টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
মামুনুল হকের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি হেফাজত দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া করোনার উপসর্গ দেখা দিলে ‘আইসোলেশনে’ থাকবেন যেভাবে ১২-১৩ এপ্রিল দূরপাল্লার বাস চলবে না : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বিকাল ৫.০০ টার পর একাধিক দোকান ও শপিংমল খোলা রাখায় জরিমানা চেয়ারম্যান -মেম্বারদের চলতি মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ছে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় ৬৪ জেলার দায়িত্বে ৬৪ সচিব মেয়ের বিয়ের যৌতুকের টাকা জোগাড় করতে না পেরে বাবার আত্মহত্যা মিয়ানমারে গুলিতে আরও ১০ জন নিহত যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ স্বীকৃতি পাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

উখিয়া – টেকনাফের দু’টি ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের অনিশ্চিত জীবন

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০১৩
  • ১৩৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

বিশ্ব শরনার্থী দিবস আজ ২০ জুন বৃহ¯পতিবার। বিশ্বের অন্যান্য রাস্ট্রের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ দিবস টি পালনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এ দিবসটি ঘীরে কক্সবাজারে অবস্থিত ২ টি শরনার্থী শিবিরের রোহিঙ্গাদের অনিশ্চিত জীবনের সমাধানের জন্য সুষ্ঠু প্রত্যাবাসেন দাবি উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘ ২২ বছর ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন সমস্যা ঝুলে থাকায় কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের দু’টি ক্যাম্পে অবস্থানরত ২৯ হাজার শরণার্থী অনিশ্চিত জীবন যাপন করছে। শরনার্থী শিবিরের পাশে গড়ে উঠা আন রেজিষ্ট্রাড ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের বসতি দিন দিন বেড়েই চলছে। বিশাল এ রোহিঙ্গা জনগোষ্টির কারনে কক্সবাজারের আর্থসামাজিক অবস্থার ওপর বিরুপ প্রভাব পড়ছে। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরনার্থীদের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত অবৈধ ভাবে অনুপ্রবেশ ঘটছে রোহিঙ্গাদের। আর ওই সব রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।
ইউএনইচসসিআরের কক্সবাজারের অফিস সূত্র মতে, ক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের শরনার্থী ক্যাম্প দু’টিতে বর্তমানের প্রায় ২৯ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে। ২ টি ক্যাম্পের সাথে লাগোয়া ২ টি আন রেজিষ্ট্রাড ক্যাম্পে রয়েছে ৮০ হাজারের মতো আন রেজিষ্ট্রাড রোহিঙ্গা। সর্বশেষ ২০০৫ সালের ২৮ জুলাই ২ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে প্রত্যাবাসন করা হয়েছিল। এরপর থেকেই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। উখিয়া- টেকনাফের ২টি নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পের প্রায় ২৯ হাজার রোহিঙ্গা ছাড়া টেকনাফের লেদা অনিবন্ধিত ৩০ হাজার আর উখিয়া কুতুপালং ক্যাম্পের পাশ্ববর্তী ৫০ হাজার অনিবন্ধিত এবং কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৪ লক্ষ রোহিঙ্গা রোহিঙ্গা অবৈধ বসবাস করছে। রাখাইন প্রদেশে বার বার রোহিঙ্গা মুসলিম ও রাখাইনদের মধ্যে দাঙ্গা সৃষ্টি হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গার সংখ্যা।
জানা যায়, ১৯৯২ সালের শুরুর দিকে মিয়ানমারে তৎকালিন সামরিক জান্তা সরকারের অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়ে ২ লাখ ৫২ হাজার রোহিঙ্গা শরনার্থী বাংলাদেশে চলে এসেছিল। পরবর্তীতে জাতিসংঘ শরনার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের মধ্যস্থতায় ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৯৯ জন শরনার্থী স্বদেশে ফিরে গেলেও মিয়ানমার সরকারের ছাড়পত্র না দেয়ার কারনে আরো ২৫ হাজার শরনাথী স্বদেশে ফেরত যায়নি। সর্বশেষ ২০০৫ সালে ২ জনের শরনার্থী দল স্বদেশে গিয়েছিল। আবার অনেক শরনার্থী স্বদেশে ফিরে গিয়েও সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে দিয়ে অনুপ্রবেশ করে আবার বাংলাদেশে ফিরে আসে। গত ৫ বছরে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ফিরে আসা রোহিংঙ্গাদের মধ্যে ৫০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা অবৈধভাবে অবস্থান করছে কুতুপালং শরনার্থী শিবির সংলগ্ন ৪/৫ টি পাহাড়ে এবং নয়াপাড়া ক্যাম্প সংলগ্ন লেদা গ্রামে ঝুপড়ি বাসা তৈরি অবস্থান করছে প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গা। এরা সবাই আনরেজিষ্ট্রার্ড শরনার্থী হিসাবে পরিচিত।এ বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার কারণে উখিয়া ও টেকনাফসহ পুরো কক্সবাজার জেলায় দেখা দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সহ নানা সামাজিক অস্থিরতা।
কক্সবাজার জেলা আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভার সর্বশেষ তথ্য মতে, কক্সবাজারের শতকরা ৯৫ শতাংশ অপরাধের সাথে জড়িত রয়েছে এসব রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গারা অবৈধভাবে মাদক পাচার, ডাকাতি, ছিনতাই, হত্যা সহ নানা নাশকতায় জড়িত রয়েছে। কক্সবাজারের আলোচিত ২০১২ সালে ২৯ সেপ্টেম্বর রামুর বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে হামলা, এবছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের তান্ডবে ৩ জনের প্রাণহানির ঘটনায়ও এসব রোহিঙ্গা অংশ নেন। রোহিঙ্গাদের বিশাল নারী এবং কিশোরী গোষ্ঠি যৌনপেশায় জড়িয়ে পড়েছে। আবার বাংলাদেশী পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশে গিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূূর্তি নিয়েও প্রশ্নের সৃষ্ঠি করেছে এরা।
এ পরিস্থিতিতে কক্সবাজারের শরনার্থীদের দ্রুত স্বদেশ ফেরতের দাবি উঠেছে। আর রোহিঙ্গারাও সম্মানজনক স্বদেশ ফেরতের পক্ষে রয়েছেন।
স্থানীয় ইউএনএইচসিআরের সূত্র জানিয়েছে, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের অনাগ্রহ এবং শরণার্থীদের ছাড়পত্র না দেয়ার কারণে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম করা যাচ্ছেনা।
চলতি সপ্তাহে মিয়নমারের ইয়াংগুনে অনুষ্টিত বাংলাদেশ-মিয়নমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সচিব পর্যায়ে আন্তঃদেশীয় দ্বি-পাক্ষিক সম্মেলন এ অংশ নিয়ে দেশে আসার পর রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসন কমিশনার ফিরোজ সালাহ উদ্দিন বলেন, সম্মেলনে রেল লাইন সহ ৮ টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রত্যাবাসন এর বিষয়ে তেমন আলোচনা হয়নি। কারন মিয়নমার এখন তাদের অ্যন্তরিন দাঙ্গায় বসতবিটা হারানোদের পুনঃবাসন নিয়ে ব্যবস্থা আছে। তাদের এ সমস্য শেষ হলে আমাদের দেশে থাকা শরনার্থীদের দিকে নজর দেবেন।
স্থানীয়দের দাবি, বিপুল সংখ্যক বৈধ অবৈধ রোহিঙ্গার কারনে উখিয়া টেকনাফে দেখা দিয়েছে আইন শৃংখলা অবনতিসহ নানা সামাজিক অস্থিরতা। এতে উদ্বিগ্ন এখানকার সাধারন মানুষ অবিলম্বে তাই রোহিঙ্গা শরনার্থী প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করার জরুরী। রোহিঙ্গাদের কারণে আশপাশের বাংলাদেশি জনবসতি গুলোতে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতিসহ নানা সমস্যা-সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আকতার জানান, কক্সবাজার জেলায় আইন শৃঙ্খলা অবনতির জন্য রোহিঙ্গাদের ভুমিকা সব চেয়ে বেশি। এরা নানা স্থানে ডাকাতি থেকে শুরু করে নানা প্রকার অপরাধের সাথে জড়িত রয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ রুহুল আমিন বলেন, সরকার প্রত্যাবাসন এর ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে সব প্রকারের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে বিশ্ব শরনার্থী দিবস উপলক্ষ্যে শরণার্থী ক্যা¤প সমুহে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT