টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
টেকনাফে ৪ প্রতিষ্ঠানকে অর্থদন্ড টেকনাফ হাসপাতালে ‘মাল্টিপারপাস হেলথ ভলান্টিয়ার প্রশিক্ষণ’ বান্দরবানে রোহিঙ্গা ‘ইয়াবা কারবারি বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত রামুতে পাহাড় ধসে ২ জনের মৃত্যু দেশের ১০ অঞ্চলে আজ ঝড়বৃষ্টি হতে পারে মাধ্যমিকে বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না: গ্রেডিং বিহীন সনদ পাবে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে রোহিঙ্গা বিষয়ক বৈঠক বৃহস্পতিবার মেজর সিনহা হত্যা মামলা বাতিল চাওয়া আবেদনের শুনানি ১০ নভেম্বর মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ক্যাশ আউট চার্জ কমানোর উদ্যোগঃ নগদ’এ ক্যাশ আউট হাজারে ৯.৯৯ টাকায় ড্রাইভিং লাইসেন্সের লিখিত পরীক্ষার স্ট্যান্ডার্ড ৮৫টি প্রশ্ন

ইলিশ শিকারের পথে…

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১ অক্টোবর, ২০১২
  • ১২৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

জাবেদ আবেদীন শাহীন…মৎস সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইন অনুযায়ী প্রজনন মৌসুমে ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ করা হলেও সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কতিপয় ট্রলার সাগরে নির্বিচারে ইলিশ শিকার করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েকজন ট্রলার মাঝি এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন,অনেক ট্রলার ডিমওয়ালা ইলিশ ধরার জন্য প্রয়োজনীয় রসদ সামগ্রী নিয়ে রওনা হয়ে গেছে। অনেকে যাওয়ার পথে।কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ী জানান,গতকাল রাতের অন্ধকারে বাকখালী ্একটি ঘাটে ট্রলার থেকে শিকার করা ইলিশ খালাশ করা হয়েছে।বেশী ভাগ ইলিশ ডিমওয়ালা। ফ্যাক্টরীতে নিয়ে গিয়ে ক্লোড ষ্টোরে রাখে।ইলিশের চাহিদা থাকায় কিছু ট্রলার আইন অমান্য করে ইলিশ ধরছে।
মৎস বিশেষজ্ঞদের অভিমত, প্রজননের সময় ইলিশ ডিম ছাড়ার আগে ও পরে মাছ খুবই দুর্বল হয়ে দলবদ্ধ ভাবে থাকে। ডিমওয়ালা মাছ বেশী বিচরণ করতে পারে না। এক্ষেত্রে কিছু অর্থ লোভী ট্রলার মালিকের ইন্ধনে জেলেরা এ সময়টাকে ইলিশ শিকারে মুক্ষম সময় হিসাবে চিহিৃত করে। কিছু জেলে আইনের তোয়াক্কা না করে সাগরে জাল ফেলে ডিমওয়ালা ইলিশ শিকার করে থাকে। ফলে এসব অনিয়মের কারনে মা ইলিশ জালে আটকা পড়ায় ইলিশের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। এ পরিস্থিতির জন্য অন্য মাছের জাতও কমে যাচ্ছে। প্রজনন সময়ে মাছ শিকার না করার ক্ষেত্রে সবার সচেনতা ও আন্তরিকতা প্রয়োজন। আমাদের মাছ আমরাই রক্ষাই করব এই পণ নিয়ে মাত্র কিছু দিনের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। এবারে সাড়ে চার লাখ মেট্রিকটন ইলিশ আহরনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর জুন পর্যন্ত সাড়ে ৩ মেট্রিকটন ইলিশ ধরা হয়েছে। ইলিশের প্রজননের সংখ্যা আগের চেয়ে বাড়ার প্রবণতা শুরু হয়েছে। তা ছাড়া বিদেশে ইলিশ রপ্তানী করে ৬শত কোটিরও বেশী টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছর ভরা প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ সেই সাথে ব্যাপক তদারকি থাকায় ১.৬৫কোটি ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা থেকে রক্ষা পেয়েছে। এ অনাহরিত মা ইলিশ থেকে কোটি কোটি ডিম প্রাকৃতিক ভাবে উৎপাদিত হয়েছে। এসব উৎপাদিত রেণুর ২৭%ভাগ জাটকায় রুপান্তরিত হয়ে থাকে। একটি পরিপূর্ণ ইলিশে পরিণত হতে বছরেরও বেশী সময় দরকার হয়।
কালু মাঝি জানান,ডিমওয়ালা ইলিশ ধরতে সাগরে এখনো কয়েকশত ট্রলার লোক চক্ষুর অন্তরালে শিকারে ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছে বলে।প্রজনন মওসুমে মাইলিশ আহরণ করে আমরা নিজেদের বিপদ নিজেরা ডেকে আনছি।আমাদের মালিকের বারণ থাকায় এই এগার দিন মাছ ধরা বন্ধ রেখেছ।কিন্তু যারা আইন অমান্য করে গেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।টাকার লোভের জন্য এই এগার দিন সাগরে মাছ শিকার করে সেখানে বিক্রি করে দিচ্ছে।এখানে ইলিশ আতংক বিরাজ করছে।শুনেছি কাল রাতে দুইটি ইলিশ ট্রলার গভীর রাতে অন্য ঘাটে ভিটে মাছ খালাশ করেছে।এ ব্যাপারে প্রশাসনের খোজঁ খবর নেওয়া বলে মনে করছি।
মৎস কর্মকর্তা ফেরদৌস আহমদ জানান,এবারে মা ইলিশ এর সংরক্ষনের ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলে পল্লীতে ১১দিন মৎস শিকার বন্ধের কড়া ভাবে নির্দেশ জানানো হয়েছে।ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ইলিশ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।সেই সাথে কের্ষ্টগার্ডকে টহল
বাড়ানো কথা বলা হয়েছে।যারা আইন অমান্য করে সাগরে গেছে তাদের ব্যাপারে খোজখবর নেওয়া হচ্ছে।ঘাটে রাতের অন্ধকারে ট্রলার থেকে ইলিশ খালাশ করে ফ্যাক্টরিতে স্টক করার কথা জানতে চাইলে এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।
বোট মালিক সমিতি সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন,ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ।এর সংরক্ষণ করা আমাদের কর্তব্য হয়ে পড়েছে।প্রজনন মৌসুম ১১দিন না করে ২১দিন করলে উভয়ে লাভবান হতো।আইনের প্রতি সবার শ্রদ্ধাসীল হয়ে প্রজনন সময়টা মা ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকা বলে মনে করছি।আগে যারা সাগরে গেছে তাদের দ্রুত ফেরত আসতে বলা হয়েছে।
জানা যায়,প্রজননের স্বার্থে ১১দিন ব্যাপী সাগরে ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ হলেও ঠিকই কিছু লোভী জেলে এখনও ইলিশ শিকার করছে বলে সাগর থেকে ফেরত আসা ট্রলারের শ্রমিক শামসু, কায়সার ,মোসলেম জানান। এখনো শতাধিকের বেশী ট্রলার মাছ শিকার করে সাগরেই বিক্রি করে দিচ্ছে। অনেক ট্রলার নির্দিষ্ট এই এগার দিনও বেশী রসদ সামগ্রী নিয়ে ডিমওয়ালা ইলিশ ধরার জন্য রওনা হয়েছে। কোন বারণই মানছে না ট্রলার মালিকরা। প্রত্যক্ষদর্শীর সূত্র মতে,গত দুই দিনে বাকঁখালী নদী সংলগ্ন কয়েকটি অবৈধ ঘাট থেকে রাতের অন্ধকারে ইলিশ খালাশ হয়েছে। আগে থেকে ঠিক করে রাখা ক্লোড ষ্টোরে ,ফ্যাক্টরীতে স্টক করে রেখে দেয়। চাহিদা মাফিক মজুত করে রাখা ইলিশ গোপনে দালাল কতৃক চড়া দামে বিক্রি করছে হোটেল ওয়ালাদের।্ এদিকে ইলিশ সংরক্ষনে সরকারী ঘোষণা দেওয়ার পরও সাগরে চলছে নির্বিচারে ডিমওয়ালা ইলিশ শিকার। আশ্বানী পূর্ণিমার দিন আগে ও পরে ডিমওয়ালা ইলিশ কিছু সময় প্রজননে ব্যস্ত থাকে। জাতীয় ইলিশের সংরক্ষণ পদ্ধতি রক্ষা। সেই সাথে আরো ব্যাপক উৎপাদন বাড়ান্রে পাশাপাশি রপ্তানীর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথ হিসাবে সরকারের এই উদ্যোগ। অন্তত এই সময়টাতে ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকলে সাগরে ইলিশের সংখ্যা বাড়বে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT