টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

ঈদুল আজহা কাল

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১২
  • ১৭৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

পবিত্র ঈদুল আজহা আগামীকাল শনিবার উদযাপিত হবে। মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব ঈদকে ঘিরে আনন্দ-উদ্দীপনার আমেজ সারা দেশে। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আদর্শ অনুসরণে মুসলমানরা প্রতি বছর আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে পালন করছে ঈদুল আজহা। মহান আল্লাহর নির্দেশে স্বীয় পুত্র হযরত ইসমাঈল (আঃ)-কে কোরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন হযরত ইব্রাহিম (আঃ)। এভাবে আল্লাহর প্রতি অগাধ ভালবাসা, আনুগত্য ও আত্মত্যাগের যে সুমহান দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন তা অতুলনীয়। জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা পালিত হয়। এ উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে গতকাল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এছাড়া, শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ অন্য রাজনীতিবিদরা। এছাড়াও শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ।
প্রেসিডেন্ট তার বাণীতে বলেছেন, ঈদুল আজহার শিক্ষা ও আদর্শ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে অনুসরণ করতে হবে। মহান আল্লাহর অভিপ্রায় ও নির্দেশ ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এ শিক্ষা ও আদর্শে অনুপ্রাণিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, আসুন, আমরা সকলে পবিত্র ঈদুল আজহার মর্মবাণী অন্তরে ধারণ করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনকল্যাণমুখী কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে বিভেদ-বৈষম্যহীন এক সুখী-সমৃদ্ধ শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলি। বিরোধী নেতা তার বাণীতে বলেন, স্বার্থপরতা, হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ ক্রোধকে পরিহার করে সমাজে শান্তি ও সমপ্রীতি প্রতিষ্ঠায় আত্মনিবেদিত হওয়া আমাদের কর্তব্য। যদিও দেশের বর্তমান অবস্থায় সকলের পক্ষে ঈদের আনন্দ যথাযথভাবে উপভোগ করা সম্ভব হবে না। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি দরিদ্র ও কম আয়ের মানুষকে চরম দুর্ভোগের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তাই আমি দেশের সকল বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের আহ্বান জানাই-দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দিকে সাহায্য ও সহমর্মিতার হাত প্রসারিত করুন। ঈদের আনন্দের দিনে যাতে কেউ অভুক্ত না থাকে সেদিকে সবাই খেয়াল রাখুন। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
ঈদের জামাত: ঢাকা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে প্রতি বছরের মতো এবারও দেশের প্রধান ঈদ জামাত হবে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। এজন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ঈদগাহ ময়দানকে। এছাড়া, ডিসিসি’র ব্যবস্থাপনায় রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডে ৪টি করে ঈদ জামাত হবে। ৯০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ঈদ জামাত হবে মোট ৩৬০টি ঈদগাহে। এছাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠেও একটি বৃহৎ ঈদ জামাত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় ঈদগাহ ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদুল আজহার জামাত হবে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টা, বায়তুল মোকাররমে প্রথম জামাত সকাল ৭টায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায়, তৃতীয়, চতুর্থ ও শেষ জামাত ৯টা, ১০টা ও পৌনে ১১টায় হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় প্রথম জামাত ও সাড়ে ৯টায় দ্বিতীয় জামাত হবে। মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী ঈদগাহ মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় জামাত হবে। লালবাগ শাহী জামে মসজিদে ঈদের জামাত হবে সকাল সাড়ে ৯টায়। স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা মাঠে ঈদ জামাত হবে সকাল ৯টায়, মসজিদ বায়তুল ফালাহ কমপ্লেক্স ময়দানে প্রথম জামাত সকাল ৮টায় ও দ্বিতীয় জামাত ৯টায় হবে। এছাড়া স্থানীয় মসজিদ ও ঈদগাহে ঈদের জামাত হবে।
প্রধানমন্ত্রী: গণভবনে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে গণভবনে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এরপর ১০টা থেকে সোয়া ১১টা পর্যন্ত আমন্ত্রিত অতিথি ও সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। উল্লেখ্য, একই স্থানে সকাল সোয়া ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিচারপতি ও কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী।
খালেদা জিয়া: ঈদের দিন সকালে রাজধানীর লেডিস ক্লাবে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন বিরোধী নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সকাল সাড়ে ১১টায় তিনি প্রথমে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশী কূটনীতিক ও সাড়ে ১২টা থেকে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে এ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। লেডিস ক্লাব থেকে তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর জেয়ারত করে বাসায় ফিরবেন।
রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা
৭৬ পয়েন্টে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা
ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। স্পর্শকাতর ৭৬ পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। এছাড়া ফাঁকা রাজধানীর চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি প্রতিরোধে পাড়া-মহল্লায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল র‌্যাব ও পুলিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন কার্যালয়ের ডিসি মো. মাসুদুর রহমান বলেন, নগরবাসীর নিরাপত্তায় রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আজ থেকেই নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর পয়েন্টে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হচ্ছে। এছাড়া জাতীয় ঈদগাহ ময়দান ও কূটনৈতিক জোনসহ প্রায় ৭৬টি পয়েন্টে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার এম সোহায়েল বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে র‌্যাবের পাঁচ সহস্রাধিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তাদের সংশ্লিষ্ট এলাকায় দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সূত্র মতে, এবারের ঈদে রাজধানীজুড়ে পুলিশ ও র‌্যাবের প্রায় ১৫ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। ঈদের ছুটিতে ফাঁকা রাজধানীতে অপরাধ কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশের ফুট পেট্রোল ও টহল দল বাড়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে র‌্যাবের ডিজি মোখলেসুর রহমান বলেন, ঈদে রাজধানীর অনেক বাড়ি ফাঁকা থাকে। এ সুযোগে দুষ্কৃতকারীরা নির্বিঘ্নে অপরাধ করে পালিয়ে যায়। তাদের প্রতিরোধের জন্য র‌্যাবের গাড়ি টহল এবং মোটরসাইকেল টহলের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া হেঁটে টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে র‌্যাবের ৬ হাজার সদস্য রাজধানীবাসীর নিরাপত্তা দিবে। এদিকে চামড়া ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানজট সৃষ্টির আশঙ্কা করে হাজারীবাগে ট্রাক প্রবেশের ক্ষেত্রে রুট নির্ধারণ করে দিয়েছে মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ।
এছাড়া জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সুষ্ঠুভাবে নামাজ আদায়ের জন্য মুসল্লিদের বহনকারী গাড়ি চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট রুট এবং গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। ঈদের দিন ভোর ৬টা থেকে ১২টা পর্যন্ত নির্ধারিত রুট ব্যবহার করতে চালকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিকটবর্তী নির্ধারিত পার্কিংয়ে শুধুমাত্র ভিভিআইপি- ভিআইপিদের গাড়িসমূহ মৎস্য ভবন হয়ে প্রবেশ করবে। অন্যদের গাড়ি এবং বাণিজ্যিক যানবাহনসমূহ সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের মোড়-প্রেসক্লাব লিংক রোড-পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পিছনের গলি-ইউবিএল ক্রসিং-দোয়েল চত্বর ক্রসিং-মৎস্য ভবন ক্রসিংয়ে স্থাপিত ব্যরিকেডের বাইরে পার্কিং এবং চলাচল করবে। কোরবানির ঈদের চামড়াবাহী যানবাহনের জন্য একমুখী সড়ক নির্ধারণ করে দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ওদিকে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে যেসব চামড়াবাহী যানবাহন আসবে সেগুলোকে গাবতলী থেকে বেড়িবাঁধ হয়ে নবাবগঞ্জের উপর দিয়ে হাজারীবাগে যেতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও সিলেটের চামড়াবাহী যানবাহনকে পলাশী ক্রসিং ও আজিমপুর ক্রসিং হয়ে বিজিবি সিনেমা হলের পাশ দিয়ে পিলখানা হয়ে হাজারীবাগে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে পশু চামড়াবাহী যানবাহনকে ঝিগাতলা ক্রসিং দিয়ে হাজারীবাগে প্রবেশ করতে বলেছে ডিএমপি। পোস্তা এলাকায় প্রবেশের জন্য ঢাকেশ্বরী রোড হয়ে লালবাগ চৌরাস্তা দিয়ে শায়েস্তাখান রোড ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে ট্যানারি শিল্প এলাকা থেকে মালামাল খালাস করে আসা যানবাহনকে কালুনগর রোড অথবা রায়েরবাজার টালি অফিস সংলগ্ন রাস্তা দিয়ে এবং পোস্তা এলাকা থেকে ওয়াটার ওয়াক্স রোড ধরে চকবাজার ক্রসিং ও জেলখানা পাশ দিয়ে নাজিমউদ্দিন রোড ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। ঈদের দিন দুপুর ১২টা থেকে ২৮শে অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই একমুখী সড়ক নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT