টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
টেকনাফ সমিতি ইউএই’র নতুন কমিটি গঠিতঃ ড. সালাম সভাপতি -শাহ জাহান সম্পাদক বৌ পেটানো ঠিক মনে করেন এখানকার ৮৩ শতাংশ নারী ইউপি চেয়ারম্যান হলেন তৃতীয় লিঙ্গের ঋতু টেকনাফে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৭ পরিবারের আর্তনাদ: সওতুলহেরা সোসাইটির ত্রান বিতরণ করোনা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কঠোর বিধি, জনসমাবেশ সীমিত করার সুপারিশ হেফাজত মহাসচিব লাইফ সাপোর্টে জাদিমোরার রফিক ৫ কোটি টাকার আইসসহ গ্রেপ্তার মিয়ানমার থেকে দীর্ঘদিন ধরে গবাদিপশু আমদানি বন্ধ: বিপাকে করিডোর ব্যবসায়ীরা টেকনাফ পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন যাঁরা বাহারছরা ইউপি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন যাঁরা

ইয়াবা পাচার ও বিক্রির কাজ প্রতিবন্ধীদের ব্যবহার

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
  • ২০৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
টেকনাফ নিউজ…

পঙ্গু, প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক কিংবা নিম্ন আয়ের লোকজনদের ইয়াবা পাচার ও বিক্রির কাজে ব্যবহার করছে মায়ানমার সীমান্তকেন্দ্রিক মাদক সিন্ডিকেটগুলো। কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তপথ দিয়ে ইয়াবা প্রবেশের পর সেগুলো চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিতে অন্যতম বাহক হিসেবে কাজ করছেন প্রতিবন্ধীরা।  পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতেই ইয়াবা সিন্ডিকেটগুলো এ কৌশল নিয়েছে।
নগরীর বাকলিয়া থানায় দেড় মাসের ব্যবধানে ইয়াবাসহ দুই প্রতিবন্ধী ধরা পড়েছে।  তাদের কাছ থেকে পুলিশ ইয়াবা পাচার ও বিক্রিতে প্রতিবন্ধীদের ব্যবহারের তথ্য পেয়েছে।

বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বাংলানিউজকে বলেন, ২৭ জুলাই আমরা ইয়াবাসহ আবুল হোসেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছিলাম, তার দুই পা নেই।  সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে আমরা আল আমিন মিয়া (২৯) নামে এক ভিক্ষুককে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছি যার দুই পা-ই প্রায় অবশ।  তাকে ক্র্যাচে ভর করে হাঁটতে হয়।  আল আমিন জানিয়েছে, তার মত আরও অনেক প্রতিবন্ধী ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত আছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াবা বিক্রিতে প্রতিবন্ধীদের ব্যবহারের বিষয়টি নজরে এসেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশেরও।  রেলস্টেশনে, বস্তিতে, মাদক আখড়ায় যেসব প্রতিবন্ধী ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাদের একটি তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (বন্দর) এস এম তানভির আরাফাত বাংলানিউজকে বলেন, অন্ধ, বোবা, শারীরিকভাবে অসুস্থ- এ ধরনের প্রতিবন্ধীদের দিয়ে ইয়াবা বিক্রি করানো হচ্ছে বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে।  বাকলিয়া থানায় আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তারের পরই আমরা এ বিষয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করেছি।  আমরা প্রতিবন্ধী ইয়াবা বিক্রেতাদের তালিকা তৈরীর কাজে হাত দিয়েছি।  মাঠপর্যায়ে অফিসারদের এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (উত্তর) বাবুল আক্তার বাংলানিউজকে বলেন, সাধারণত রেলস্টেশনগুলোতেই প্রতিবন্ধীদের বেশি ইয়াবা বিক্রি করানো হচ্ছে।  প্রতিবন্ধীদের পুলিশ সন্দেহ করেনা।  এ সুযোগটাই ইয়াবা ব্যবসায়ীরা নেয়ার চেষ্টা করছে।  আমাদের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে।  শীঘ্রই অ্যাকশনে নামব।

বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বাংলানিউজকে জানান, সোমবার ভোর রাত সাড়ে তিনটার দিকে শাহ আমানত সেতু এলাকায় শ্যামলী বাসে তল্লাশি চালানোর সময় আল আমিন মিয়াকে পাওয়া যায়।  গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে স্বীকার করে তার কাছে এক হাজার ইয়াবা আছে।  পরে মলদ্বার থেকে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।  দুই পা পঙ্গু ভিক্ষুক আল আমিন জিজ্ঞাসাবাদে দিয়েছে তার এ পেশায় জড়ানোর বিষয়ে চমকপ্রদ তথ্য।
কথা হয় আল আমিন মিয়ার সঙ্গেও।  আল আমিন বাংলানিউজকে জানায়, তার আদি বাড়ি নোয়াখালী উপজেলায়।  থাকে নরসিংদির পলাশ উপজেলায় নানার বাড়িতে।  পিতার নাম মৃত লোকমান মুন্সী।
দুই বছর বয়সে টাইফয়েডে আল আমিনের দুই পা প্রায় ‍অবশ ও শুকিয়ে যায়।  তখন থেকেই তাকে ক্র্যাচে ভর দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে।  পঙ্গু আল আমিন ভাগ্যের অন্বেষণে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গাজীপুরের টঙ্গি রেলস্টেশনে একটি চায়ের দোকান দিয়েছিল।  সেই দোকানে উপার্জন তার ভালই ছিল।  বিয়ে করে আল আমিন।  এক ছেলে ও এক মেয়ে আসে সংসারে।
বছরখানেক আগে ডবল লাইন করার জন্য রেলওয়ে তাদের ভূমি থেকে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে।  এতে আল আমিনের টং দোকানটিও উচ্ছেদ হয়ে যায়।  স্ত্রী, দুই সন্তানসহ চারজনের সংসার চালাতে আল আমিন হাতে তুলে নেয় ভিক্ষার ঝুলি।  প্রথমে টঙ্গী এবং ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশনে ভিক্ষা করত।  কিন্তু সেখানে উপার্জন কম হওয়ায় আড়াই মাস আগে টঙ্গির একটি বস্তিতে স্ত্রী-সন্তানদের রেখে আল আমিন চলে যায় চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে।

‘চট্টগ্রাম স্টেশনে এসে মেইল ট্রেন আর লোকাল ট্রেনে ভিক্ষা করতে থাকি।  স্টেশনের যাত্রীদের কাছেও ভিক্ষা করি।  সুবর্ণ, তুর্ণা নিশিথা ট্রেনগুলোতে উঠতে দিতনা।  আমি প্ল্যাটফর্মে হেঁটে হেঁটে ভিক্ষা করতাম। ’ বলেন আল আমিন।

আল আমিন জানায়, মাসখানেক আগে একদিন আয়াজ নামে এক লোকের সঙ্গে তার পরিচয় হয় রেলস্টেশনে।  আয়াজ বিভিন্ন কথাবার্তার এক পর্যায়ে তাকে স্টেশনের সামনে হোটেলে নিয়ে গিয়ে বিরিয়ানি খাওয়ায়।  এরপর পাঁচশ টাকা পকেটে গুঁজে দিয়ে বলে, তুমি তো প্রতিবন্ধী।  আমরা প্রতিবন্ধী লোকজনকেই তো খুঁজছি।  আমাদের কথামত কাজ করলে তুমি কোটিপতি হয়ে যাইবা।
লোভে পড়ে যায় আল আমিন।  প্রথমে বুঝতে পারেনি কাজটা কি।  গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আয়াজ চট্টগ্রামে এসে আল আমিনকে নিয়ে চলে যায় টেকনাফ।  তার দুই ক্যাচে বিশেষ কৌশলে দুই হাজার করে চার হাজার ইয়াবা বেঁধে দিয়ে পরদিন বৃহস্পতিবার তাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় চট্টগ্রামে।  বৃহস্পতিবার দুপুরে বাসে চট্টগ্রাম পৌঁছে আয়াজ চলে যায় রেলস্টেশনে।  সেখানে এক লোক এসে তার কাছ থেকে ইয়াবাগুলো নিয়ে ট্রেনে করে চলে যায়।  টেকনাফে নেয়ার পর আয়াজ তাকে এক হাজার টাকা দিয়েছে বলে জানায় আল আমিন।
এরপর শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আবারও তাকে টেকনাফ যাবার জন্য খবর পাঠায় আয়াজ।  রাতে টেকনাফ গিয়ে পৌঁছে আল আমিন।  এক হাজার ইয়াবা আল আমিনের মলদ্বারে বেঁধে দিয়ে রোববার বিকেল ৩টার দিকে টেকনাফ বাসস্ট্যান্ড থেকে তাকে একটি সিএনজি অটোরিক্সায় তুলে দেয় আয়াজ।  অটোরিক্সা কিছুদূর যাবার পর এর চালক আল আমিনকে একটি বাসে তুলে দেয়।  বাসটি কক্সবাজার রেলস্টেশনে আসার পর একজন এসে আল আমিনকে চট্টগ্রাম অভিমুখী শ্যামলী পরিবহনের বাসে তুলে দেয়।  ভোর রাত সাড়ে তিনটার দিকে বাসটি শাহ আমানত সেতু এলাকায় বাকলিয়া থানার চেকপোস্টের সামনে আসলে সেটিতে তল্লাশি চালায় এবং আল আমিনকে ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ।  কান্নাজড়িত কন্ঠে আল আমিন বাংলানিউজকে বলেন, আমি টাকার লোভে আয়াজের সঙ্গে গিয়েছিলাম।  আমার মলদ্বারে যখন এক হাজার ইয়াবা বেঁধে দিচ্ছিল আমি সেগুলো নিতে চাইনি।  আমি কাঁদতে কাঁদতে আমাকে ক্ষমা করার জন্য বলেছিলাম।  আয়াজ, বার্মার (মায়ানমার) একজন এবং স্থানীয় একজন মিলে আমাকে অনেকক্ষণ পিটিয়েছে।  আমাকে অস্ত্র দেখিয়ে গুলি করে দেবে বলেছে।  তারপর আমি ইয়াবাগুলো এনেছি।
বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বাংলানিউজকে বলেন, আয়াজ টেকনাফের রাজমহল হোটেলের মালিকের ভাগ্নে।  আল আমিন যে তথ্য দিয়েছে, তাতে আমরা জানতে পেরেছি মায়ানমার এবং টেকনাফের একটি ইয়াবা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের হয়ে সে কাজ করছিল।  এই সিন্ডিকেট ইয়াবা ব্যবসায় প্রতিবন্ধীদের নামিয়েছে।  আমাদের কাছে তথ্য আছে, এ ধরনের বেশ কয়েকটি সীমান্তকেন্দ্রিক ইয়াবা চোরাচালান সিন্ডিকেট পাচার এবং বিক্রির কাজে প্রতিবন্ধীদের ব্যবহার করছে।
এর আগে ২৭ জুলাই আবুল হোসেনের বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের রহুল্ল্যারডেইল এলাকায়।  ১৯৯৪ সালে অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে তার দুই পা কেটে ফেলতে হয়।  এরপর আবুল হোসেন বিভিন্ন ধরনের মাদকের ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে বলে গ্রেপ্তারের পর সে পুলিশকে জানিয়েছিল।
বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বাংলানিউজকে বলেন, দুই পা হারানো আবুল হোসেন বিভিন্ন কৌশলে টেকনাফ থেকে ইয়াবা নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করত।  পঙ্গু হওয়ায় তাকে কেউ সহজেই সন্দেহ করেনা।  আর পঙ্গু বলে সে সহজেই সহানুভূতি আদায় করে নিত।
আবুল হোসেন বর্তমানে কারাগারে আছে।  আর আল আমিন মিয়ার বিরুদ্ধে বাকলিয়া থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT