টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
করোনার উপসর্গ দেখা দিলে ‘আইসোলেশনে’ থাকবেন যেভাবে ১২-১৩ এপ্রিল দূরপাল্লার বাস চলবে না : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বিকাল ৫.০০ টার পর একাধিক দোকান ও শপিংমল খোলা রাখায় জরিমানা চেয়ারম্যান -মেম্বারদের চলতি মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ছে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় ৬৪ জেলার দায়িত্বে ৬৪ সচিব মেয়ের বিয়ের যৌতুকের টাকা জোগাড় করতে না পেরে বাবার আত্মহত্যা মিয়ানমারে গুলিতে আরও ১০ জন নিহত যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ স্বীকৃতি পাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অপহরণ করে মুক্তিপণ, র‌্যাবের ৪ সদস্য পুলিশের হাতে গ্রেফতার ১৪ এপ্রিল থেকে সারা দেশে সর্বাত্মক লকডাউন

উখিয়া-টেকনাফের মানুষের দুঃস্বপ্নের সেই ১৯৯৪

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২ মে, ২০১৩
  • ২৫৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

teknaf picমমতাজুল ইসলাম মনু টেকনাফ=
আজ ভয়াল ২রা মে। কক্সবাজার উপকূলীয় জনপদ উখিয়া-টেকনাফের মানুষের দুঃস্বপ্নের একটি দিন। এদিনে সম্পদ হারানো হাজার-হাজার মানুষ এখনো অজানা আতংকে আতকে উঠেন। শিউরে উঠে গা। উতলে উঠে গগণ বিদারী কান্না। আজ থেকে ১৯ বছর আগেসালের এই দিনে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল উখিয়া-টেকনাফ দিয়ে দুঃস্বপ্নের মতো বয়ে গিয়েছিল এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়। ২রা মে’র সেই ধ্বংসযজ্ঞের স্মৃতি বয়ে আবারও উপকূলীয় মানুষের কাছে দিনটি ফিরে এসেছে। ২রা মে’র মধ্যরাতে প্রকৃতির নিষ্ঠুর কষাঘাত প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছিল কক্সবাজার জেলার উখিয়া,মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া,কক্সবাজার সদর সীমান্ত শহর টেকনাফসহ জেলার ৬টি উপজেলার শত শত ইউনিয়ন। ঘন্টায় ২০০ থেকে ২২৫ কিলোমিটার গতিবেগের প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড়ে দেশের উপকূলীয় এলাকা পরিণত হয়েছিল বিরাণভূমিতে। ভয়াবহ এই ঘূর্ণিঝড়ে ৯১ সালের মত মানুষের ব্যাপক প্রাণহানী না ঘটলেও কক্সবাজার উপকূলীয় জনপদের মাসুষের জন্য এটি ছিল স্মরণাতীতকালের সর্ববৃহৎ ভয়াবহ ঘুর্ণীঝড়। যেদিন স¤পদহানি হয়েছিল হাজার হাজার কোটি টাকারও বেশী। টেকনাফে এমন কোন গ্রাম বাকী ছিলনা যেখানে কোন বসতবাড়ী থেকে শুরু করে ঘেরাবেড়া,গাছ,চিংড়ী ঘের,লবণের মাঠ, পানের বরজ বিনষ্ট হয়নি। ঘর বাড়ির কোন কিছুর চিহ্ন খুঁজে পাচ্ছিলনা এমন কি নিজের বাড়িও। উখিয়া-টেকনাফ জুড়ে প্রধান সড়কের উপর স্থাপিত বৈদ্যুতিক খুঁটি গুলো ভেংগে চুরমার হয়ে গিয়েছিল। ২রা মে এলেই উপকূলীয় মানুষের কাছে বেদনাময় করুণ স্মৃতি নিয়ে দিনটি আতংক হয়ে ফিরে আসে। ১৯৯৪ সালের ২রা মে’র পর কক্সবাজার জেলায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাগুলো হচ্ছে উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা। টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপের গোলারচর গ্রামটি চিরদিনের জন্য সাগরে বিলীন হয়ে যায় ৯৪’র ঘূর্ণিঝড়েই। ঘূর্ণিঝড়ের পর সামর্থ্যবান প্রায় মানুষ দ্বীপ ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। অপরদিকে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে শাহপরীরদ্বীপের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বর্তমানে সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে মারাত্মক দুঃখ কষ্টে জীবন যাপন করছে। এখানে অধিকাংশ বিধ্বস্থ বেড়িবাঁধ পুনঃনির্মাণ করা হয়নি। সবক্ষেত্রে চরম দূর্নীতি ও লুটপাটের ফলে একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মিত হচ্ছে না। তাছাড়া উপকূলীয় এলাকায় প্যারাবন নিধন করে চিংড়ি ঘের নির্মাণ করায় যে কোন সময় ঘূর্ণিঝড় হলে ৯১/৯৪ সালের ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতির চেয়েও বেশী ভয়াবহ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশংকা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে টেকনাফ-উখিয়া উপজেলায় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত চক্রের কবলে পড়ে শত শত একর প্যারাবন নিধন করে চিংড়ি ঘের নির্মাণ করায় শাহপরীরদ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর প্রতিবাদে জেলাব্যাপী স্বোচ্ছার আন্দোলন অব্যাহত থাকলেও প্যারাবন নিধন বন্ধ হয়নি। টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপসহ বিভিন্ন উপকুলীয় এলাকায় এখনো এক শ্রেণীর দুর্বৃত্তরা প্যারাবন নিধন করে চলেছে। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর জেলায় অর্ধশতটি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হলেও অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণের ফলে প্রায় ১৫টি সাইক্লোন শেল্টার সমুদ্রে তলিয়ে যায়। অর্ধশতাধিক সাইক্লোন শেল্টার বেদখল হয় এবং ২০টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণজনিত ত্র“টির ফলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। জানা যায়, ঘূর্ণিঝড়ের পর বিশ্বের ৩৮টি দেশ থেকে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি ডলারের বেশী সাহায্য আসে। ওই টাকায় সারা দেশে বাস্তবায়ন হয়েছে ১ হাজার ৮৬১টি সাইক্লোন সেল্টার। বেড়িবাঁধ নির্মাণের নামে লোপাট করা হয় কোটি কোটি টাকা। প্রতি বছরই টেন্ডার আহ্বান করে বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। কাগজে কলমে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ঘূর্ণিঝড়ের বিধ্বস্থ হয়ে যাওয়া অনেক সরকারী হাসপাতাল, পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, স্কুল এখনো নির্মিত হয়নি। উপকূলবাসীদের রক্ষার জন্য এখনি সঠিক পরিকল্পনা নিতে হবে। বেড়িবাঁধের বাইরে সবুজ বেষ্টনী প্যারাবন সৃজন করা,বেড়িবাঁধকে শক্ত ও মজবুত করার জন্য এর শতভাগ কাজ নিশ্চিত করা,এছাড়া বালি ও পাথর উত্তোলন, প্যারাবন ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরামর্শ সংশ্লিষ্ট ও সথানীয়দের। এদিকে টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ সফিক মিয়া,উখিয়া উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান অরক্ষিত দ্বীপাঞ্চলকে জরুরী ভিত্তিতে মেরামতের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান। বিশেষ করে শাহপরীরদ্বীপ  বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য সরকারের ১০৭ কোটি টাকা টেন্ডার হওয়া কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্মাণের দাবী জানান। ঘুর্নিঝড়ের ১৯ বছর পরেও উপকূল বাসী ঝুঁকিমুক্ত হতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপি টেকনাফ উপজেলা সভাপতি আলহাজ্ব সরওয়ার কামাল চৌধুরী। পারেনি। উপকূলীয় জনপদের মানুষ প্রতিনিয়তই দূর্যোগের সাথে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। ঘুর্নিঝড়ের ১৯ বছর পরও উপকূল বাসী ঝুঁকিমুক্ত হতে পারেনি। উপকূলীয় জনপদের মানুষ প্রতিনিয়তই দূর্যোগের সাথে সংগ্রাম করছে। ৯১ সালের ঘূর্নিঘড়ে যে সব পরিবার ও অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদের ভাগ্যন্নোয়ন হয়নি এবং অসংখ্য মানুষ দূর্যোগের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। টেকনাফের মানুষ চরম দুর্ভোগে নিপতিত হয়ে আছে। এ অঞ্চলের বেড়িবাঁধ রাস্তাঘাট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ সেদিনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাগ কেটে উঠতে পারেনি। এরই মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে জেলার উপকুলীয় অঞ্চল ও নাগরিক চরম হুমকির মূখে। যে কোন সময় সাড়ে ৩ কোটি মানুষ উদ্ভাস্তু হয়ে যেতে পারে। যা দেশের ও সরকারের জন্য বড় ধরনের মাথা ব্যাথা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গ্রামের মানুষ এখনো জোয়ার ভাটায় ভাসছে। টেকনাফ, সেন্টমার্টিন সহ সকল উপকুলীয় এলাকার একটাই দাবী- বেড়িবাঁধ বাঁচলে তাদের উপকূলীয় গ্রামগুলো বেঁচে যাবে। ====

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT