টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
টেকনাফে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের গুলিতে সিএনজি চালক খুন তালিকা দিন, আমি তাঁদের নিয়ে জেলে চলে যাব: একজন পুলিশও পাঠাতে হবে না: বাবুনগরী টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উদ্যোগে মানসিক রোগিদের মধ্যে খাবার বিতরণ বাংলাদেশে নারীর গড় আয়ু ৭৫, পুরুষের ৭১: ইউএনএফপিএ ফেনসিডিল বিক্রির অভিযোগে ৩ পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার দেশের ৮০ ভাগ পুরুষ স্ত্রীর নির্যাতনের শিকার’ এ বছর সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০ টাকা, সর্বোচ্চ ২৩১০ হেফাজতের বর্তমান কমিটি ভেঙে দিতে পারে: মামলায় গ্রেফতার ৪৭০ জন মৃত্যু রহস্য : তিমি দুটি স্বামী – স্ত্রী : শোকে স্ত্রী তিমির আত্মহত্যাঃ ধারণা বিজ্ঞানীর দেশে নতুন করে দরিদ্র হয়েছে ২ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ

উখিয়া-টেকনাফে শিক্ষা প্রতিষ্টানগুলোতে রোহিঙ্গা শিক্ষার্থীদের বিচরণ বাড়ছে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৩
  • ১৭৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

Teknaf-Pic-আবদুর রহিম সেলিম: কক্সবাজারের উখিয়ার   শিক্ষা প্রতিষ্টান গুলোতে রোহিঙ্গা ছেলে-মেয়েদের বিচরন আশংকা জনক ভাবে বেড়েছে। উপজেলার বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে  নিয়মিত অধ্যায়ন  করে যাচেছ  রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের  শত শত শিক্ষার্থী। আর এসব রোহিঙ্গা ছেলে-মেয়েরা স্থানীয় বিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে  চট্রগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সনদ  অর্জন করে ঢুকে পড়ছে  বিভিন্ন পেশা সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি -বেসরকারি প্রতিষ্টানে। এভাবে অবৈধ-বৈধ ভাবে বসবাসরত উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের নয়াপাড়া ক্যাম্পের রোহিঙ্গার ছেলে মেয়েরা অনেকেই বর্তমানে স্কুল জীবন শেষ করে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে পড়ছে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে যা দেশের জন্য ভবিষ্যতে অশুভ ইঙ্গিত বয়ে আনতে পারে। বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের  প্রায় ৫০ জন রোহিঙ্গার ছেলে মেয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করে দেশের সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রাণালয়ে  চাকুরীর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ন তথ্য মিয়ানমার সহ বহিবিশ্বে পাচার করে আসছে। কুতুপালং শিবিরের স্কুল শিক্ষক  আরএসও প্রশিক্ষন প্রাপ্ত জঙ্গী আনোয়ার জানান, রোহিঙ্গাদের সুদূরপ্রসারী  পরিকল্পনা ও স্বপ্ন  রয়েছে আরকানরাজ্য প্রতিষ্টার । অবশ্যই  তা বাস্তবায়ন হতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন আছ্ ে।  এ পরিকল্পনার অংশ হিসাবে বর্তমানে বাংলাদেশের  বিভিন্ন সামরিক বেসামরিক ক্যাম্প গুলো চিহ্নিত করে সেসব জেলায় রোহিঙ্গারা ছদ্মাবরনে অবস্থান করছে। সম্প্রতি  কক্সবাজারের বিভিন্ন স্কুল কলেজে  রোহিঙ্গাদের  ২শ ছেলে মেয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। এদের স্কুল কলেজে পড়ালেখা চালাতে তেমন কোন অসুবিধার সম্মুখিন হতে হয় না। ফলে উচ্চশিক্ষার আশায়  রোহিঙ্গা ছেলে মেয়েরা পড়ালেখার দিকে ঝুঁকছে। তার উপর এসব রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পের ছেলে-মেয়েরা বিনা বাঁধায় উখিয়া উপজেলার বিদ্যালয় সমুহে পড়া লেখা চালিয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যাতে এলাকায়  মিশে গিয়ে বিভিন্ন স্থানের পরিচয় জেনে তা বিদেশীদের নিকট দেশের অবস্থান সম্পর্কে জানিয়ে দেবে।

উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ঘুরে দেখা গেছে, কুতুপালং শরণার্থী শিবির থেকে  বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানে শতাধিক তাদের ছেলে মেয়ে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পড়া লেখা চালাচ্ছে। মিয়ানমার থেকে এদেশে আসা এসব রোহিঙ্গা শরনার্থীরা একদিন দেশের জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠবে হয়তো সেদিন তাদের সামাল দেওয়ার পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রনে থাকবে না। এ নিয়ে স্থানীয় জনমনে নানা শংকা বিরাজ করছে। অনুসন্ধানে জানাগছে, বিশেষ করে সম্প্রতি  প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে ২ ও ৪ টার দিকে রোহিঙ্গা শিবিরের প্রধান সড়কে  দাঁড়ালে ক্যাম্প এলাকা থেকে রোহিঙ্গা শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াতের  দৃশ্য দেখা যায়। গোপন সুত্রে খবর নিয়ে  যে সমস্ত  স্কুলে  রোহিঙ্গা শিক্ষার্থীরা অধ্যায়ন করছে তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা পাওয়া গেছে। তন্মধ্যে উপজেলার বালুখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেনীতে পীর মোহাম্মদও ইদ্্রীস । থাইনখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেনীতে তাহেরা, হুমায়রা ও রহিমা বেগম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় কক্্রবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মোঃ ফারুক, মনির, মোস্তাফা, এনায়ে উলাহ,ঘুমধুম মাদ্রসায় মোঃ তৈয়ব ,উখিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেনীতে নুরুল হক।  উপজেলার বিদ্যালয় গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশী রোহিঙ্গা ছেলে-মেয়ে অধ্যায়ন করছে কুতুপালং শরনার্থী শিবির লাগোয়া  কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়ে  এ বিদ্যালয়ে রোহিঙ্গা হিসেবে যাদের নাম পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে রয়েছে,ফরিদ আলম  অষ্টম শ্রেনী, খালেদা (সপ্তম শ্রেনী),রবি আলম (সপ্তম শ্রেনী), মোহাম্মদ শাহীন( সপ্তম শ্রেনী), সিরাজ ( অষ্টম শ্রেনী) ফারুক (নবম শ্রেনী)। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোহিঙ্গারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ম্যানেজ করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্মসনদ ও জাতীয়তা সনদ সংগ্রহ করে বিদ্যালয় গুলোতে ভর্তি হয়। বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রেও চলে অর্থের লেনদেন। বিদ্যালয়ের একশ্রেনীর দুর্নীতিবাজ শিক্ষক রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পের ছেলে অথবা মেয়ে জানার পরও সংশিষ্ট বিদ্যালয়ে তাদের ভর্তি করিয়ে নেয়। বিনিময়ে নেওয়া হয় মোটা অংকের টাকা। তাছাড়া কিছু কিছু বিদ্যালয়ে জন্মসনদ বা জাতীয়তা সনদের ও প্রয়োজন পড়েনা, টাকার অংকটাই মুখ্য বিষয়। তবে এক্ষেত্রে ব্যাতিত্র“মও রয়েছে। কিছু বিদ্যালয়ে রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরের শিক্ষার্থী জানার পর বিদ্যালয়ে থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ ব্যাপারে উখিয়া উপজেলা শিক্ষাকর্মকর্তা মোজাফ্ফর আহমদ জানান, রোহিঙ্গা ব্যাপারে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তাদের ছেলে মেয়েদের  স্কুলে ভর্তির বিষয়ে বিদ্যালয় প্রধানদের নিষেধ করা হয়েছে। তবে কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামে দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি বলেন, এটাতো মারাত্বক ব্যাপার। এরকম হয়ে থাকলে সংশিষ্ট বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। কুতুপালং শিবির ইনচার্জ জালাল উদ্দিন বলেন,  রোহিঙ্গাদের ৩টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। ১).সেটেলম্যান ২). রিসেটেলম্যান  ৩). রিপাটিসন  এ ৩ পদ্ধতিতে রোহিঙ্গাদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পান বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলছে। তবে তিনি এসব ঘটনাকে দেশের জন্য শুভ নয় বলে মন্তব্য করেন।

– See more at: http://ukhiyanews.com/?p=16638#sthash.k0oc4urC.dpuf

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT