টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

এক লাখ টন লবন আমদানীর অনুমতি, হতাশ চাষীরা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
  • ২৬২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আতিকুর রহমান মানিক, কক্সবাজার = দেশের একমাত্র লবন উৎপাদনকারী জেলা কক্সবাজারে লবন মৌসূম সমাগত। দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী-কুতুবদিয়া, পেকুয়া, চকরিয়া, টেকনাফ ও সদর উপজেলায় আর মাসখানেক পরেই লবন উৎপাদনে মাঠে নামবেন চাষীরা। কিন্তু এর মধ্যেই  এক লাখ টন অপরিশোধিত লবণ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার এক সার্কুলারে এ অনুমতি দেওয়া হয়। এতে চরম হতাশা বিরাজ করছে জেলার লবন শিল্প সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। মৌসুমের আগমূহুর্তে এ আমদানীতে দেশীয় লবন শিল্প ক্ষতিগ্রস্হ হবে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন চাষীরা।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নিবন্ধনকৃত আমদানিকারকরা লবণ আমদানির জন্য ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি অফিসের চীফ  কন্ট্রোলারের কাছে আবেদন করতে পারবেন বলে জানা গেছে।
কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও বাজারে লবণের সরবরাহ বৃদ্ধির অজুহাতে আমদানী করা এ লবনের ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্হ হবেন কক্সবাজার জেলার লক্ষাধিক প্রান্তিক চাষী, লবন শ্রমিক ও মিল মালিকরা। সদরের গোমাতলীর লবন চাষী গোলাল নবী বলেন, গত মৌসুমে উৎপাদিত বিপুল পরিমান লবন এখনো মজুদ আছে। চকরিয়ার লবন চাষী মহি উদ্দীন বলেন, গত মৌসুমে লবনের উচ্চমূল্য থাকায় এ বছরের জন্য প্রতিকানি ২০/২২ হাজার টাকায় মাঠ লাগিয়ত নিয়েছি, এ অবস্হায় আমদানী করা হলে লবনের দরপতন হয়ে চাষীরা ক্ষতিগ্রস্হ হবেন। আমদানীর অনুমতি দেয়া এক লাখ টন লবন অফিসিয়াল সব প্রক্রিয়া ও শিপমেন্ট শেষে চট্টগ্রাম বন্দরে  পৌঁছতে কমপক্ষে একমাস সময় লাগবে। এরপর মাদার ভ্যাসেল থেকে লাইটারেজ ও খালাস করে কারখানায় পৌঁছতে কমপক্ষে আরো একসপ্তাহ সময় লাগবে। ততদিনে দেশে উৎপাদিত লবন বাজারে আসবে। তাই এ আমদানীর ফলে দেশীয় লবন শিল্প ক্ষতিগ্রস্হ হবে। টেকনাফের লবন চাষী আলী হোসাইন ও দিল মোহাম্মদ বলেন, গত একমাস যাবৎ বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নদী ও সাগরের পানিতে লবনাক্ততা বাড়ছে, যা লবন চাষের উপযোগী। আবহাওয়া অনুকুল থাকলে একমাস পরেই লবন উৎপাদনে মাঠে নামবেন লবন চাষীরা। আমদানী হলে দেশীয় লবনের দরপতন হবে বলে আশংকা করেন তারা। মহেশখালীর লবন চাষী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, গত ১৫ দিন আগেও প্রতিমন সাদা লবন মাঠপর্যায়ে ৬০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন আমদানীর খবরে ৪৫০ টাকায়ও বিক্রি করা যাচ্ছেনা। দেশের বৃহত্তম লবন শিল্পনগরী সদরের ইসলামপুর শিল্প এলাকার কারখানা শ্রমিক তোরাব উদ্দীন বলেন, লবন আমদানী হলে পাইকার ও ব্যবসায়ীরা কক্সবাজারের পরিবর্তে নারায়নগঞ্জ-চাঁদপুর-খুলনা থেকেই পরিশোধিত লবন সরবরাহ নেবেন। এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে জেলার লবন শিল্পে। বাংলাদেশ লবন চাষী সমিতির সদর উপজেলা শাখার সভাপতি হান্নান মিয়া বলেন, উৎপাদন মৌসুমকে সামনে রেখে লবন আমদানী অযৌক্তিক। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)’র আওতাধীন কক্সবাজার লবন শিল্পের উন্নয়ন কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আবছার উদ্দীন আহমদ বলেন, জেলায় মাঠপর্যায়ে প্রায় ২০ হাজার টন অপরিশোধিত লবন মজুদ রয়েছে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT