টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

একই স্থানে দু’ডজনাধিক জুয়ার আসর

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৪ জুন, ২০১৩
  • ১৪২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আনোয়ার হোছাইন, ঈদগাঁও=  কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওয়ের চিহ্নিত জুয়াড়ীচক্র নিজ এলাকায় সুবিধা করতে না পেরে বৈশাখী মেলার নামে জুয়ার আসর বাস্তবায়নে নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে পার্শ্ববর্তী রামু উপজেলার রশিদ নগর ও চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নকে। ইতিমধ্যে উক্ত দু’ইউনিয়নের একই স্থানে দু’ডজনাধিক জুয়ার আসর সম্পন্ন হয়েছে। এরপরও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এর বিরুদ্ধে রহস্যজনক ভূমিকা অব্যাহত রাখায় প্রতিনিয়ত এলাকায় আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে। সরে জমিনে দেখা যায়, ঈদগাঁওয়ের চিহ্নিত জুয়াড়ী সিন্ডিকেট অতীতে বাংলা বছরের বৈশাখ মাস ঘনিয়ে আসলেই বৃহত্তর ঈদগাঁওয়ের বিভিন্ন স্থানে বৈশাখী মেলার নামে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের কালো টাকায় ম্যানেজ করে জমজমাট জুয়ার আসর বসিয়ে রাতারাতি মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার প্রতিযোগিতা শুরু করত। তাদের এসব আসর বাস্তবায়নে তারা বিভিন্ন এলাকার চিহ্নিত অপরাধীদের ভাড়াটিয়া হিসাবে এলাকায় ফিরিয়ে আনাতে ওই সময়ে এলাকার আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটত। কিন্তু চলতি বছরের বৈশাখ মাসের শুরু থেকে এসব আসরের বিরুদ্ধে স্থানীয় সাংবাদিকদের অব্যাহত লেখালেখী এবং প্রশাসনের কড়া মনোভাবের কারণে জুয়াড়ীরা নিজ এলাকার ঈদগাঁওয়ে তেমন সুবিধা করতে পারেনি। যার কারণে জুয়াড়ীরা কৌশলে নিরাপদ স্থান হিসাবে বেছে নেয় পার্শ্ববর্তী রামু উপজেলার রশিদ নগর ইউনিয়নের নতুন বাজার সংলগ্ন স্থান, জেটি রাস্তার মাথা ও চকরিয়া উপজেলার খুটখালী ইউনিয়নের মহাসড়ক সংলগ্ন ফুলছড়ি গেইট এলাকাকে। ইতিমধ্যে উক্ত দু’স্থানে প্রায়ই ২০টির ও বেশি জুয়ার আসর বাস্তবায়ন হয়েছে এবং বর্তমানেও জুয়ার আসর অব্যাহত থাকাতে প্রতিনিয়ত এলাকার কোন না কোন স্থানে ঘটছে চুরি ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম। বিশেষ করে এসব কারণের প্রতিনিয়ত রশিদ নগর ও ভারুয়াখালী ইউনিয়নের সীমান্ত হরিরটেক এলাকায় সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেই পথচারী কিংবা যাত্রীদের ছিনতাইকারী ও ডাকাতের কবলে পড়তে হচ্ছে। বৈশাখী মেলার নামে এসব আসর শুরু হলেও বৈশাখ শেষ হয়ে গতকাল পরবর্তী মাস জৈষ্ট্যও শেষ হয়েছে। জনমনে প্রশ্ন জুয়াড়ীদের বৈশাখ মাস শেষ হয় কত মাসে? মহাসড়ক ও গ্রামীণ জনপদের কেন্দ্রস্থলে এসব আসর হওয়ায় সকাল থেকেই স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজগামী ছাত্রীদের পাশাপাশি সাধারণ মহিলা পথচারীদেরও জুয়ার আসরে অংশগ্রহণকারী অপরাধীদের দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয় বলে অভিভাবকরা জানিয়েছে। এ ছাড়া একের পর এক এ অপকর্ম অব্যাহত থাকাতে এলাকার উঠতি যুব সমাজের পাশাপাশি বেকার শ্রেণি জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধে। দিনের বেলার জুয়ার খরচ যোগাতে রাতের বেলায় এসব যুুবকরা অপরাধীদের সাথে নানা অপকর্মে অংশ গ্রহণ করে থাকতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন সচেতন অভিভাবক মহল। ইতিমধ্যে জুয়ার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অনৈতিক সুবিধা নিয়ে জৈষ্ট্য মাসে এসেও এ আসরের অনুমতি দিচ্ছে বলে লোকজনের দাবী। এ বিষয়ে রশিদ নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল করিমের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে জানান, তিনি আইন শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে রয়েছেন এবং এ নিয়ে খোজ নিচ্ছেন। খুটাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে জানান, গত উপজেলা আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় সকল চেয়ারম্যানবৃন্দ এক যোগে বলি খেলার নামে জুয়ার আসরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট তা অনুমতি প্রদান বন্ধের দাবী জানালেও পরদিন থেকে একই ভাবে বৈশাখী মেলার নামে জুয়ার আসর শুরু হয় এবং এখনো তা অব্যাহত রয়েছে। এনিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগে যোগাযোগ করেও কোন সুরাহা পাচ্ছেন না বলে জানান। সচেতন মহল ও এলাকাবাসী সমাজ ও আইন শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী উক্ত আসরের অনুমতি প্রদান বন্ধ এবং এতে জড়িত আয়োজক ও জুয়াড়ীদের বিরুদ্ধে জরুরী ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT