টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

এক কবরে থাকা হলো না শারমিন-মমিনের

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৫
  • ১৭৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
টেকনাফ নিউজ…

রাজশাহীতে প্রেমিকজুটি শারমিন খাতুন ও আবদুল মমিনকে এক সাথে কবর দেওয়া হয়নি। আত্মহত্যার আগে তারা এক কবরে মাটি দেওয়ার জন্য বাবা-মায়ের কাছে চিরকুট লিখে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের শেষ অনুরোধ রাখা হয়নি। শনিবার রাতেই নিজ নিজ গ্রামে তাদের লাশ দাফন করা হয়।

ওইদিন সকালে রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর কদমতলার মোড় এলাকার একটি বাড়ি থেকে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় তাদের মরদেহের পাশ থেকে দুটি চিরকুট পাওয়া যায় । তাতে দুজনকে এক কবরে মাটি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিলো।
চিরকুটে শারমিন লিখেছেন, ‘বাবা-মা আমায় তোমরা মাফ করে দিও। আমি মমিনকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালবাসি। আমরা দুজনকে সারা জীবন পেতে চাই। আমি জানি তোমরা মেনে নিবে না। এই দুনিয়ায় না পাই, পরের জনমে তো পাব। আমার ছোট বোনদের মানুষের মতো মানুষ করো। আমার জন্য দোয়া করিও। আমাদের কবর যেন একই কবরে হয়। মমিনকে ছেড়ে যেতে পারলাম না। ভালো থেকো মা-বাবা। ইতি তোমাদের বেয়াদব শারমিন।’
আরেকটিতে মমিন লিখেছেন, ‘আমরা দুজন দুজনকে সবচাইতে বেশি ভালবাসি। কিন্তু ভালবাসা এতো কষ্টের দুজন বুঝি নাই। একজনকে ছেড়ে অন্য জন্য কখনো থাকতে পারবো না, তাই দুজন চলে গেলাম সবাইকে ছেড়ে। আমাদের সবাই মাফ করে দিও। আমাদের দুজনের শেষ ইচ্ছা, আমাদের যেন একি জায়গায় কবর দেওয়া হয়। আর বাবা-মা তোমরা খুব ভালো থেকো। দোয়া করো। এ জনমে আমাদের মিলন হলো না, পর জনমে যেন মিলন হয়। আমাদের একই জায়গায় যেন কবর দেওয়া হয়। আমাদের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। ইতি শারমিন+মোমিন।’
নগরীর রাজপাড়া থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তাক হোসেন জানান, শনিবার বিকেলে ময়নাতদন্তের পর দুই পরিবারকে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা আলাদাভাবে দুই মরদেহ নিজ নিজ গ্রামে নিয়ে গেছেন। তাদের ছেলে-মেয়ের কবর এক সঙ্গে না আলাদা হবে তা পুলিশের বিষয় নয়।
নিহতদের স্বজনরা জানায়, শারমিনের লাশ পবার শিতলায় এলাকায় এবং মমিনের লাশ মান্দা উপজেলার চকরধিনাথ গ্রামে শনিবার রাতেই দাফন হয়েছে।শারমিনের বাবা রাজমিস্ত্রি চাঁন মিয়া বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে মেয়েকে পড়ালাম। এভাবে কষ্ট দিয়ে যাবে তা কখনোই ভাবিনি।’মমিনের বড় ভাই জালাল উদ্দিন বলেন, ‘মাসে মাসে পড়ার খরচ পাঠাতাম। এভাবে সে সর্বনাশ করবে তা টের পাইনি।’
উল্লেখ্য, প্রায় তিন মাস আগে নগরীর লক্ষ্মীপুর কদমতলার মোড় এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নেন মমিন ও শারমিন। দুজনে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে ওই বাড়িতে বাস করতেন। শনিবার সকালে গলায় ফাঁস লাগানো তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের পাশে দুটি চিরকুট পাওয়া যায়।
FIL PIC

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT