টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

উখিয়ায় সক্রিয় হচ্ছে হুন্ডিও জালনোট চক্রের শক্তিশালী সিন্ডিকেট

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ৬ জুলাই, ২০১৩
  • ১০৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

মোসলেহ উদ্দিন :উখিয়ায় ঈদ বাজারকে টার্গেট করে সক্রিয় হয়ে উঠছে হুন্ডি ও জালনোট চক্রের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক জালনোটের সদস্যরা তাদের বানানো টাকা বাজারজাত করনের এ সময়কে কাজে লাগিয়ে অভিনব প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ ভেজাল টাকা লেনদেন করে আসল টাকা হাতিয়ে নেয়। একইভাবে রমজান মাসে প্রবাসীদের পাঠানো কোটি কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে হাত বদলের ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রচুর পরিমাণ রেমিটেন্স হারাচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়িয়ে এসব অসাধু চক্র পার পেয়ে যাওয়ার ফলে এ খাতে সরকার ও সর্বসাধারণ আর্থিকভাবে তিগ্রস্থ হচ্ছে। আসন্ন রমজানে এখানে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করলে এ চক্রটি আইনের কব্জায় এসে যেতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। জানা গেছে, এ উপজেলার কুতুপালং গ্রামে বনবিভাগের বিশাল এলাকা জুড়ে বসবাস করছে প্রায় ৬০ হাজার অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা। একইভাবে প্রায় ৯ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা কুতুপালং শরনার্থী ক্যাম্পে অবস্থান করছে। অনিবন্ধিত ৬০ হাজার রোহিঙ্গার উপর সরকারের কোনরূপ নিয়ন্ত্রণ না থাকার সুযোগে অবৈধ আয়ের উপর নির্ভর করছে এদের জীবন-জীবিকা। ফলে হুন্ডি ব্যবসা, জালনোট তৈরি ও বাজারজাত করণ, পকেটমার, ছিনতাই, চুরি-ডাকাতি-খুন, বেইশ্যাবৃত্তি ও মাদকবাণিজ্য সহ এমন কোন গর্হিত কাজ নেই যার সাথে রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। বিশেষ করে গলাকাটা পাসপোর্টের অনুবলে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার রোহিঙ্গা নাগরিক মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে বলে রোহিঙ্গাদের সাথে আলাপ প্রসঙ্গে তারা স্বীকার করে বলেন, রমজানে ব্যাপক চাহিদা থাকায় পরিবারের অজুহাতে প্রবাসী রোহিঙ্গারা কোটি কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে পাঠাবে। রোহিঙ্গা প্রবাসীর পরিবার অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা বস্তির ১নং পাহাড়ের আলীম উল্লাহ্ (৫৫), শফি আলম (৬০) সহ একাধিক রোহিঙ্গা জানালেন, হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো টাকা হুন্ডি ব্যবসায়ীরা তাদের বাড়িতে এসে দিয়ে যায়। তাছাড়া পাঠানো টাকা পেতে কোন প্রকার কাল বিলম্ব না হওয়ায় রোহিঙ্গারা হুন্ডির উপর নির্ভরশীল। আনরেজিষ্ট্রার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি রাজিব উল্লাহ্ জানান, রোহিঙ্গাদের অনেকেই হুন্ডি ব্যবসার সাথে জড়িত থাকায় টাকা লেনদেন হওয়ার বিষয়টি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এদিকে রমজান মাসকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জালনোট তৈরির সাথে জড়িত একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে কমিশন ভিত্তিক তাদের বানানো ভেজাল টাকা বাজারজাত করার অভিনব কৌশল অবলম্বন করে। এ চক্রটি জালনোট তৈরির যাবতীয় সরঞ্জাম সহ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়ে স্থানীয় ক্যাম্প পুলিশকে ম্যানেজ করে লাখ লাখ ভেজাল টাকা লেনদেনের বিষয় নিয়ে ইতিপুর্বে অনেক ঘটনা ঘটেছে।  বিগত শুরুতে  রমজান মাসের শুরুতে কুতুপালং আনরেজিষ্ট্রার্ড বস্তিতে জালনোট তৈরিকালে ক্যাম্প ইনচার্জ অভিযান চালিয়ে জালনোট তৈরির সরঞ্জাম সহ ৫ শত টাকার নোট সাইজের ৭ ল টাকার কাগজসহ ৩ জনকে আটক করে উখিয়া পুলিশের নিকট সোপর্দ করে। এদের একজন চট্টগ্রাম বহদ্দার এলাকার রওশন আলী (৫৫) অন্য ২ জন রোহিঙ্গা নাগরিক। এ প্রসঙ্গ নিয়ে আলাপ করে জানতে চাওয়া হলে ক্যাম্প ইনচার্জ জালাল উদ্দিন বলেন, রমজান মাসে ক্যাম্প এলাকায় যাতে অনৈতিক কার্যক্রম চলতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। তিনি বলেন, মুষ্টিমেয় পুলিশ নিয়ে বিশাল রোহিঙ্গা অধ্যূষিত এলাকায় অপরাধমূলক তৎপরতা বন্ধ করা তত সহজ না হলেও যতদূর সম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। ##

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT