টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

এক সন্তানের দাবিদার দুই মা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • ২২১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে চুরি হয়েছিল এক নবজাতক। অভিযোগ পেয়ে একটি নবজাতক উদ্ধার করে চুরি যাওয়া সন্তানের মায়ের কোলে তুলে দেয় পুলিশ।
কিন্তু উদ্ধার করা নবজাতক নিয়ে দেখা দিয়েছে বিতর্ক। তাকে নিজের সন্তান বলে দাবি করছেন দুই মা। বর্তমানে তাঁরা দুজন দুই ক্লিনিকের বিছানায় শুয়ে আছেন। গত শুক্রবার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁদের দুজনের দুটি ছেলেসন্তান হয়।
এর মধ্যে এক মা কালীগঞ্জের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের দুবাই প্রবাসী বিপুল বিশ্বাসের স্ত্রী ক্ষমা রানী। আরেক মা রোজিনা খাতুন মহেশপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী।
ক্ষমা রানী বলেন, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার ডক্টরস প্রাইভেট হাসপাতালে তাঁর একটি ছেলে হয়। বিকেলের কোনো একসময় তাঁর সন্তান চুরি হয়। এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ গত শনিবার রাতে সন্তানকে উদ্ধার করে তাঁর কোলে তুলে দেয়।
আরেক মা রোজিনা খাতুন বলেন, ছয়-সাত মাস আগে তাঁর স্বামী তাঁকে ফেলে চলে যান। শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে মহেশপুরের সীমা ক্লিনিকে তাঁর একটি ছেলে হয়।
রোজিনা বলেন, তাঁর আরও দুটি ছেলে রয়েছে। এরপর আরেকটি সন্তান জন্ম নিলে তিনি লালন-পালনের চিন্তা করেন। এ নিয়ে ওই দিন সন্ধ্যায় মা আছিয়া খাতুনের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন তিনি। তখন সীমা ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক আসাদুল ইসলাম সন্তানটি তাঁর নিঃসন্তান খালা মাজেদা খাতুনকে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এ প্রস্তাবে রাজি হন তাঁরা। পরে ওই নবজাতককে মহেশপুরের জুগিহুদা গ্রামের মাজেদার কোলে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু কালীগঞ্জ থানার পুলিশ তাঁর সন্তানকে মাজেদার কাছ থেকে উদ্ধার করে আরেক মায়ের হাতে তুলে দিয়েছে। এটি অন্যায়।
এ ব্যাপারে রোজিনা খাতুন কালীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। সন্তানকে ফেরত চেয়ে গত সোমবার আইনজীবীর মাধ্যমে ঝিনাইদহ আদালতে আবেদন করেছেন রোজিনা।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ কামরুজ্জামান বলেন, ডক্টরস প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরির অভিযোগে মাজেদা খাতুন ও আসাদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা দুজনই জেলহাজতে।
নবজাতক চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে মাজেদা খাতুনের ভাই হাফিজুর রহমান বলেন, ১৯৯৪ সালে তাঁর বোনের একটি ছেলে হয়। ১৯৯৯ সালে বোনের জরায়ুতে ক্ষত দেখা দিলে অস্ত্রোপচার করা হয়। তখনই চিকিৎসকেরা বলেন, মাজেদা আর কখনো মা হতে পারবেন না। ২০০৪ সালে গাছ থেকে পড়ে তাঁর ভাগনের মৃত্যু হয়। এর পর থেকে তাঁর বোন পাগলপ্রায়। এ অবস্থা দেখে তাঁদের আত্মীয় আসাদুল ইসলাম তাঁর ক্লিনিকে জন্ম নেওয়া নবজাতককে বোনের কোলে তুলে দেন। তাঁর বোন কোনো নবজাতক চুরি করেননি।
গ্রেপ্তার হওয়া আসাদুলের ভাই রিপন হোসেন বলেন, পুলিশ যে নবজাতকটি উদ্ধার করেছে, তা তাঁর ভাইয়ের ক্লিনিকে জন্ম নেওয়া নবজাতক। নবজাতকের মা দরিদ্র রোজিনা খাতুন। কিন্তু পুলিশ তাঁদের কোনো কথা না শুনে ওই নবজাতককে আরেক মায়ের হাতে তুলে দিয়েছে।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার ওসি দাবি করেন, তাঁরা যে নবজাতকটি উদ্ধার করেছেন, সেটা ক্ষমা রানীর বলে নানাভাবে প্রমাণিত। তাঁরা নার্স ও অন্যদের সঙ্গে কথা বলে বুঝেছেন, এ সন্তান ক্ষমা রানীর।
কালীগঞ্জের ডক্টরস প্রাইভেট হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তাঁর হাসপাতালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও ছদ্মবেশী এক নারী নবজাতকটি নিয়ে যাবে, তা কেউ বুঝতে পারেনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT