টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

ইয়াবার ভয়াবহ আগ্রাসন গ্রামে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৬
  • ১১২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

সৈয়দুল কাদের :::
গ্রামে সহজেই মিলছে ইয়াবা। মাদকসেবীরা ছাড়া সামাজিকভাবে এটি অপরিচিত হওয়ায় অনেকেই ইয়াবা ব্যবসায় নেমে পড়েছেন। যার ফলে ইয়াবার আগ্রাসন রোধ কঠিন হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন ১/২টি চালান আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়লেও অসংখ্য চালান পাচার হয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। সমুদ্র পথে ইয়াবা পাচার বেড়ে যাওয়ায় গন্তব্য স্থলে নির্বিঘেœ পৌছে যাচ্ছে ইয়াবা।
ইয়াবার ভয়াবহ আগ্রাসন রোধে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। মাঝে মধ্যে ছোট-বড় কিছু চালান ধরা পড়লেও পাচারকারী সিন্ডিকেটের নেটওয়ার্ক অক্ষতই রয়েছে এমন প্রচার রয়েছে। রঙিন এই নেশার ট্যাবলেটের নীল ছোবলে ধ্বংস হচ্ছে যুবসমাজ। ইয়াবা সেবনের মধ্যদিয়ে মাদকাসক্তের সংখ্যা বাড়ছে, সেই সাথে বাড়ছে অপরাধ প্রবণতাও। গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তেরা ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দেশের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যস্ত হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে ইয়াবা পাচারকারীরা। সাগর পথে মাছ ধরা ট্রলারে সরাসরি মিয়ানমার থেকে বড় বড় ইয়াবার চালান দেশে ঢুকে পড়ছে। চালান আসছে সড়ক পথেও। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া এসব চালান ধরতে পারছে না আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ভয়াল ইয়াবা আগ্রাসনের কাছে প্রশাসন অসহায় হয়ে পড়েছেন। সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি, সাগর পথে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সতর্ক টহল, সড়ক ও পাহাড়ি পথে র‌্যাব-পুলিশের তল্লাশির মধ্যেও আসছে ইয়াবার চালান।
গত এক সপ্তাহে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ ইয়াবা জব্দ করেছে আইন শৃংখলা বাহিনী। গতকাল রাতে বিজিবি জব্দ করেছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবা।
একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে সম্প্রতি ইয়াবা পাচারের গতি আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। সম্প্রতি আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা ভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকার সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে ইয়াবা ব্যবসায়িরা। যে পরিমাণ ইয়াবা ধরা পড়ছে তার অন্তত দশগুণ নিরাপদে পাচার হয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলায় ইয়াবা সেবনকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ইয়াবার চাহিদাও বেড়েছে। এখন শুধুমাত্র শহরে নয় গ্রামেও সহজে মিলছে ইয়াবা। অসংখ্য লোকজন এখন ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত।
চকরিয়ার বদরখালী বাজারের ব্যবসায়ি মোস্তাক আহমদ জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে মাদকসেবীর সংখ্যা বেড়েছে। যার মধ্যে ইয়াবা সেবীর সংখ্যা বেশী। এই এলাকায় সহজেই মাদক ব্যবসায়িরা ইয়াবা আনতে পারায় এটিকে ইয়াবার জংশন হিসাবে ব্যবহার করছে। ৩০/৪০ জন লোক প্রকাশ্যে বাজারে ইয়াবা ব্যবসা করছে। তাদের মাধ্যমে পাশ্ববর্তী কালারমারছড়া, শাপলাপুর, হোয়ানক ও মাতারবাড়িতে যাচ্ছে ইয়াবা। এখানে কোন তল্লাসী না থাকায় সহজেই চলছে ইয়াবা ব্যবসা।
কালারমারছড়ার ৩ নং ওয়ার্ড মেম্বার ইকবাল বাহার চৌধুরী জানিয়েছেন, ইয়াবা সেবনকারী ছাড়া অন্যদের ইয়াবা সম্পর্কে কোন ধারণা না থাকায় সেবনকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরী না হলে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।
চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ফজলুল করিম জানান, এখন যুব সমাজের হাতে হাতে ইয়াবা। ব্যাপক ভাবে বিস্তার ঘটায় তা বন্ধ করা এখন দুরহ হয়ে উঠেছে। তাই যুব সমাজকে বাঁচাতে ইয়াবা প্রতিরোধের বিকল্প নেই।
মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ বাবুল কান্তি বণিক জানান, ইয়াবা রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সচেতন ব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে। মাদক সংক্রান্ত তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কান্তি নাথ এ ব্যাপারে পরে কথা বলবেন বলে জানান।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT