টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :

ঈদ সামনে রেখে ইয়াবার চালান ঢুকছে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
  • ২৫৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
টেকনাফ নিউজ…

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীতে প্রবেশ করছে ইয়াবার বড়-বড় চালান। মাদক ব্যবসায়ীরা রাজধানীর আশ-পাশের জেলাগুলোয় ইয়াবা মজুদ করে রাখেন আগে থেকেই। এরপর  ছোট-ছোট চালানে সেগুলো মহানগরীতে পাঠান। ইতোমধ্যে ইয়াবার বেশ কয়েকটি বড় চালান আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ সব চালান মূলত ঈদকে কেন্দ্র করেই আসে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও র‌্যাব-সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে।সূত্রমতে, চোরাইপথে আসা ঈদের পণ্যের তালিকায় বর্তমানে এক নম্বরে আছে ইয়াবা। এরপরই ফেনসিডিল ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ। ঈদে হাল ফ্যাশনের শাড়ি-থ্রিপিসসহ বিভিন্ন পণ্যের সঙ্গেই আসছে এসব মাদক।সোমবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে ৫ লাখ ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট আটক করে র‌্যাব। চালানটির সঙ্গে জড়িতরা র‌্যাবকে জানিয়েছে, কোরবানির ঈদ উপলক্ষেই তারা এই বড় চালানটি আনে।এ প্রসঙ্গে কথা হয়, র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খানের সঙ্গে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত মাদক ব্যবসায়ী ও তার সহযোগীসহ ৬জনকে আটক করা হয়েছে।  তবে এর আগে ৫ জনের কথা জানিয়েছিল র‌্যাব। আটককৃত ৬জন হলেন, মুল হোতা মনজুর আলম মনজুর (৪৯), তার প্রধান সহযোগী গিয়াস উদ্দিন গেসু (৩১), গাড়ী চালক সেলিম (২৫), মহিউদ্দিন (২৫), আব্দুল মান্নান (৫৫), ও  জাহাঙ্গীর আলম (৩৭)।

মুফতি মাহমুদ জানান, ঈদ বা বিশেষ কোনও উৎসব এলেই আনন্দ করতে এখন অনেকেই মাদকদ্রব্য বেছে নেই। এ সব উৎসবে  বিভিন্ন ধরনের মাদকের চালান ঢুকতে থাকে দেশে। পরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তা ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, টেকনাফ, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় অবস্থানরত একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণে ইয়াবা পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে এনে সারা দেশে সরবরাহ করে আসছে।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে ৪০ জন ব্যবসায়ী নিয়ন্ত্রণ করছে ইয়াবার বাজার। এক সময় ইয়াবা ব্যবসায়ীরা ফেনসিডিল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও এখন নেই। অধিক লাভজনক হওয়ায় তারা এখন ইয়াবা ব্যবসা করছে। অভিনেতা-অভিনেত্রী থেকে শুরু করে অভিজাত এলাকার অনেক সুন্দরী তরুণীও ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন।অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিজাত এলাকা গুলশান-বনানী-বারিধারা-ধানমণ্ডি-উত্তরায় ইয়াবা ব্যবসা জমজমাট। এ ছাড়া বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায়ও ছড়িয়ে পড়ছে এ ব্যবসা। এ ছাড়া নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে ইয়াবা। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ছাত্ছাত্রীরা নিয়মিত ইয়াবা ট্যাবলেট সেবন করছে বলে সূত্র জানায়। সূত্রমতে, রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মগবাজার, মৌচাক, মালিবাগ, মিরপুর-শাহ আলী মাজার এলাকা, মোহাম্মদপুর বিহারী ক্যাম্প, মিরপুর-১২ নম্বর মুসলিম বাজার, কালাপানি, বনানী কড়াইল বস্তি, মগবাজার সাততলা বস্তি, গুলিস্তান, খিলগাঁও উড়াল সেতু এলাকাসহ বহু এলাকায় চলছে মাদকের রমরমা বাণিজ্য।

ঢাকা মেট্রোপলিটন সূত্রে জানা গেছে, গত বছর রাজধানীর ৪৯টি থানায় ৫শ’ ৪২টি মাদক কেনাবেচার স্পট থাকলেও এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০০-তে। নিয়মিত মাদক সেবকের সংখ্যাও বহুগুণ বেড়েছে। সূত্র জানায়, কারওয়ান বাজার সংলগ্ন রেললাইনের দু’পাশের বস্তিগুলোর প্রত্যেকটি ঘরের সামনে প্রায় প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা ও হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য।দেশে মাদকসেবীর প্রকৃত সংখ্যা কত তার সঠিক পরিসংখ্যান কারও কাছে নেই। তবে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ফ্যামিলি হেলথ ইন্টারন্যাশনালের হিসাব অনুযায়ী এ সংখ্যা অর্ধকোটি ছাড়িয়ে গেছে অনেক আগে। আর সারা দেশে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন লক্ষাধিক নারী ও পুরুষ।ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন,  মাদক যেন  রাজধানীতে কোনওভাবেই আর প্রবেশ করেত না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সজাগ রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে আমাদের চেকপোস্ট রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (উত্তর) মাঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান সবসময় চলমান। ঈদকে সামনে রেখে এই অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT