টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর উদ্বোধন উপলক্ষে টেকনাফে ইউএনও’র প্রেস ব্রিফ্রিং টেকনাফের ফাহাদ অস্ট্রেলিয়ায় গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী সম্পন্ন করেছে নিখোঁজের ৮ দিন পর বাসায় ফিরলেন ত্ব-হা মিয়ানমারে পিডিএফ-সেনাবাহিনী ব্যাপক সংঘর্ষ ২শ’ বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস বিল গেটসের মেয়ের জামাই কে এই মুসলিম তরুণ নাসের রোহিঙ্গাদের এনআইডি কেলেঙ্কারি : নির্বাচন কমিশনের পরিচালকের বিরুদ্ধে দুপুরে মামলা, বিকালে দুদক কর্মকর্তা বদলি সড়কের কাজ শেষ হতে না হতেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং! আপনি বুদ্ধিমান কি না জেনে নিন ৫ লক্ষণে ৫৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশি ভোটার: নিবন্ধিত রোহিঙ্গাও ভোটার! ইসি পরিচালকসহ ১১ জন আসামি হ’ত্যার পর মায়ের মাংস খায় ছেলে

আরবী মাসের তাৎপর্য ও হিজরী সূচনা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৫
  • ১৭৬৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

মোহাম্মদ মাসউদুর রাহমান = আল্লাহ তা‘লার বিধান অনুসারে তাঁর বান্দাদেরকে লীলাভুমিতে অসংখ্য নিয়ামতের মধ্যে নিমজ্জিত রেখেছেন যাতে তারা অনায়াসে পৃথিবীতে বিচরণ করতে পারে এবং স্মরণ করে রাখে তার প্রভূকে কেননা তার নিয়ামতের হিসাবের অতিষ্ট হবে মাখলুকে- কায়েনাত, তুব অশেষ তাঁর দেয়া ভান্ডার তার মধ্যে একটি হল সময় তথা দিন- রাত সপ্তাহ, মাস, বছর যার গণনা ও হিসাবের ভিত্তিতে আল্লাহ তা‘লা বলেন নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গণনায় মাস বারটি, আসমান সমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না। আর মুশরিকদের সাথে তোমরা যুদ্ধ কর। সমবেত ভাবে যেমন তারাও তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে সমবেত ভাবে। আর মনে রেখো, আল্লাহ মুক্তাকীনদের সাথে রয়েছেন। (৩৬) তাওবা

উপরোক্ত আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মাসের যে ধারাবাহিকতা এবং মাসগুলোর যে নাম ইসলামী শরীয়তে প্রচলিত তা মানবরচিত পরিভাষা নয় বরং রাব্বুল আলামীন যে দিন আসমান ও জমীন মাসের সাথে সংশ্লিষ্ট হুকুম আহ্কাম নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। আয়াত দ্বারা আরও প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর দৃষ্টিতে শরীয়তের আহ্কামের ক্ষেত্রে চন্দ্রমাত্রই নির্ভরযোগ্য। চন্দ্রমাসের হিসাবমতেই রোজা, হজ্ব ও যাকাত প্রভৃতি আদায় করতে হয়। তবে কোরাআন মজিদে চন্দ্রকে যেমন, তেমনি সূর্যবোত্ত সন- তারিখ ঠিক করা মান দন্ডরুপে অভিহিত করেছেন।
অতএব, চন্দ্র ও সূর্য উভয়টির মাধ্যমে সন, তারিখ ঠিক করায় মানদন্ডরুপে অভিহিত করেছেন।
তাই চন্দ্র ও সূর্য উভয়টির মাধ্যমে সন তারিখ নির্দিষ্ট করা জায়েজ। তবে চন্দ্রের হিসাব আল্লাহর অধিকতর পছন্দ। তাই শরীয়তের আহকামকে চন্দ্রের সাথে সংশ্লিষ্ট রেখেছেন। এজন্য চন্দ্র বছরের হিসাব সংরক্ষণ করা ফরজে কেফায়া সকল উম্মত এই হিসাব ভুলে গেলে সবাই গুনাগার হবে। চাদেঁর হিসাব ঠিক রেখে অন্যান্য সূত্রের হিসাব ব্যবহার করা জায়েজ আছে। তবে আল্লাহ তার রাসুলের ও পরবর্তীগণের তরীকার বর খেলাপে সুতরাং অনাবশ্যক ভাবে অন্য হিসাব নিয়ে মাথা ঘামানো উচিত নয়। সূত্রেঃ- তফসিরে মা‘রিফুল কোরআন। তাওবা (৩৬)

তাই সে আল্লাহ প্রদত্ত মাস সমূহের তাৎপর্য ও রয়েছে।

আরবী মাসের নামকরণঃ- মুর্হরমুল হারামঃ জাহেলীয়াতের যুগে এই মাসে কোন প্রকারের যুদ্ধ বিগ্রহও রক্তপাত করা হারাম ও অবৈধ ছিল বলে এই মাসকে মুর্হরমুল হারাম নামকরণ করা হয়েছে।

সফরঃ- সফর শব্দটি সিফর হতে নির্গত এর অর্থ শূন্য হওয়া, জাহেলিয়াতের যুগে সফর মাসে লোকেরা যুদ্ধের জন্য বের হয়ে গেলে ঘর শূন্য হয়ে যেত সফর মাসের নাম সফর রাখা হয়েছে।

রবিউল আওয়ালঃ- এই মাসের নামকরণ কালে হিসাব মোতাবেক তখন ফসলে রবি অর্থাৎ বসন্তকালের শুরু হয় তাই তার নামকরণ হয়েছে রবিউল আওয়াল।

রবিউল আখেরঃ- তার নামকরণ কালে বসন্তের শেষার্ধে পড়ারকারণে রবিউল আখের নাম রাখা হয় শেষ বসন্ত হওয়ার কারণে।

জুমাদালউলাঃ- জুমাদা শব্দটি এসেছে জুমূদ হতে যার অর্থ জমে যাওয়া স্থবির হওরা যখন এই মাসের নাম রাখা হয় তখন সর্দির মৌসুম আরম্ভ হয়, কেননা সর্দির অর্থাৎ ঠান্ডার কারণে প্রায় জিনিস জমে যায়। এইজন্য এই মাসের নাম এই নামে হলো।

জুমাদাল উখরাঃ- এই মাসের নাম রাখার কারন হচ্ছে এই মাসের শেষে শীতের প্রচন্ডতায় পানি পর্যন্ত জমে যেত।

রজবঃ- রজব শব্দটি রজীব হতে উদ্ভূত হয়েছে এর অর্থ হলো সম্মান করা আরব বাসীরা যেহেতু এমাসকে সম্মান করতো এবং শাহরুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহর মাস বলতো তাই এমাসের নাম এনামে হয়।

শা’বানঃ- শা’বান শাব শব্দ হতে উদ্ভূত হয়েছে এর অর্থ হলো বের হওয়া। প্রকাশ হওয়া বিদীর্ণ হওয়া যেহেতু এমাসে বিপুল কল্যান প্রকাশিত হয় । মানুষের বিযিক হওয়া বন্ঠিত হয় এবং তাকদীর ফয়সালা সমূহ বন্টন করে দেওয়া হয়। তাই এ মাসের নাম শাবান রাখা হয়েছে।

রমযানঃ- রমযান শব্দের মূল অর্থ হচ্ছে জ্বলানো পোড়নো যেহেতু এই মাসে মোমিনের গুনাহে সমূহ জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দোয়া হয় তাই এ মাসের রমযান রাখা হয়।

শাওয়ালঃ- শাওয়াল শব্দটি শাওল ধাতু হতে নির্গত অর্থ বাইরে গমন করা। এখানে আরব বাসীরা নিজ ঘরবাড়ী ত্যাগ করে ভ্রমণে যেত। তাই এর নামকরণ করা হয় শাওয়াল।

জিক্কাদাহঃ- জি অর্থ ওয়ালা আর ’কাদাহ’ অর্থ বসা যেহেতু এ মাসটি সম্মানিত মাসের একটি, আরবগণ এখানে যুদ্ধ বিগ্রহ বন্ধ করে বাড়ীতে বসে থাকত।

যিলহিজ্জাহঃ- জুমাদা সম্ভবত এই শব্দটি হাজ্জাহ হতে নেওয়া হয়েছে। অর্থ একবার হজ্ব করা অথবা শব্দটি হিজ্ব হতে নেওয়া হয়েছে। অর্থ- বৎসর। যেহেতু এই মাস বৎসরের শেষাংশে আসে এবং এর দ্বারাই পূর্ণ বৎসরের সমপ্তি ঘটে তাই এই মাসের নামকরণ করা হল যিলহিজ্জাহ।

সূত্রঃ- তফসিরে ইবনে কাছির তওবা (৩৬)

উল্লেখিত মাসের রাব্বুল আলামীনের প্রদত্ত সে মাসের গণনার সুবিধার্থে সূচনা করা হয় হিজরী।

হিজরী সন যেভাবে চালু হয়েছিলঃ- ইসলামী সন হিজরি সন। হিজরি সনের শুরু রসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের মক্কা থেকে মদিনা হিজরতের সময় থেকে। হিজরি সন কবে চালু হয় তা নিয়ে অবশ্য মতভিন্নতা আছে। একটি মত হলো রসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা থেকে মদিনা মুনাওয়ারায় আগমন করেন রবিউল আউয়াল মাসে। ওই সময় থেকে তারিখ গণনা শুরু হয়। রসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামই তারিখ গণনার নির্দেশ দেন। ইমাম জুহরির এমন একটি বর্ণনা মুহাদ্দিস হাকিম তার ইকলিল নামের কিতাবে উল্লেখ করেছেন।

এ সম্পর্কে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ভাষ্য হলো দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.) এর খেলাফত আমলে হিজরি সনের তারিখ গণনা শুরু হয়। একদা হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) খলিফা হজরত উমর (রা.) কে পত্র লিখে বলেন, আপনার নির্দেশগুলো আমাদেও কাছে এসে পৌছালেও এতে তারিখ উল্লেখ নেই। হজরত উমর (রা.) ১৭ হিজরিতে তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে পরামর্শ করার জন্য বিশিষ্ট সাহাবায়ে কিরামদেও সহযোগিতা চান। এ সম্পর্কে আয়োজিত সভায় সাহাবায়ে কিরামদেরও কেউ কেউ নবুওয়াতদের সূচনা থেকে তারিখ গণনার প্রস্তাব দেন। এ সর্ম্পকে কেউ কেউ পরামর্শ দেন হিজরত থেকে আবার কেউ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের দিন থেকে তারিখ গণনার। সাহাবায়ে কিরামদেরও এসব প্রস্তাব শোনার পর হজরত উমর (রা.) হিজরতের দিন থেকে ইসলামী তারিখ গণনার পক্ষে বলেন। তিনি যুক্তি দেখান হিজরতের মাধ্যমে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য সূচিত হয়। সাহাবা কিরামরা এ প্রস্তাবকে সাদরে গ্রহণ করেন। হিজরতের সময়কে ইসলামী সন গণনার সূচনাকাল ধরা হলেও মহররম মাসকে প্রথম মাস হিসেবে ধরা হয়। কারণ রসূল সাল্লাল্লাহ আল্লাইহি ওয়াসাল্লাম রবিউল আউয়াল হিজরত করলেও মক্কা থেকে মদিনা মুনাওয়ারায় যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন মহররম মাসে। মহররম মাসকে ইসলামী সন বা হিজরি সনের প্রথম মাস নির্ধারনের পেছনে পবিত্র কোরআনের একটি নির্দেশনা গুরুত্ব পেয়েছে। পবিত্র কোরআনে চারটি মাসকে সম্মানিত বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এ চারটি মাস হলো জিলকদ, জিলহজ, মহররম ও রজব। মহররম মাসে রসূও সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরতের ইচ্ছা ঘোষণা করায় এবং এ চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম হওয়ায় তা সর্বম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

শিক্ষকঃ- দারুল আফকার আল্- ইসলামীয়া চট্টগ্রাম।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT