হয়ে গেছে। এখন রোগী নিয়ে টেকনাফ যেতে মানুষের সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রসূতি মা ও বৃদ্ধরোগীদের কাঁধে করে টেকনাফের হাসপাতালে নিতে হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে সওজ কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা টেকনাফনিউজ ডটকমকে বলেন, শাহপরীর দ্বীপের পাঁচ কিলোমিটার ভাঙা সড়ক সংস্কার, একটি সেতু ও চারটি কালভার্ট তৈরির বিপরীতে প্রায় ৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে একটি প্রকল্প ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি এখন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আছে। আগামী ১৬ অক্টোবর প্রকল্পটি একনেকের সভায় উত্থাপন করার কথা। একনেকে প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ অনুমোদন পাওয়া গেলে শাহপরীর দ্বীপ ভাঙা সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হবে। অন্যতায় শাহপরীর দ্বীপবাসীকে আরও কিছু সময় এভাবে থাকতে হবে।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.