টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

আ`লীগের সঙ্গে নেই এরশাদ!

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১ জুলাই, ২০১৩
  • ১৪৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ডেস্ক নিউজ :মহাজোটে থেকেও দীর্ঘদিন ধরে দিন ধরে জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ একটা ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছিলেন। আর তা হলো জাপা এককভাবে লড়বে আগামী সব নির্বাচনে। শনিবার বিকেলেও সে কথারই পুনরাবৃত্তি করলেন এরশাদ।

রাজধানীর বনানী মাঠে বৃহত্তর ঢাকা জেলা জাতীয় পার্টির কর্মী সমাবেশে দেওয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

কার্যত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীকে জাপার সমর্থন দেওয়া নিয়ে বৈঠকের দু’দিনের মাথায় এরশাদ এমন ঘোষণা দিলেন।

এরশাদ বলেন, “আমি একজন বিচারপতি চেয়েছিলাম, দেন নি। প্রতি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছেন- জাতীয় পার্টির কথা মনে রাখেন নি। তখন জাতীয় পার্টি ছিল না। এখন আপনারা গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সমর্থন চান। এখন জাতীয় পার্টির কথা মনে পড়েছে।”

“আমাদেক ৪৬টি আসন দিয়েছিলেন। সেখানে ১৩টি আসন কেড়ে নিয়েছেন।এমনকি আমার ছেড়ে দেওয়া ২টি আসনে উপ-নির্বাচনের সময়ে একটিতে প্রার্থী দিয়ে কেড়ে নিয়েছেন। এসব তার মনে আছে”- বলেও মন্তব্য করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এরশাদ বলেন, “আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ৭ হাজার মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আর আমার একটি মামলাও প্রত্যাহার করেনি। আমাকে এখন মিথ্যা মামলায় কোর্টের বারান্দায় ঘুরতে হয়।”

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা আপনাদের সঙ্গে নেই। আমরা এককভাবে নির্বাচন করবো। আমরা মহাজোটে থাকতে চাই না।আমাদের শতভাগ নেতাকর্মী মহাজোট চায় না।”

তিনি বলেন, “ক্ষমতা ছাড়তে আপনারা ভয় পান কেন? আপনাদের বাড়িতে আগুন জ্বলবে। গুলি খেতে হবে, মরতে হবে। এ কালচার আপনারাই তৈরি করেছেন।”

এরশাদ বলেন, “নির্বাচন দিতে ভয় পান। সেদিন শেষ। নির্বাচন দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন- তত্ত্বাবধায়ক এলে দু’জনকেই জেলে যেতে হবে। আমাকে যখন জেলে নেওয়া হয় তখন তো কেউ প্রতিবাদ করেন নি। আমার স্ত্রীকেও জেলে নেওয়া হয়েছে। এই সংস্কৃতি আপনারাই সৃষ্টি করেছেন।”

তিনি বলেন, “এখন জাতীয় পার্টির দাম বেড়েছে। প্রতিহিংসার রাজনীতি জাপা না আসা পর্যন্ত চলবে। আমরা এখন ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে। কারো ক্ষমতায় যাওয়া সিঁড়ি হবে না জাতীয় পার্টি।”

নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে এরশাদ বলেন, “একটি ভুল সিদ্ধান্ত দলকে ধ্বংস করে দিতে পারে। ’৯০ সালে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আমরা জননন্দিত হয়েছি। আমার উপর আস্থা রাখবেন। আমি জানি কখন কি করতে হবে। যথা সময়েই ছেড়ে আসব।”

নুর হোসেন ও ডা. মিলনের নাম উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, “আমার সময়ে মোট ৯ জনকে হত্যা করা হয়েছিল। আর এখন প্রতিদিনই ৯ জন হত্যার শিকার হচ্ছে।একে কি গণতন্ত্র বলব!”

তিনি বলেন, “শেয়ারবাজার কেলেংকারীর হোতা প্রধানমন্ত্রীর আশেপাশে ঘুর ঘুর করে। তাকে শাস্তি দিলে মানুষ খুশি হতো।তা না করায় প্রায় ১ কোটি ভোটার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন ৪ হাজার কোটি টাকা কিছুই না। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি উন্নতি হয়নি এরও জবাব দিতে হবে।”

প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম ফয়সাল চিশতির সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার।

আরো বক্তৃতা করেন- প্র্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম রওশন এরশাদ এমপি, কাজী জাফর আহমেদ, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, গোলাম মোহাম্মদ কাদের, মজিবুল হক চন্নু এমপি, কাজী ফিরোজ রশীদ, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাড রেজাউল করিম ভূঁইয়া প্রমুখ।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT